- ব্লাক ফাঙ্গাস কি?
- ইতিহাস
- ব্লাক ফাঙ্গাস রোগ কিভাবে ছড়ায়?
- ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের প্রকারভেদ
- যাদের ব্লাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি
- ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের লক্ষণ কী?
- ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের চিকিৎসা
- ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগের ঔষধ কি?
- ব্ল্যাক ফাঙ্গাস প্রতিরোধের উপায়
- মিউকরমাইকোসিস রোগ কী?
- করোনাভাইরাস ও ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের সম্পর্ক কী?
- করোনা রোগীর ব্ল্যাক ফাংগাস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি কেন?
- ব্ল্যাক ফাংগাস রোগ হলে মানুষ অন্ধ হয় কেন?
করোনাভাইরাস মহামারী সময় আরো এক নতুন আতঙ্ক সৃষ্টিকারী রোগের আবির্ভাব ঘটেছে। এ রোগটি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নামে পরিচিত।
আতঙ্কিত না হয়ে আসুন জানা যাক ব্লাক ফাঙ্গাস মারাত্মক রোগ সম্পর্কে।
আপনি আরও পড়তে পারেন… Cancer কি? কেন হয়?
ব্লাক ফাঙ্গাস কি?
Mucormycosis নামক রোগটি ব্লাক ফাঙ্গাস রোগ হিসাবে পরিচিত।এটি mucormycetes গোত্রের একাধিক ছত্রাকের কারণে হয়। যদিও এই গোত্রের ছত্রাকগুলো Bluck Fungus গোত্রের সদস্য নয় তবুও ভুলভাবে নামটি পরিচিতি পেয়েছে।
Mucormycosis রোগটি ছত্রাকঘটিত আর এই রোগের কারণে মানুষের চামড়া ও পেশি পচে যায় পরে এই পঁচা চামড়া কালো রংয়ের হয় তাই Mucormycosis রোগকে ব্লাক ফাংগাস রোগ বলে। এই রোগটি খুবই কম দেখা যায় তবে এটি খুব বিপজ্জনক রোগ। সাইনাস, ফুসফুস, ত্বক এবং মস্তিষ্কে এই রোগের আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়।

ইতিহাস
১৮৫৫ সালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগটি সম্পর্কে প্রথম বর্ণনা করে Friedrich Küchenmeister।
ব্লাক ফাঙ্গাস রোগ কিভাবে ছড়ায়?
ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের জন্য দায়ী mucormycetes গোত্রের ছত্রাকগুলি সবধরনের পরিবেশে বাস করতে সক্ষম।
বিশেষত মাটি এবং পঁচা জৈব পদার্থে পূর্ণ স্থান যেমন পঁচা পাতা, কম্পোস্টের স্তূপ বা পচা কাঠের স্তুপ,খড়ের গাদা,গবরের স্তুপ ইত্যাদি স্থানে বেশি জন্মায়।
ছত্রাকগুলো প্রজননের জন্য স্পোর বা রেণু সৃষ্টি করে।মানুষ ছত্রাকের স্পোরের সংস্পর্শে এলে ব্লাক ফাঙ্গাস রোগ হয়।
স্পোরগুলি বাতাসে ভেসে বেড়ায় তাই শ্বাস নেয়ার সময় প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং সংক্রমণ ঘটায়।
এদের জন্মানোর স্থানে যাতায়াত করলে মানুষের ত্বকে এরা লেগে যায় এবং রোগ সৃষ্টি করে।
জীবাণু রক্তের প্রবাহের মাধ্যমে যখন সংক্রমণটি ছড়িয়ে পড়ে তখন শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন- মস্তিষ্ক,প্লীহা, হার্ট,কিডনি ইত্যাদি অঙ্গগুলিকেও সংক্রমিত করতে পারে।
ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের প্রকারভেদ
রাইনোসেরিব্রাল (সাইনাস এবং মস্তিষ্ক) মাইকোসিস
এ ধরণের সংক্রমণ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং সাইনাস মধ্যেও সংক্রমণ হয়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি,ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি, এবং কিডনি প্রতিস্থাপনকারী ব্যক্তিদের এটি সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত করে। যাদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়েছে তাদেরও এটি আক্রমণ করে।
পালমোনারি মাইকোসিস
এটি ফুসফুস কে সংক্রমিত করে।ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অল্প বয়সী শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক হুমকি
গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল মাইকোসিস
এটি পরিপাকতন্ত্র কে আক্রমণ করে।কম ওজন নিয়ে জন্মনেয়া শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়
কিউটেনিয়াস(ত্বক) মাইকোসিস
এটি ত্বকে সংক্রমন ঘটায়।অপারেশনের ফলে সৃষ্ট ক্ষত, আঘাতে ছড়ে যাওয়া ত্বক,এবং পোড়া চামড়া ছত্রাকের স্পোরের সংস্পর্শে আসলে এই ধরণের মাইকোসিস হয়।
পেরিঅরবিটাল মাইকোসিস
এতে চোখ আক্রান্ত হয়।
যাদের ব্লাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি
সংক্রমণ যে কোনও বয়সে যে কারও হতে পারে। সুস্থ ও ভালো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের এই রোগ তেমন কোন ক্ষতি করতে পারে না। তবে বেশ কিছু শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত মানুষের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি যেমন-
- ১। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস,এইচআইভি বা এইডস,ক্যান্সারে আক্রান্ত।
- ২। অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা রোগী।
- ৩। দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড ব্যবহারকারী।
- ৪। কম শ্বেত রক্তকণিকা বিশিষ্ট ব্যক্তি।
- ৫। যাদের দেহে উচ্চ মাত্রার আয়রন আছে।
- ৬। COVID-19 বা করোনাভাইরাস এ আক্রান্ত ব্যক্তি।
- ৭। অকালে জন্ম নেয়া বা কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া শিশু।
- ৮। পোড়া, কাটা বা ক্ষতযুক্ত মতো ত্বক যাদের।
ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের লক্ষণ কী?

আপনার শরীরের কোন অংশে ছত্রাকটি আক্রমণ করেছে এবং কোথায় বৃদ্ধি পাচ্ছে তার উপরে সংক্রমণের লক্ষণগুলি নির্ভর করবে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলো হলো-
- ১।জ্বর,কাশি,বুক ব্যাথা।
- ২।নিঃশ্বাসের দুর্বলতা।
- ৩। মুখের একদিকে ফোলাভাব।
- ৪। মাথা ব্যথা,সাইনাসে সংক্রমনের ফলে তিব্র সর্দি,গলাব্যথা।
- ৫। নাকের উপর সম্মুখ অংশে বা ভেতরে কালো ক্ষত।
- ৬। মুখের অভ্যন্তরে কালো ক্ষত।
- ৭। পেট ব্যথা,বমি বমি ভাব এবং বমি।
- ৮। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রক্তক্ষরণ।
- ৯। ডায়রিয়া ও মলের সাথে রক্ত যাওয়া।
- ১০। ত্বক সংক্রামিত হলে তবে সংক্রমিত স্থানটি কালো বা লাল দাগযুক্ত হতে পারে এবং ফুলে যেতে পারে। আক্রান্ত ত্বক গরম থাকে ও ব্যথা হয়।
- ১১। হার্ট ও মস্তিষ্কে জীবাণু ছড়িয়ে পরলে তিব্র আক্রমণে রোগী কোমায় চলেযেতে পারে।
ব্ল্যাক ফাংগাস রোগ নির্ণয়
ফুসফুস বা সাইনাসের সংক্রমণ হলে নাক বা গলা থেকে তরলের একটি নমুনা নিয়ে পরীক্ষাগারে ছত্রাকের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।
ত্বক আক্রান্ত হলে পরীক্ষার জন্য সংক্রামিত টিস্যুর একটি ছোট টুকরা বের করে বায়োপসিও করা হয়।
মস্তিষ্কে সংক্রমণ হলে সিটি বা এমআরআই স্ক্যানের মতো ইমেজিং টেস্ট করে রোগ সনাক্ত করা হয়।
ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের চিকিৎসা
রোগ নির্ণয় করা হলে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা শুরু করা উচিত। এই ওষুধগুলি ছত্রাকের বৃদ্ধি বন্ধ করে এবং ছত্রাক ধ্বংস করে সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনে।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগের ঔষধ কি?
Amphotericin B,Isavuconazole,Posaconazole এই ওষুধগুলি ট্যাবলেট হিসেবে খাওয়ানো হয় বা ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরায় পুশ করা হয়। ঔষধ ব্যবহারের পর পেটে ব্যথা,গ্যাস্ট্রিক এবং শ্বাসকষ্টের মতো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে ডাক্তারকে জানাতে হবে।
ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের জটিলতা
- ১। ছত্রাকের স্পোর চোখের সংস্পর্শে আসলে তীব্র আক্রমণে চোখের দৃষ্টি চিরতরে হারিয়ে রোগী অন্ধ হয়ে যায়।
- ২। মস্তিষ্কে আক্রমণের ক্ষেত্রে স্নায়ু কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রোগী কোমায় চলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে হাত,পা প্যারালাইজড হতে পারে।
- ৩। রক্ত জমাট বেধে মৃত্যু হতে পারে।
- ৪। ফুসফুসে সংক্রমণ হলে তীব্র শ্বসকষ্টের ফলে মৃত্যু হতে পারে।
- ৫। গুরুতর ক্ষেত্রে, ডাক্তার ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ার কারণে সংক্রামিত বা মৃত টিস্যু অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করতে পারেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নাক বা চোখের কিছু অংশ কেটে বাদ দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে রোগীর চেহারা বিকৃত হতে পারে। কিন্তু কি আর করা বাঁচতে হলে নাক,চোখ আর সুন্দর চেহারার মায়া ত্যাগ করতে হবে।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগের মৃত্যুহার
সংক্রমণটি এত বিরল বলে সঠিক মৃত্যুহার স্পষ্ট নয়। তবে গবেষকরা অনুমান করেন যে সামগ্রিকভাবে, এই রোগে আক্রান্ত হলে 54% লোক মারা যায়।মৃত্যুর সম্ভাবনা শরীরের কোন অংশ আক্রান্ত হয় তার উপর নির্ভর করে। ফুসফুস বা মস্তিষ্কের সংক্রমণে মৃত্যুহার বেশি।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাস প্রতিরোধের উপায়
এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে আপনি এই কাজগুলো করতে পারেন।
- প্রচুর ধূলিকণা বা মাটি আছে এমন জায়গা যেমন নির্মাণ বা খননকার্যের জায়গাগুলি থেকে দূরে থাকুন। আপনার যদি এই জায়গাগুলিতে থাকতেই হয় তবে একটি N95 এর মতো ফেস মাস্ক পরুন।
- সংক্রামিত জল এড়িয়ে চলুন। বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরে ক্ষতিগ্রস্থ বিল্ডিংগুলি এড়িয়ে চলুন।
- যদি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে তবে ধূলিকণা এবং মাটি সম্পর্কিত বাগান বা উদ্যানের কাজ এড়িয়ে চলুন। কাজ যদি করতেই হয় তবে জুতা, গ্লোভস, লম্বা প্যান্ট এবং লম্বা হাতওয়ালা শার্ট পরে নিজেকে সুরক্ষিত করুন।
- যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাবান এবং জল দিয়ে কাটা বা ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলুন।
- ছত্রাকধরা রুটি বা আচার খাবেন না।
- শরীর ও পোষাক পরিচ্ছন্ন রাখুন, হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।
- গবরের স্তুপ,খড়ের গাদা,আবর্জনার ঢিবি থেকে দূরে থাকুন।
মিউকরমাইকোসিস রোগ কী?
এটি একটি ছত্রাকঘটিত রোগ।
মিউকরমাইসেটিস গোত্রের ছত্রাক দিয়ে আক্রান্ত হলে যে রোগ হয় তাকে মিউকরমাইকোসিস বলে।
করোনাভাইরাস ও ব্লাক ফাঙ্গাস রোগের সম্পর্ক কী?
করোনাভাইরাস ও ব্ল্যাক ফাংগাস রোগের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ অন্যটি ছত্রাকঘটিত রোগ।
করোনা রোগীর ব্ল্যাক ফাংগাস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি কেন?
করোনাভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায় ফলে রোগীর দেহে এই ছত্রাকঘটিত রোগের জীবাণু খুব সহজে আক্রমন করে এবং জটিল অবস্থা সৃষ্টি করে।
ব্ল্যাক ফাংগাস রোগ হলে মানুষ অন্ধ হয় কেন?
এই রোগ হলেই যে মানুষ অন্ধ হবে এমন নয়। পেরিঅরবিটাল মাইকোসিস ধরণের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ হলে তা চোখের দৃষ্টি শক্তির উপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে। শেষ পরিণতি হিসেবে চোখ অন্ধ হতে পারে।
অন্য ধরণের ফাংগাস আক্রমণে চোখ অন্ধ হওয়ার ভয় নেই।
Black Fungus Disease ki
Black fungus rog ki? black fungus disease in bangla. Black Fungus Disease Infection Symptoms in bangla. Black Fungus Covid 19 in bangla
,
