কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় কিভাবে?

কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় কিভাবে?

অনেকেই জানেন না কিভাবে কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হয়।তাহলে এক নজরে দেখে নিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় কিভাবে?

আপনি আরও পড়তে পারেন…. কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন এর পার্থক্য

কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় কিভাবে?
কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় কিভাবে?

কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় কি করা উচিৎ

বাড়ীর অন্যান্য সদস্যদের থেকে আলাদা থাকুন

প্রচুর হাওয়া চলাচল করে এমন আলোকিত ঘরে পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদাভাবে থাকুন। তা সম্ভব না হলে, অন্যদের থেকে অন্তত ১ মিটার (৩ ফুট) দুরে থাকুন।দেখা করার সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। ঘুমানোর জন্য পৃথক বিছানা ব্যবহার করুন। কোন অতিথির সাথে দেখা করবেন না।

ব্যবহার্য জিনিসপত্র শেয়ার করবেন না

নিজে যেসব জিনিসপত্র ব্যবহার করেন তা অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবেন না। থালা, গ্লাস, কাপ ইত্যাদি, তোয়ালে, বিছানার চাদর অন্যকে ব্যবহার করতে দিবেন না ।এ সকল জিনিসপত্র ব্যবহারের পর সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলুন।

গোসলখানা ও টয়লেট আলাদা করুন

সম্ভব হলে গোসলখানা এবং টয়লেট আলাদা ব্যবহার করুন। না হলে যখন কেউ ব্যবহার করে না সেই সময় বেছে নিন।

শিশুকে দুধ দেয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন

স্তনদানকারী মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াবেন। দুধ খাওয়ানোর সময় মাস্ক ব্যবহার করুন এবং ভালভাবে হাত ধুয়ে নিন।

শিশুকে দুধ দেয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন

সাথে পোষাপ্রাণি রাখবেন না

পোষা প্রাণীর লোম থেকে এলার্জি হতে পারে। হাঁপানির সমস্যা ও রাইনাইটিসের সমস্যা বেড়ে যায় পোষা প্রাণির সংস্পর্শে আসলে।

গৃহপালিত প্রাণী কি করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে?
পোষাপ্রাণি

ঘরেও মাস্ক ব্যবহার করুন

বাড়ীর সবাই একই ঘরে অবস্থান করলে, বিশেষ করে ১মিটারের (৩ ফুট) মধ্যে আসলে মাস্ক ব্যবহার করুন।মাস্ক পরে থাকাকালীন এটি হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকুন।(কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় কিভাবে?)

ব্যবহৃত মাস্ক ভালোভাবে নিষ্কাশন করুন

মাস্ক ব্যবহারের সময় এতে সর্দি, থুতু, কাশি, বমি ইত্যাদি লেগে গেলে সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক খুলে ফেলুন এবং নতুন মাস্ক ব্যবহার করুন। মাস্ক ব্যবহারের পর ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলুন।

ব্যবহৃত মাস্ক ভালোভাবে নিষ্কাশন করুন

ভালোভাবে হাত জীবাণুমুক্ত করুন

হাতে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে সাবান বা হ্যান্ডওয়াস দিয়ে ফেনা তুলে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড কচলিয়ে হাত ধোবেন। অদৃশ্যমান ময়লা থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। হ্যান্ডশেকের পর স্যানিটাইজার লাগান।
অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না।

ভালোভাবে হাত জীবাণুমুক্ত করুন

হাত শুকনা রাখুন

সাবান-পানি ব্যবহারের পর টিস্যু দিয়ে হাত শুকনো করে ফেলুন। টিস্যু না থাকলে শুধুহাত মোছার জন্য নির্দিষ্ট তোয়ালে/ গামছা ব্যবহার করুন এবং ভিজে গেলে বদলে ফেলুন।(কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয় কিভাবে?)

মুখ ঢেকে হাঁচি কাশি দিন

কাশি শিষ্টাচার মেনে চলুন। হাঁচি কাশির সময় টিস্যু পেপার/ মেডিকেল মাস্ক/ কাপড়ের মাস্ক/ বাহুর ভাঁজে মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন এবং উপরের নিয়মানুযায়ী হাত পরিষ্কার করুন। টিস্যু পেপার ও মেডিকেল মাস্ক ব্যবহারের পর ঢাকনাযুক্ত বিনে ফেলুন।

মুখ ঢেকে হাঁচি কাশি দিন

শিশুর পরিচর্যা করুন সাবধানে

শিশুকে তার জন্য প্রযোজ্যভাবে বোঝান। তাদেরকে পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী দিন এবং খেলনাগুলো খেলার পরে জীবাণুমুক্ত করুন।আপনার দৈনন্দিন রুটিন, যেমন- খাওয়া, হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি মেনে চলুন।

বাইরের কাজ ঘরে করুন

সম্ভব হলে বাসা থেকে অফিসের কাজ করতে থাকুন। বইপড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা উপর্যুক্ত নিয়মগুলোর সাথে পরিপন্থী নয় এমন যে কোন বিনোদনমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করুন বা ব্যস্ত রাখুন।

বাইরের কাজ ঘরে করুন

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মেনে চলুন

কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির ব্যবহৃত বা তার পরিচর্যায় ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস, টিস্যু ইত্যাদি অথবা অন্য আবর্জনা ঐ রুমে রাখা ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে রাখুন। এ সকল আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে না ফেলে পুড়িয়ে ফেলুন।

আসবাবপত্র পরিষ্কার রাখুন

ঘরের মেঝে, আসবাবপত্রের সকল পৃষ্ঠতল, টয়লেট ও বাথরুম প্রতিদিন অন্তত একবার পরিষ্কার করুন। পরিষ্কারের জন্য ১ লিটার পানির মধ্যে ২০ গ্রাম (২ টেবিল চামচ পরিমাণ) বিøচিং পাউডার মিশিয়ে দ্রবণ তৈরী করুন ও ঐ দ্রবণ দিয়ে উক্ত সকল স্থান ভালোভাবে মুছে ফেলুন। তৈরীকৃত দ্রবণ সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা পর্যন্তব্যবহার করা যাবে।

কোয়ারেন্টাইন না মানলে কি শাস্তি হবে?

মনে রাখবেন উপযুক্ত কোন ব্যক্তির উপর কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করা এবং তথ্য গোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর আওতায় কারাদণ্ড ও অর্থদন্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

করোনায় আক্রান্ত হলে কোথায় সাহায্য পাবো?

যদি কোয়ারেন্টিনে থাকাকালীন কোন উপসর্গ দেখা দেয় (১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসএর বেশি/ কাশি/ সর্দি/ গলাব্যথা/ শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি), তবে- অতি দ্রত আইইডিসিআর-এর হটলাইন নম্বরে (০১৫৫০০৬৪৯০১-৫, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯৩৭-১১০০১১, ০১৯৩৭-০০০০১১, ০১৯২৭-৭১১৭৮৪, ০১৯২৭-৭১১৭৮৫) অবশ্যই যোগাযোগ করুন এবং পরবর্তী করণীয় জেনে নিন।

কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিয়ম কি?

প্রচুর হাওয়া চলাচল করে এমন আলোকিত ঘরে পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদাভাবে থাকুন। তা সম্ভব না হলে, অন্যদের থেকে অন্তত ১ মিটার (৩ ফুট) দুরে থাকুন।দেখা করার সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। ঘুমানোর জন্য পৃথক বিছানা ব্যবহার করুন। কোন অতিথির সাথে দেখা করবেন না।

কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় কি কি করা যাবে না?

কোন অতিথির সাথে দেখা করবেন না। নিজে যেসব জিনিসপত্র ব্যবহার করেন তা অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবেন না। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না।

তথ্যসূত্রঃ আইইডসিআর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

Please click on Just one Add to Help Us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।