নিকোটিন টেস্ট কী?কিভাবে করে?নিকোটিন কতদিন দেহে থাকে?
অনেক মানুষ আছে যারা খুব একটা ধুমপান করেন না মাঝেমধ্যে বন্ধুদের আড্ডায় শখের বসে দু-একটান সিগারেট খান। হঠাৎ নিকোটিন টেস্টের প্রয়োজন পরলে কি করবেন? তাদের জন্য নিকোটিন টেস্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

আপনি আরো পড়তে পারেন…. নিকোটিন টেস্ট থেকে বাঁচার উপায়
নিকোটিন টেস্ট কী?
তামাক জাতীয় উপাদান যেকোন ভাবে দেহে গ্রহণ করলে মানবদেহে নিকোটিন জমা হয় এটি রক্তের মাধ্যমে দেহের সব স্থানে পরিবাহিত হয়। যে পরীক্ষার মাধ্যমে মানবদেহে নিকোটিনের উপস্থিতি সনাক্ত করা হয় তাকে নিকোটিন টেস্ট বলে।
উইকিপেডিয়া
অধিকাংশ নিকোটিন টেস্টে মানবদেহে নিকোটিনের উপস্থিতি না খুঁজে কোটিনাইন(cotinine) এর উপস্থিতি সনাক্ত করা হয়। কারন নিকোটিন মানবদেহে প্রবেশের পর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন পদার্থ উৎপন্ন করে এর মধ্যে দেহে বেশিক্ষণ থাকে কোটিনাইন।
নিকোটিন টেস্ট কেন করা হয়
- যেসব প্রতিষ্ঠান অধুমপায়ী ব্যক্তিকে চাকুরি দিতে চান তারা চাকুরিতে নিয়োগ দেয়ার আগে চাকুরি প্রার্থীর nicotine test করান।
- হেল্থ ইনসুরেন্স করানোর আগে nicotine test করানো বাধ্যতামূলক।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের nicotine test করা হয়।
নিকোটিন মানবদেহে কিভাবে প্রবেশ করে?

সিগারেট,সিগার,চুরুট,ভ্যাপ,বিড়ি,হুক্কা ইত্যাদির মাধ্যমে ধুমমপান করলে, সরাসরি তামাক পাতার ধোয়া গ্রহণ করলে,ধুমপান করেন এমন লোকের সাথে ধুমপানের সময় অথবা যেখানে ধুমপান করাহয় এমন স্থানে নিয়মিত বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করলে মানবদেহে ফুসফুসের মাধ্যমে নিকোটিন প্রবেশ করে। গুল, জর্দা, পাতা, ভেজাপাতি মুখে গ্রহণ করলে নিকোটিন পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে।
নিকোটিন মানবদেহে কত দিন থাকে?
একবার নিকোটিন গ্রহণ করার পর এটি রক্তে ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত ঘুরতে থাকে। ৭২ ঘন্টা পার হলে রক্তে নিকোটিনের মাত্রা শূন্য বা অতিস্বল্প পরিমানে থাকে। ৭২ ঘন্টা পর নিকোটিন রক্তে না থাকলেও দেহের অন্যান্য অঙ্গের ভেতর ১ বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।
নিকোটিন গ্রহণের কতদিন পর টেস্ট করলে পজিটিভ আসে?
কেউ হয়তো হঠাৎ একদিন সিগারেট খেয়েফেলেছে এর পর ভাবলো আমি তো কখনো সিগারেট খাইনা তাই তেমন কিছু হবে না nicotine test করেই ফেলি। এমন সব চিন্তাকারী লোকজনদের জন্য নিচের চার্ট বেশি দরকারি। ভালোকরে লক্ষ্য করুন নিকোটিন মানবদেহে কত দিন থাকে এবং নিকোটিন গ্রহণের কতদিন পর টেস্ট করলে পজিটিভ আসে।
| টেস্টের নাম | ফলাফল |
| রক্ত পরীক্ষা | নিকোটিন গ্রহণের ৭২ ঘন্টার মধ্যে nicotine test করলে ফলাফল পজিটিভ আসবে। |
| থুতু বা লালা পরীক্ষা | নিকোটিন গ্রহণের ৪ দিনের মধ্যে nicotine test করলে ফলাফল পজিটিভ আসবে। |
| মূত্র পরীক্ষা | নিকোটিন গ্রহণের ৩ সপ্তাহ বা ২১ দিনের মধ্যে মূত্রের nicotine testকরলে ফলাফল পজিটিভ আসবে। |
| চুল পরীক্ষা | নিকোটিন গ্রহণের ৩ মাসের মধ্যে nicotine testকরলে ফলাফল পজিটিভ আসবে। অনেক সময় ১ বছর পর্যন্ত চুল পরীক্ষার মাধ্যমে নিকোটিন টেস্টের ফলাফল পজিটিভ হতে পারে। |
- মেয়েদের দেহে নিকোটিন খুব দ্রুত শোষিত হয় এবং দেহ থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়।
- ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের দেহে নিকোটিন বেশি সময় অবস্থান করে।
- লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে নিকোটিন বেশিক্ষণ দেহে অবস্থান করে।
নিকোটিন বা কোটিনাইন পরীক্ষা কিভাবে করা হয়?

যে ব্যক্তির নিকোটিন টেস্ট করা হবে তার মূত্র,রক্ত,লালা,চুল যেকোন একটি উপাদান সংগ্রহ করা হয় এরপর সংগৃহীত উপাদান টেস্ট কিটের দ্বারা পরীক্ষা করা হয়। সাধারণত যেসব ব্যক্তি নিকোটিন গ্রহণ করেন তাদের রক্তে নিকোটিন প্রবেশ করার পর এটি বিভিন্ন উপাদানে বিভক্ত হয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি উপাদান হলো কোটিনাইন। ধুমপানকারীদের রক্তে কোটিনাইন এর মাত্রা 30 to 50 ng/ml হয়। অধুমপায়ীদের রক্তে কোটিনাইন এর মাত্রা 1 ng/ml এর কম হয়।
যারা প্রতিদিন বেশি মাত্রায় ধূমপান করেন তাদের রক্তে কোটিনাইন এর মাত্রা 1,000 থেকে 8,000 ng/mL. যেসব ব্যক্তি ২ সপ্তাহের মধ্যে ধুমপান ছেড়ে দিয়েছেন তাদের রক্তে কোটিনাইন এর মাত্রা 30 to 50 ng/ml এর কম হয়।পরোক্ষ ধুমপানকারী(ধুমপায়ীর সাথে উঠাবসা করে কিন্তু নিজে ধুমপান করে না) তাদের রক্তে কোটিনাইন এর মাত্রা 1 ng/ml হয়।
কোটিনাইন এর মাত্রা দেখে বোঝা যায় আপনি কতদিন থেকে ধুমপান করেন এবং দিনে কি পরিমাণ ধুমপান করেন।
ধুমপান না করেও নিকোটিন টেস্টে পজিটিভ হতে পারেন
বৃদ্ধ মানুষের মেটাবলিজম রেট খুব স্লো হয় তাই তারা কম ধুমপান করলেও বা ধুমপান না করে ধুমপায়ী ব্যাক্তির সাথে থাকলে রক্তে কোটিনাইন এর মাত্রা অনেক বেশি দেখায়।
স্বল্পমাত্রার ধুমপানকারী বা পরোক্ষ ধুমপানকারী(ধুমপায়ীর সাথে উঠাবসা করে কিন্তু নিজে ধুমপান করে না) এন্টিবায়োটিক সেবনের সময় nicotine test করলে রক্তে কোটিনাইন এর মাত্রা বেশি দেখাবে।
What is nicotine test in bangla
Nicotine test ki? Nicotine test kivabe kore? nikotine manob shorire kotodin thake?
তথ্যসূত্র: webmd
,
