🧬 জীববিজ্ঞান🐾 প্রাণিবিজ্ঞান🌿 উদ্ভিদবিজ্ঞান💡 প্রযুক্তি🩺 স্বাস্থ্যকথা🥗 পুষ্টিকথা✨ লাইফস্টাইল

কিডনি রোগ এর কারণ ও প্রতিরোধ! কিডনি সুস্ব্য রাখার উপায়!

কিডনি রোগ এর কারণ ও প্রতিরোধ! কিডনি সুস্ব্য রাখার উপায়!

পৃথিবীর অন্যতম ঘন জনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ । ছোট্ট এই দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি। উন্নয়নশীল এই দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী হাজারো সমস্যার সম্মুখীন—যার মধ্যে স্বাস্থ্য সমস্যা অন্যতম । এসব স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের অসুস্থতা একটি বেশ গুরুতর সমস্যা।

কিডনি রোগ এর কারণ ও প্রতিরোধ! কিডনি সুস্ব্য রাখার উপায়!

আপনি আরও পড়তে পারেন … মেডুলারি স্পঞ্জ কিডনি লক্ষণ,চিকিৎসা ও প্রতিরোধ! …… শিশুর ফুসফুসের রোগ ও তার প্রতিকার!

কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতন হবেন কেন?

কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের অন্যতম কাজ হচ্ছে আমাদের শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা করা, শরীরে সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ নিঃসরণে ভূমিকা রাখা আর সামান্য মাত্রায় হলেও সুস্থ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কিছু হরমোন তৈরি করা। অন্যদিকে, কিডনি ও মূত্রতন্ত্র যদি যথাযথভাবে কাজ করতে না পারে তবে কেবলমাত্র স্বভাবিক জীবনযাপনই বাধাগ্রস্ত হবে না, জীবন ধারণই অসম্ভব হয়ে উঠবে।

কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের বিভিন্ন অসুস্থতা ক্রমান্বরে কিডনী বিকলতায় রূপ নেয়, ফলে অকালে নিতে যায় লক্ষ লক্ষ সম্ভাবনাময় মানুষের জীবন প্রদীপ।কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের যেসব অসুস্থতা সাধারণত হয়ে থাকে তার বেশিরভাগেরই কারণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। এসব কারণ এড়িয়ে চললে কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের অসুস্থতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কিডনি রোগের জটিলতা

একটি কথা বিশেষভাবে সত্যি যে, কোনো ব্যক্তি যদি কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসক উপসর্গ লক্ষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তবে এ রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাময় ক’রে বা চিকিৎসা নিয়ে প্রায় স্বাভাবিক মানুষের মতো জীবন যাপন সম্ভব। অন্যদিকে, যদি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ বিবেচনায় নিয়ে রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সময়ের ব্যবধানে রোগ জটিল থেকে জটিলতর হয়, এমনকি কিডনী বিকল হয়ে পড়ে।

এ পর্যায়ে রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, আর চিকিৎসা-সুবিধা দেশে অপ্রতুলও বটে। এখন পর্যন্ত এসব চিকিৎসা (ডায়ালাইসিস বা কিডনী প্রতিস্থাপন) রাজধানী ঢাকাসহ দু’চারটে বিভাগীয় শহরে করা সম্ভব। কিন্তু এ-চিকিৎসা এতই ব্যয়বহুল যে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে এ-চিকিৎসার ব্যয় সংকুলান প্রায় অসম্ভব।

কিডনি রোগ নির্নয়ের প্রয়োজনীয়তা

যেহেতু এ রোগের কারণগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জানা, তাই প্রতিরোধ পদ্ধতিও আমাদের আয়ত্তের ভেতরে এবং তা পালন করা সহজ ও সামান্য খরচেই সেটা সম্ভব।

কারো রোগ হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এসব রোগের নিরাময় রোগের পরিণতিকে ধীরগতিসম্পন্ন করা এবং কিডনী-বিকলতার মতো চূড়ান্ত অসুস্থতা সৃষ্টিকে প্রলম্বিত করা সম্ভব, যার ফলে রোগসৃষ্ট কষ্ট, দুর্ভোগ, অকালমৃত্যু এবং অসম্ভব ব্যয়বহুল চিকিৎসা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

এভাবে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র দূর্বিসহ এসব অভিজ্ঞতা থেকে রক্ষা পেতে পারে এবং বিপুল চিকিৎসা ব্যয় বাঁচানো সম্ভবপর হতে পারে।

কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের গঠন

কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের গঠন
  • কিডনী (প্রতিটি মানুষের দেহে দু’টি কিডনী আছে)
  • কিডনী-টিউব
  • প্রস্রাবের থলি
  • প্রোস্টেট গ্রন্থি (শুধুমাত্র পুরুষের থাকে) মূত্রনালী

কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের কাজ

  • শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা করা
  • শরীরে সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ নিঃসরণে ভুমিকা রাখা।
  • সুস্থ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কিছু হরমোন তৈরি করা।
  • শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা।
  • লোহিত কণিকা তৈরিতে সাহায্য করা।
  • শরীরে এসিড ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।

কিডনী রোগের সম্ভাব্য কারণ

  • শিশুদের নানারকম চর্মরোগ ও ত্বকের প্রদাহ।
  • শিশুদের গলা/টনসিলের প্রদাহ।
  • ডায়রিয়াজনিত কারণে শরীরে আকস্মিক পানিশূন্যতা।
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও তার জটিলতা।
  • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও তার জটিলতা।
  • মূত্রতন্ত্রের জন্মগত ত্রুটি ও জটিলতা।
  • প্রস্রাবে ঘনঘন, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ
  • কিডনী, প্রস্রাবের থলি, প্রস্রাবের রাস্তায় পাথর হওয়া ও জটিলতা সৃষ্টি হওয়া।
  • প্রস্রাব নির্গমণ পথে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া (প্রস্রাবের রাস্তা চিকন হওয়া, কিডনী থেকে প্রস্রাবের রাস্তায় যেকোনো স্তরে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া, প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বড়-হওয়া)
  • সন্তান প্রসব-সংক্রান্ত জটিলতা
  • ব্যথানাশক ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা
  • দূর্ঘটনাজনিত কারণে কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের জখম হওয়া বা কার্যক্ষমতা নষ্ট-হওয়া

কিডনী রোগের প্রাথমিক লক্ষণ

  • ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া
  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
  • প্রস্রাবে রক্ত-যাওয়া
  • প্রস্রাবের সঙ্গে আমিষ নিঃসরণ
  • কোমরের উপরে ব্যথা হওয়া।
  • শরীর, বিশেষত মুখ ওপা ফুলে-যাওয়া।
  • ক্ষুধামন্দা, বমিবমি ভাব বা বমি হওয়া
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
  • প্রস্রাব করার সময় বাধা অনুভব করা
  • প্রস্রাব করতে না-পারা
  • মূত্রতন্ত্রের কোনো স্তরে পাথরের উপস্থিতি প্রমাণিত হওয়া।

কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের রোগ নির্ণয়ে প্রাথমিকভাবে করণীয়

  • রোগীর ইতিহাস জানা
  • রোগীকে শারীরিকভাবে পরীক্ষা করা।
  • প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা।
  • প্রস্রাবের প্রদাহের কারণ নির্ণয়ের জন্য জীবাণু চিহ্নিত করার পরীক্ষা।
  • কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের আলট্রাসনোগ্রাফি
  • কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের এক্স-রে।
  • রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন-এর পরিমাণ নির্ণয়

কিডনি রোগ প্রতিরোধ! কিডনি সুস্ব্য রাখার উপায়!

  • পরিমিত পানি পান করা।
  • শিশুদের চর্মরোগজনিত ত্বকের প্রদাহের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক সময়ে যথাযथ চিকিৎসা করানো।
  • সঠিক সময়ে টনসিল বা গলার প্রদাহের যথাযথ চিকিৎসা করা।
  • প্রস্রাবে ঘনঘন প্রদাহ হলে কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
  • উচ্চ রক্তচাপ ও বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শমত সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা করা।
  • ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার না করা।
  • প্রস্রাব পরিত্যাগে বাধা অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা।
  • কিডনীতন্ত্রে পাথর থাকলে চিকিৎসা করানো এবং পাথর সৃষ্টির কারণ খুঁজে বের করে তার চিকিৎসা করা।
  • খাদ্যে কৃত্রিম রঙের ব্যবহার পরিহার করা।
  • খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থসহ খাদ্যদ্রব্যে সব কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ পরিহার করা।
  • ধুমপানে বিরত থাকা।
  • দূর্ঘটনাজনিত কিডনীতন্ত্রের জখমে সঠিকভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
  • প্রস্রাবজনিত জটিলতায় সঠিকভাবে চিকিৎসা করানো।
  • জন্মগত ত্রুটি জন্মের আগে থেকেই বা জন্মের পর যথাসম্ভব দ্রুত চিকিৎসা করানো।

উপসংহার

নির্দিষ্ট বয়সের পরে বছরে অন্তত একবার প্রস্রাব পরীক্ষা করানো এবং কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের আল্টাসনোগ্রাফি করানো।উল্লিখিত বিষয়ে আপনার সচেতনতা ও দৈনন্দিন জীবনে এগুলো মেনে চলা জীবনঘাতী কিডনী ও মূত্রতন্ত্রের অসুস্থতা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে।

লেখক
কাজী রফিকুল আবেদীন
আনোয়ারুল ইকবাল

Tag- কিডনি রোগ কিডনি রোগ কিডনি রোগ কিডনি রোগ কিডনি রোগ কিডনি সুস্ব্য রাখার উপায় কিডনি সুস্ব্য রাখার উপায় কিডনি সুস্ব্য রাখার উপায় কিডনি সুস্ব্য রাখার উপায়

পোস্টটি শেয়ার করুন

Pacemaker Santo

স্বপ্ন দেখি এই ব্লগসাইট একদিন সবার দরজায় পৌঁছাবে এবং মানুষের জ্ঞান ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করবে। আপনিও এই ব্লগে লেখা পাঠান। জ্ঞান রাজ্যে আপনি আমন্ত্রিত।

Pacemaker Santo(Lecturer of Zoology-BAFSB)📞 01723165404