ক্যান্সার প্রতিরোধ এর ২০ উপায়|ক্যান্সার থেকে বাঁচবেন কিভাবে?

Table Of Contents
  1. ক্যান্সার প্রতিরোধের ২০ উপায়| ক্যান্সার থেকে বাঁচবেন কিভাবে?
  2. ক্যান্সার প্রতিরোধের ২০ উপায়

ক্যান্সার প্রতিরোধের ২০ উপায়| ক্যান্সার থেকে বাঁচবেন কিভাবে?

ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে জীবন তো হারাতে হয়ই সাথে প্রচুর অর্থের অপচয় ঘটে।ক্যান্সার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যায়বহুল। ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ মেটাতে অনেক রোগী সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। কিন্তু কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে জীবন পরিচালনা করলে একজন মানুষ ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারবে। আসুন ক্যান্সার প্রতিরোধের ২০ উপায় সম্পর্কে জানি…..

ক্যান্সার প্রতিরোধের ২০ উপায়|ক্যান্সার থেকে বাঁচবেন কিভাবে?
ক্যান্সার প্রতিরোধের ২০ উপায়|

আপনি আরো পড়তে পারেন …………ক্যান্সার কী? ……. ক্যান্সারের ২৫ টি লক্ষণ দেখে নিন#…. ক্যান্সার কেন হয়?

ক্যান্সার প্রতিরোধের ২০ উপায়

ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় ২০টি ধারাবাহিক বর্ণনার মাধ্যমে চিত্রের সাহায্যে উপস্থাপন করা যাক।

১.তামাক গ্রহণ করবেন না

ফুসফুসের যত ধরণের ক্যান্সার আছে তার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণ তামাক সেবন। ২০১৮ সালে প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষ মারা যায় ফুসফুস ক্যান্সারের কারণে। এদের মধ্যে প্রায় ৭৫% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। ধূমপানের ফলে মুখ ও গলা, শ্বাসনালী, মূত্রথলি, অন্ত্রের ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক ব্যাধি সৃষ্টি হয়।

জর্দা, গুল ব্যবহারে মুখগহ্বর ও প্যানক্রিয়াসের ক্যান্সার হতে পারে। জীবন বাঁচাতে আজই তামাক ছাঁড়ুন। যত শীঘ্র তামাক ছাড়বেন তত দ্রুত ক্যান্সারের হাতে জীবন দেয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

২.অতিরিক্ত মদপান করবেন না

প্রতিদিন সহ্য ক্ষমতার বেশি অতিরিক্ত মদপান করলে লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কয়েকশোগুণ বেড়ে যায়। এছাড়াও মদপানে যকৃত, খাদ্যনালী, কণ্ঠ, গলনালী ও ফুসফুসের ক্যান্সার হয়ে থাকে। বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৪% মানুষ মরে এলকোহল সেবনজনিত ক্যান্সারের কারণে।মদ খাওয়ার লোভ সামলান ক্যান্সারকে দূরে রাখুন।

৩. ব্যায়াম করুন

একজন অলস ব্যক্তির ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা পরিশ্রমী ব্যাক্তির চেয়ে ৮২% বেশি। পরিশ্রম করলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে ক্যান্সার কোষ ভালো কোষের সাথে যুদ্ধে সহজে পেরে উঠে না। প্রতিদিন অন্তত ১ ঘন্টা বা আধা ঘন্টা ভারি পরিশ্রম করুন যাতে শরীর থেকে ঘাম বের হয়।

সপ্তাহে নিয়মিত তিন থেকে পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, জগিং করা,সাঁতার কাটা, বাগান করা, সাইকেল চালানো,খেলাধুলা করা ইত্যাদি কাজ করুন। সপ্তাহে কমপক্ষে ২দিন ভারী ব্যায়াম করতে হবে।

৪.পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন

খাদ্য হলো কোষের পুষ্টির উৎস। দেহের রোগপ্রতিরোধ বৃদ্ধির জন্য যে জৈবরাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায় তা খাদ্য থেকেই আসে। তাই খাদ্য গ্রহণের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে খাদ্য যেন মানে ভালো হয় দেখতে ভালো নয়। চর্বিযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া রাস্তার খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো।প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি, ফলমূল রাখুন।

৫.প্রখর রোদে থাকবেন না

প্রখর রোদ শরীরের জন্য ক্ষতিকর, এটি মেলানোমা এবং ত্বকের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এপ্রিল থেকে জুন মাস অবধি বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরসরি সূর্যের আলোর নিচে থাকবেন না।এ সময় ছাতা, সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

৬.ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন

দেহের ওজন বেড়ে গেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ওজন বেড়ে গেলে উচ্চরক্তচাপ সৃষ্টি হয় এসময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি কোলন ক্যান্সার, যকৃত ও খাদ্য নালির ক্যান্সারের কারণ। স্তন ক্যান্সারের একটি অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ওজন।মেনোপজের পর অতিরিক্ত ওজন জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। অতএব, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৭.ক্যান্সার পরীক্ষা করান

প্রতিবছর নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময়ে ক্যান্সারের পরীক্ষা করান এতে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পরবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পরলে নিরাময় সহজ হয়,আপনার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। এভাবে ৬০% রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করার ফলে বেঁচে যেতে পারেন। শারীরিক সমস্যা দেখে সন্দেহ হলে দেরি না করে পরীক্ষা করুন। টিউমার যতই ছোট হোক না কেন অবশ্যই স্ক্রিনিং করাবেন। মনেরাখবেন টিউমার ক্যান্সারের প্রথম ধাপগুলোর একটি নিদর্শন।

৮. বিকিরণ থেকে দূরে থাকুন

বিকিরণ থেকে দূরে থাকুন
বিকিরণ থেকে দূরে থাকুন

বিনা প্রয়োজনে বারবার এক্সরে,সিটিস্ক্যান, এমআরআই করাবেন না। এই পরীক্ষা করার সময় তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ ব্যবহার করা হয় এগুলো ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। গর্ভাবস্থায় এসব পরীক্ষা একদম করাবেন না যদি না খুবই প্রয়োজন হয়। কেউ তেজষ্ক্রিয় পদার্থ নিয়ে কাজ করলে অবশ্যই বিকিরণ নিরাপত্তা সামগ্রী ভালোভাবে ব্যবহার করবেন।

৯. লাল মাংস কম খাবেন

গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া ইত্যাদি ৪ পা ওয়ালা পশুর মাংস লাল।লাল মাংসের অতিরিক্ত চর্বি বেশি খেলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়া পাকস্থলী ও যকৃতের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।সপ্তাহে ৩ দিন সাদা মাংস মানে মুরগির মাংস খাবেন। খরগোসের মাংস খেতে পারেন। সপ্তাহে ২ দিনের বেশি লাল মাংস না খাওয়াই ভালো।

১০. পোড়া ও ডুবোতেলে ভাজা মাংস এড়িয়ে যান

আগুনে পোড়া চিকেন গ্রিল,তন্দুরি, বিফ স্টেক,বারবিকিউ মাংস কম খাবেন। এগুলো মাসে দুই দিনের বেশি না খাওয়াই ভালো। পোড়া মাংস পাকস্থলী ও কোলন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

১১. রান্নায় সময় কম তেল ব্যবহার করুন

রান্নার সময় তরকারিতে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার স্থূলতার প্রধান কারণ। স্থূলতা আবার স্তন ক্যান্সারের প্রধান কারণ। তাই রান্নায় কম তেল ব্যবহার করতে হবে। ঘি,বাটার,পরিজ,ডালডা,পাম তেল যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো।খাবার তেলে না ভেজে সেদ্ধ করে খেতে পারলে ৩০% কোলন ও পাকস্থলীর ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১২. পর্যাপ্ত ঘুমান

প্রতিদিন অন্তত ৬ ঘন্টা ঘুমান। ঘুম কম হলে শরীরের অঙ্গগুলো সজীবতা ফিরে পায়না। ক্লান্ত অঙ্গ কার্সিনোজেন দ্বারা খুব সহজে আক্রান্ত হয়। পর্যাপ্ত ঘুমের ফলে দেহের কোষগুলোর ক্ষয় পুরণ হয় এবং কোষের কার্যক্ষমতা বাড়ে এজন্যে কার্সিনোজেন সহজে কোষকে আক্রমণ করে ক্যান্সার কোষের সৃষ্টি করতে পারে না।

১৩. ৩ কাপের বেশি চা বা কফি খাবেন না

দৈনিক ৩ কাপের বেশি চা কফি খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। চা বা কফি ২ কাপের মধ্যে সিমাবদ্ধ রাখাই বেশি ভালো।

১৪. ৪ টির বেশি ডিম খাবেন না

দিনে চারটির বেশি ডিম খেলে লিভার ক্যন্সার ও প্রস্টেট ক্যান্সারের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত ডিম খাওয়া স্ট্রোক,হার্ট এটাক,উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ।

১৫. সময়মত খাবার খান

ঘড়ি ধরে খাবার গ্রহণ পরীপাক তন্ত্রকে ঠিক রাখে ফলে পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়। সকালে নাস্তা গ্রহণ করতে হবে।বিকাল ৫ টার পর আস্তে আস্তে খাদ্য গ্রহনের পরিমাণ কমিয়ে দিন এবং রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে আহার করুন। শুধু সময়মত খাদ্য গ্রহণের অভ্যাসের ফলে ৪ ধরণের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

১৬. প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার এড়িয়ে চলুন

প্রক্রিয়াজাত খাবার
প্রক্রিয়াজাত খাবার

প্রক্রিয়াত প্যাকেট খাবার বেশি গ্রহণ করলে এসব খাবার সংরক্ষণে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভ কার্সিনোজেন হিসেবে কাজ করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

১৭. চিনি ও অতিরিক্ত লবণ কম খান

লবণ ও চিনি
লবণ ও চিনি

অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার দূরে রাখুন। এগুলো ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিতে উদ্দিপনা যোগায়। অতিরিক্ত চিনি ও লবণ শুধু ক্যান্সার নয় স্ট্রোক,হার্ট এটাক,উচ্চ রক্তচাপ এর মত মারাত্বক রোগেরও কারণ।

১৮. ক্যান্সারের টিকা গ্রহণ করুন
ক্যান্সারের টিকা
ক্যান্সারের টিকা

সময়মত জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টিকা গ্রহন করুন। এছাড়াও হেপাটাইটিস বি,সি,এ রোগের টিকা গ্রহণ করলে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

১৯. শরীরের ফোলা স্থান অবহেলা করবেন না

আঘাত লাগার পর দেহের কোন স্থান ফুলে গেলে, চাকার মত হলে, গোল গুটি হলে শীঘ্র ডাক্তার দেখান।এসব গুটি একসময় ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

২০. বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন

বাল্যবিবাহ জরায়ুমুখ ক্যান্সারের একটি অন্যতম কারণ। এছাড়া বাল্যবিবাহ দিলে ছেলেদের প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

মাছ

মাছ
মাছ

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মাছের ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড -এন্টিইনফ্ল্যামেটরি, এন্টিটিউমার ও এন্টিক্যান্সার বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। তাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে মাছ খাওয়া আবশ্যক।

ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় কী?

কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে জীবন পরিচালনা করলে একজন মানুষ ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারবে।

ক্যান্সার মোকাবেলার উপায় কী?

উপরের নির্দেশনা ফলো করুন।

পরামর্শ দিয়েছেন-
ড. এস,এম,ডেভিডসন
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ
কলরাডো,আমেরিকা

তথসুত্রোঃ cancer.org, …………… cancer.net USA

How to prevent cancer in Bangla

How to stop cancer? cancer prevention step, cancer protirodh korar upay< cancer theke bachar upay,

Tag: ক্যান্সার প্রতিরোধ… ক্যান্সার প্রতিরোধ….. ক্যান্সার প্রতিরোধ….. ক্যান্সার প্রতিরোধ….. ক্যান্সার প্রতিরোধ….

Please Click on Just one Add to help us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।