ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণগুলো কি?

Table Of Contents
  1. ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণগুলো কি?

ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণগুলো কি?

মৃত্যু সবসময় বেদনাদায়ক কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যু হবে এমন রোগীর মৃত্যুর সময় সুখকর করা যায়।অনীরাময়যোগ্য ক্যান্সারে দীর্ঘদিন ভোগার পর রোগী যখন শেষ সময় উপস্থিত হয় তখন কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যায় রোগী আর বেশিদিন টিকবে না। আবার কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যায় আজই রোগীর শেষ দিন। এসব লক্ষণ ভালোকরে জানা থাকলে মৃত্যু পূর্বে রোগীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়। খুব ভালোভাবে রোগীর বিদায় মুহূর্ত সুন্দর করা যায়।

অন্ততপক্ষে রোগীর পৃথিবী ছাড়ার আগে তার আক্ষেপগুলো দূর করা সম্ভব হয়। আসুন আজ জেনেনেই ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর ৭ দিন,৩ দিন আগের ও মৃত্যুর দিনের লক্ষণগুলো। লেখাটি পড়া শুরু করুন আর জানতে থাকুন ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ গুলো কি?

আপনি আরো পড়তে পারেন………….. ক্যান্সার কী? …. ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুভয় দূর করার উপায়#ক্যান্সার প্রতিরোধ এর ২০ উপায় .. ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় ২০ খাবার#

ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ
ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ

ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর ৭ দিন আগের লক্ষণ

ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর ৭ দিন আগে থেকে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা যায়। কররাডো ক্যান্সার হাসপাতালে চালানো একটি গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ২০০ ব্যাক্তির মধ্যে ১৫০ জনের দেহেই মৃত্যুর ৭ দিন আগে এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।(ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ)

উদাসীনতা

রোগী সংবাদ, বিনোদন, খেলাধুলা ইত্যাদির প্রতি আগ্রহ হারানো শুরু করতে পারে। কোন বিষয় মনোযোগ দিয়ে ভাবতে পারে না। কারো সাথে কথা বলতেও বিরক্ত বোধ করে।পূর্বে রোগী যে কাজগুলো করতে আনন্দ পেতো বা আগ্রহ দেখাতো সেই কাজেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এক কথায় রোগী চূড়ান্ত রকমের উদাসীন হয়ে যায়। কোন বিশেষ চিন্তায় মগ্ন থাকে।

ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং ঘুমের আকাঙ্ক্ষা

ক্যান্সার রোগী মৃত্যুর শেষ সপ্তাহগুলিতে অনেক দুর্বল এবং ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। এই কারণে শুধু ঘুমাতে চায়, পাশাপাশি তাদের দিনের বেশিরভাগ সময় বিছানায় কাটায়। ঘুমালে আর জাগতে চায় না। অনেক ডাকাডাকি করেও ঘুম ভাঙ্গানো যায় না।

ক্ষুধা কমে যাওয়া

অধিকাংশ রোগীর এই শেষ ৭ দিন ক্ষুধা লাগেনা। কিছু খেতে চায় না। পরিপাকতন্ত্রের তন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে ক্ষুধা হারিয়ে যেতে থাকে।

গিলতে সমস্যা হয়

খাদ্যনালীতে ক্যান্সার কোষ ছড়িয়ে পরার কারণে খাদ্যনালী কাজ করা বন্ধ করে দেয়।রোগী খেতে চাইলেও খাবার গিলতে সমস্যা হয়। সময়ের সাথে সাথে খাদ্য গেলার ক্ষমতা বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যাথা

শেষের দিকে ক্যান্সার কোষের অতিবৃদ্ধির ফলে টিউমার ফেটে যেতে পারে। টিউমার ফেটে গেলে এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ হয় এটি স্নায়ুতন্ত্রের উপর জটিল প্রভাব ফেলে এরফলে রোগীর দেহে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি হয়। অনেকে ব্যথার কারণে জোরে কাতরাতে থাকে।

চামড়া কুঁচকে যাওয়া

মৃত্যুর আগে চামড়া কুঁচকে যাওয়া সাধারণত জীবনের শেষ সপ্তাহে ঘটে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে এটি আগে হতে পারে।

চামড়া কুঁচকে যাওয়া
চামড়া কুঁচকে যাওয়া

তথ্যসূত্র: cancer.org, …………… cancer.net USA

ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর ৩ দিন আগের লক্ষণ

এই আটটি লক্ষণ যে সব রোগীর মধ্যে দেখা যেতে শুরু করেছিল, তাদের সবাই পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে মারা গেছেন।(ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ)

১. পিউপিলের অসারতা

পিউপিল আলোতে কম সাড়া দেয়। স্বাভাবিক মানুষের চোখে আলো ফেললে তাদের চোখের পিউপিল (চোখের কালো অংশের ভেতরে গাঢ়তর কালো বৃত্ত) ছোট হয়ে যায় দ্রুত। কিন্তু মুত্যু আসন্ন ক্যান্সার রোগীর পিউপিউ আলোতে খুব ধিরে সাড়া দেয়।

পিউপিলের অস্বাভাবিকতা
পিউপিলের অস্বাভাবিকতা

২. যান্ত্রিক কথা

কথা বলার সময় ঠোট,জিহ্বা ও গালের পেশির নড়াচড়া কম বোঝা যায়। মনে হয় রোবট কথা বলছে।

৩. দৃষ্টিশক্তি হ্রাস

চোখের দেখার ক্ষমতা হ্রাস পায়। সামান্ন দূরের বস্তু ঘোলা দেখে বা ছোট দেখে। অপটিক স্নায়ুর কাজ ধিরেধিরে কমতে থাকে তাই দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে।

৪. চোখের পাতা বন্ধ করতে সমস্যা

চোখের পাতা বন্ধ করতে সমস্যা হয়, অনেকে চোখের পাতা পুরপুরি বন্ধ করতে একদম পারে না। চোখের পাতায় রক্ত সঞ্চারন কম হওয়ার কারণে চোখের পাতার সক্তি কমে যায়।

৫. নাকের ভাঁজ গাঢ় হয়

নাকের দুই পাশে একটা করে ভাঁজ থাকে এটি লম্বা হয়ে উপরের ঠোটের দুই পাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। হাসলে এখানের ভাঁজ স্পষ্ট রেখার মত মনে হয়। ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর কয়েকদিন আগে থেকে এই ভাঁজ না হাসলেও বেশ গভির ও গাঢ় হয়।

৬. মাথা ঝুঁকে যাওয়া

ঘাড়ের পেশিতে শক্তি সরবরাহ কম হওয়ার কারণে মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে পরে। মনে হয় সামনে ঝুঁকে বই পরছেন। অনেকের নিচের চোয়াল ঝুঁলে যায়।

৭. কণ্ঠস্বর পরিবর্তন

কণ্ঠ ভারি ও গম্ভির হয়ে যায়। পরে খুবই দুর্বল হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে কথা অস্পষ্ট হতে থাকে। দেহের শক্তি কমে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্ক নিজে বাঁচার জন্য এসব প্রান্তীয় অঙ্গগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এর ফলে কণ্ঠনালীর শব্দ উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়। কন্ঠনালী ও ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের গলার ভেতর হালকা ঘড়ঘড় শব্দ হয় সময়ের সাথে এই শব্দ বাড়তে থাকে।

৮. পরিপাকতন্ত্রে রক্ত ক্ষরণ

পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্তদের পরিপাকতন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ক্যান্সার কোষের চূড়ান্ত আক্রমণে ভালো কোষের আবরণ ফেটে যায় ফলে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। মলের সাথে এই রক্তের উপস্থিতি দেখা যায়।

তথ্যসূত্র : ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের এর এমডি এন্ডারসন ও তার সহকর্মীবৃন্দ।

ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর দিনের লক্ষণ

চীনের গুয়াংজু ক্যান্সার হাসপাতালে চালনা করা একটি জরিপ থেকে জানা যায় প্রায় ৭০% ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর আগে এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।(ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ)

ত্বকের রঙ পরিবর্তন:

সাদারণত ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে থেকে ত্বকের রঙ নীলাভ, লালচে বেগুনী বা মার্বেল রঙের হয়। ত্বকের রঙ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি “মটলিং” নামে পরিচিত। রোগীর হৃদপিন্ড কার্যকরভাবে রক্ত ​​পাম্প করতে না পারার কারণে ত্বক বিবর্ণ হতে শুরু করে এবং মটলিং হয়। মটলিং রোগীর মৃত্যুর একটি স্পষ্ট লক্ষণ।

ত্বকের মোটলিং
ত্বকের মোটলিং

শরীর শীতল হওয়া

মৃত্যুর শেষ দিনে ক্যান্সার রোগীর মারাত্মকভাবে রক্তচাপ কমে যায়, ফলে হাত দিয়ে রোগীর শরীর স্পর্শ করলে শীতল অনুভব হয়।

ঘড়ঘড় শব্দ

মৃত্যুর কিছু সময় পূর্বে শ্বাস নালিতে তরল পদার্থ জমা হয় এই পদার্থের সাথে শ্বাস প্রশাসের বাতাসের সংঘর্ষ হয় ফলে গলার ভেতর ঘড়ঘড় শব্দ হয়।

প্রসাব পায়খানার অসংযম:

জীবনের শেষের দিকে ক্যান্সার রোগীর মূত্রাশয় এবং মলাশয়ের পেশিগুলোর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিজের হাতে থাকে না। তারা নিজের অজান্তে প্রসাব পায়খানা করে ফেলে।প্রসাব পায়খানা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা একটি সাধারণ মৃত্যু লক্ষণ। এই লক্ষণটি দেখে বোঝা যায় রোগী সেষ সময়ের খুব নিকটে।

বিভ্রান্তি:

স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলেও হঠাৎ রোগী বিভ্রান্ত হয়ে যায়।আপনজন কে চিনতে পারে না। কোন কারণ ছাড়া হঠাৎ এরকম বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া মৃত্যুর লক্ষণ।

অস্থিরতা:

ক্যান্সার রোগীরা প্রায়শই অস্থিরতায় ভোগেন।ব্যথার কারণে এই অস্থিরতা বেশি হয়। কিন্তু কোন ব্যথা ছাড়াই যদি রোগী অস্থির হয়ে উঠে, ছটফট করতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে রোগীর শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে।

অজানা ভীতি

রোগী সবসময় অজানা ভয়ে কুঁকড়ে থাকে। অনেক সময় অদৃশ্য কিছু দেখে ভয়ে ছটফট করে এবং লুকাতে চায়। অনেকে আপনজন কে দেখেও ভয় পায়।

অজানা ভীতি
অজানা ভীতি

তীব্র শ্বাসকষ্ট

ক্যান্সার রোগীর জীবনের শেষ দিনে তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্তদের শেষ সময় তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা যায়।

আধ্যাত্মিক কথা বলা

অসংলগ্ন কথা বা ভুলভাল কথা বলতে থাকে। অদৃশ্য কোন জিনিষের উপস্থিতি বর্ণনা করো। মৃত আত্মীয় স্বজন দেখতে পায়।

আবেগপ্রবণ হয়

খুবই আবেগপ্রবণ হয়। সামান্য কারণে হাসি বা কান্নার প্রকাশ করে।

হঠাৎ ব্যথা মুক্ত হয়ে যায়

লিভার,কোলন,অস্থি,পাকস্থলী ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী খুব ব্যথায় কাতর থাকে, কিন্তু মৃত্যুর আগে হঠাৎ সব ব্যথা উধাও হয়ে যায়।

পুং লিঙ্গের আকার

সব রোগীর ক্ষেত্রেই মৃত্যুর দিনে কোন কারণ ছাড়াই পুং লিঙ্গের আকৃতি অনেক ছোট হয়ে আসে।

মটলিং কি?

সাদারণত ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে থেকে ত্বকের রঙ নীলাভ, লালচে বেগুনী বা মার্বেল রঙের হয়। ত্বকের রঙ পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি “মটলিং” নামে পরিচিত। রোগীর হৃদপিন্ড কার্যকরভাবে রক্ত ​​পাম্প করতে না পারার কারণে ত্বক বিবর্ণ হতে শুরু করে এবং মটলিং হয়। মটলিং রোগীর মৃত্যুর একটি স্পষ্ট লক্ষণ।

Death sign of cancer patient in Bangla

Cancer rogir mittur lokhon, kivabe bujhben cancer rogi marajabe

Tag: ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ …ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ….. ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ…. ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ…… ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ …….ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ ……ক্যান্সার রোগির মৃত্যুর লক্ষণ

Please Click on Just one Add to help us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।