গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?

গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?

জীবনে একবারও বমি করেনি বা বমিভাব হয়নি এমন মানুষ খুজে পাওয়া মুসকিল। বমি সবসময় খারাপ অনুভূতি যোগায়। বাসে বা কোন যানবাহনে উঠলে এই বেরসিক বমি যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে তার কাজ দেখানোর জন্য। আসুন জানাযাক গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য।

আপনি আরও পড়তে পারেন…. ১ মিনিটে হেঁচকি বন্ধ করুন! হেঁচকি বা হিক্কা কেন উঠে এটা থামাবেন কীভাবে?

গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?

বমি কি?

অনিচ্ছাকৃত ভাবে পেট থেকে তরল বা কঠিন পদার্থ বের হয়ে মুখ বা নাক দিয়ে সজোরে নিক্ষেপ হওয়াকে বমি বলে।ইচ্ছাকৃত ভাবে মুখ থেকে খাদ্য উগরে দেওয়া বমি নয়।

বমি কেন হয়?

আমাদের পরিপাকতন্ত্র (নাড়ি-ভুরি) সব সময় উপর থেকে নিচের দিকে (মুখ>পায়ু) কম্পিত হয় ফলে খাদ্য আমাদের অনিচ্ছাবশত হজম হয়ে মল হিসেবে বের হয়ে যায়।এই প্রক্রিয়া পেরিস্টালসিস নামে পরিচিত।
মস্তিষ্কের ভেগাস স্নায়ু এটা নিয়ন্ত্রণ করে।কোন কারনে পেটে বিষাক্ত পদার্থ ঢুকে গেলে দেহ বিষমুক্ত করার জন্য পরিপাকতন্ত্র উল্টা দিকে সজোরে কম্পিত হয় ফলে পেট থেকে খাবার সজোরে মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে,এটাই বমি।
গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?

গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?

গাড়িতে ভ্রমনের সময় 33% মানুষের বমি হয়।গাড়িতে চলার সময় অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস বা ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে আপনি চলছেন, কিন্তু চোখ গাড়ির ভেতরের স্থির দৃশ্য দেখে সংকেত পাঠায় আপনি স্থির আছেন। মস্তিষ্ক এই বিপরিত সংকেতের মধ্যে সমন্বয় করতে পারে না।
সমন্বয়হীনতা বুঝতে না পেরে মস্তিষ্ক ভাবে আপনার পেটে বিষাক্ত কিছু ঢুকে গেছে একারনে এমন হচ্ছে, তাই পেটকে বিষমুক্ত করার জন্য মস্তিষ্ক বমিভাব সৃষ্টি করে ফলে বমি হয়।এ অবস্থা কে মোশন সিকনেস বলে।যানবাহনভেদে একে কার সিকনেস, সি সিকনেস ও বলে।মোশন সিকনেসের কারনেই আসলে গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয়।

মোশন সিকনেস
মোশন সিকনেস

গাড়িতে চড়লে মাথা ঘোরে কেন?

যে স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণ ঘটিত গণ্ডগোলের  কারণে বমি হয় সেই একই কারণে গাড়িতে চড়লে মাথা ঘুরে। অর্থাৎ মোশন সিকনেসের কারনেই আসলে গাড়িতে উঠলে মাথা ঘুরে।

বাস ভ্রমনে বমি কমানোর উপায়

বাস বা গাড়িতে ভ্রমন করার সময় বমি হয় যাদের তারা এই কাজ গুলো কররে বমি ঠেকানো সম্ভব।

বাস ভ্রমনে বমিভাব দূর করা উপায়

বাস ভ্রমনে বমিভাব দূর করা উপায়
দয়া করে এই কাজগুলি করুন

Total Time: 5 minutes

খালি পেটে ভ্রমণ না করা

ভ্রমণে-বমি-কমাবেন-কিভাবে

অধিকাংশ মানুষই মনে করেন পেটে খাবার না থাকলে বমি হবে না, কিন্তু এটা একদম ফালতু চিন্তা। দুর্বল শরীরে মস্তিষ্কের শক্তি কম থাকে তাই এমনিতেই মাথা ঘোরায় এবং বমি হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।সহজে হজম হয় এমন খাবার অল্প করে খান।
তবে একেবারে ভরাপেটেও গাড়িতে উঠবেন না।বাস ভ্রমনে বমি ঠেকানোর উপায় হিসেবে এটি বেশ কার্যকর পদ্ধতি।

কব্জির প্রেশার পয়েন্টে চাপ দিন

কব্জির-প্রেশার-পয়েন্ট

এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কব্জির ভাঁজ থেকে দুই ইঞ্চি ওপরে দুই টেন্ডনের মাঝে কব্জির প্রেশার পয়েন্টে চাপ দিন।গাড়িতে ভ্রমন করার সময় বমি ভাব দূর করতে এটি সাহায্য করবে। এটি বাস ভ্রমনে বমি ঠেকানোর উপায়।

গাড়ির পেছনের ছিটে বসবেন না

গাড়ির পেছনের ছিটে বসবেন না

গাড়ির পেছনের ছিটে বসলে অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে মোশন সিকনেস বেশি হয় তাই এমনিতে বমি আসে। সম্ভব হলে গাড়ির সামনের সিটে বসুন এবং গাড়ির সামনের কাঁচের মধ্যদিয়ে সোজা সামনের দৃশ্য দেখতে থাকুন।

চোখ বন্ধ করে মাথা নিচু করবেন না

চোখ-বন্ধ-করে-মাথা-নিচু-করলে-বমি-বেশি-হয়

গাড়িতে উঠার পর বমি হওয়ার ভয়ে চোখ বন্ধ করে মাথা নিচু করে থাকলে মোশন সিকনেস বাড়ে এতে বমি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। মোশন সিকনেস মোকাবেলা করার সহজ উপায় হলো গাড়িতে বসে প্রথম থেকেই জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকা।
এর ফলে আপনার মাথা সবমসময় একই সংকেত পাবে এবং বমির উদ্রেক হবে না।

সাথে শুকনো আদা রাখুন

আদার একটি উপাদান হলো জিনজেরল এটি এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই উপাদান মোশন সিকনেস কমাতে বেশ কার্যকর। মুখে কিছু শুকনো আদার টুকরো রাখুন এবং শুকনো আদা কাপড়ে বেধে শুঁকতে থাকুন এতে বমির উদ্রেক হবে না।
ভ্রমনের সময় বমি ঠেকানোর সহজ উপায় হিসেবে এটি প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে।

বমির আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

বমি বন্ধ করতে আয়ুর্বেদিক ঔষধের ব্যবহার শতাব্দি প্রাচীন। প্রাচীন আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে বমি বন্ধ করার বিভিন্ন ভেষজের ব্যবহার সম্পর্কে বলা আছে।

বমি বন্ধ করার ভেষজ ঔষধ

  • ১০ মিলি আদার রসের সাথে সম পরিমাণ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে খেলে বমিবমি ভাব
  • বা বমি বন্ধ হয়।
  • কমলার খোসা শুকিয়ে পিষে নিয়ে তা মধুর সাথে চেটে খেলে দ্রুত বমি বন্ধ হয়।
  • ৬ গ্রাম পুদিনা, ২ গ্রাম সৌন্ধব লবণ ঠান্ডা পানিতে গুলে পান করলে দ্রুত বমি বন্ধ হয়।
  • লেবু মাঝামাঝি কেটে তার মধ্যে গোল মরিচের গুঁড়া এবং সৌন্ধব লবণের গুঁড়া ছিটিয়ে চুষে খেলে বমি বন্ধ হয়।
  • মধুর সাথে তুলসীর রস মিশিয়ে এক চামচ খেলেও বমি কমে যায়।
  • একটা লেবুর রস আর এক চামচ চিনি দু’চামচ পানিতে মিশিয়ে রোগিকে এক ঘন্টা অন্তর অন্তর সেবন করালে বমি বন্ধ হয়।
বাস ভ্রমনে বমিভাব দূর করা উপায়
বাস ভ্রমনে বমিভাব দূর করা উপায়

যাত্রাপথে বমির অ্যালোপ্যাথিক ঔষধ

যদি আপনি ভেষজ ওষুধের মাধ্যমে ভ্রমণে বমি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তবে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন

বমির ট্যাবলেট এর নাম কী?

ডমপেরিডন জাতীয় ঔষধ সেবন করলে বমি আটকানো যায়।যাদের গাড়িতে ভ্রমনের সময় বমি হয়, তারা এই ঔষধ একটা খেয়ে গাড়িতে উঠলে বমির সম্ভাবনা কম থাকে।
এছাড়াও আরো কিছু ঔষধ বমি ঠেকাতে সাহায্য করে যেমন-scopolamine, dimenhydrinate, meclizine, promethazine,diphenhydramine, cyclizine

বমির-ট্যাবলেট-নাম,বমি বন্ধ করার ঔষধ এর নাম বাংলাদেশ,বমি বন্ধ করার ঔষধ এর নাম,যাত্রাপথে বমির ঔষধ
বমির-ট্যাবলেট-নাম

যাত্রাপথে বমি বন্ধের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কী?

Cocolus Ind: গাড়ি নৌকা বা কোন যানবাহনে চড়লে বা চলমান যানবাহনের দিকে তাকালে বমির ভাব কিংবা বমি।

যাত্রাপথে বমি বন্ধের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ কী?

Cocolus Ind: গাড়ি নৌকা বা কোন যানবাহনে চড়লে বা চলমান যানবাহনের দিকে তাকালে বমির ভাব কিংবা বমি।

বমি কতটা ক্ষতিকর?

বমি করলে দেহ থেকে প্রচুর লবণ ও পানি বের হয়ে যায় ফলে দেহ মারাত্মক লবণ ও পানি শূন্যতায় ভোগে। বারবার বমি করার ফলে পানিশূন্যতায় মৃত্যু হতে পারে। বমির কারণে পাকস্থালীর এসিড ঘাটতি হয় যা হজমে গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
পাকস্থলীর এসিড বমির মাধ্যমে মুখে পৌছায় ফলে দাঁতের এনামেলের ক্ষতি হতে পারে। তবে সব বমি ক্ষতিকর নয়। অনেক সময় ক্ষতিকারক পদার্থ দেহ থেকে বমির মাধ্যমে বের হয়ে যায় ফলে দেহ বিষমুক্ত হয়।
এটা ভীতিজনক নয়।তবে মাথায় আঘাত লাগার পর বমি করা মারাত্মক বিপদ সংকেত।

মোশন সিকনেস কি?

যানবাহনে চলন্ত অবস্থায় মস্তিষ্ক চোখের দৃশ্যের সাথে অন্তঃকর্ণের ভারসাম্য রক্ষার সংকেতের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে বমি হয় এই ঘটনাকে মোশন সিকনেস বলে।

কার সিকনেস কি?

কারে ভ্রমণ করার সময় যে মোশন সিকনেস হয় তাকে কার সিকনেস বলে।

সি সিকনেস কি?

সি সিকনেস

জাহাজ বা নৌকায় ভ্রমণ করার সময় পানির ঠেউয়ের কারণে জাহাজ দুলতে থাকে এই দুলুনি মস্তিষ্কের স্থিতি ও জড়তার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে ফলে ভেগাস স্নায়ুতে ভুল সংকেত প্রেরিত হয় একারণে বমি হয় এই অবস্থাকে সি সিকনেস বলে। এটাও এক ধরণের মোশন সিকনেস।

why we vomit while travelling in bus in bangla

how i can prevent from vomiting during journey in bangla.travel vomiting medicine name bangla, what is motion sickness bangla. home remedies to avoid vomiting while travelling in bangla, jurni korar somoy bomi hoy keno? bomi bondho korar medicine.

tag: vromonoer somoy bomi hoy keno, garite vromoner somoy bomi hoy keno? garite chorle matha ghure keno?গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?গাড়িতে ভ্রমণের সময় বমি হয় কেন?

Please Click on Just one Add to help us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।