ক্লোনিং কী? ক্লোন প্রাণী কিভাবে সৃষ্টি করা হয়?

সূচীপত্র
  1. ক্লোনিং কী? ক্লোন প্রাণী কিভাবে সৃষ্টি করা হয়?
  2. ক্লোনিং এর ইতিহাস
  3. ক্লোন প্রাণী কিভাবে তৈরি করা হয়?
  4. ক্লোনিংয়ের প্রকারভেদ

ক্লোনিং কী? ক্লোন প্রাণী কিভাবে সৃষ্টি করা হয়?

ধরুন আপনি ব্যাংকে ১ কোটি টাকা রেখেছেন। আপনাকে ছাড়া এই টাকা তোলা সম্ভব নয়।কিছুদিন বিদেশে থেকে এসে একদিন ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে দেখলেন আপনার ব্যালেন্স শূন্য। এখন আপনার অবস্থা কেমন হবে? ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা আপনাকে বলছে কিছুদিন আগে আপনি স্বয়ং আপনার সব টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। এবার তো আপনার মাথা খারাপ হওয়ার দশা। আপনি ভেবে পাচ্ছেন না কিভাবে আপনি নিজে এই টাকা তুললেন।

টাকা তোলার দিন তো আপনি বিদেশ ছিলেন। এখন একটাই ভাবনা আপনার মাথায় ঘুরছে ব্যাংক কর্মকর্তারা আপনার টাকা মেরে দিয়েছে। কিন্তু শুধু ব্যাংক কর্মকর্তারা নয় আরো অনেকে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে ঐ দিন আপনি টাকা তুলেছেন।এমনকি সিসি টিভির ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে আপনিই ঐদিন টাকা তুলেছেন।

এবার কি বলবেন আপনি? সব যখন বিপক্ষে তখন ভাবছেন আপনার বাবার হয়তো আরো একটি সন্তান আছে যার কথা আপনি জানেন না এমন অজানা ভাইয়ের চেহারা আপনার মত, সেই ভাইটি ব্যাংকের সব টাকা হাপিস করে দিয়েছে।আপনি ভুল ভাবছেন আসলে যে লোকটি আপনার চেহারা নিয়ে টাকা তুলেছে সে হলো আপনার মতই একই রকম চেহারা বিশিষ্ট্য বাস্তবিক জ্যান্ত মানুষ,মানে আপনার ফটোকপি।

কোন জীবের মত একই রকম আরেকটি জীবের সৃষ্টি করাকে ক্লোন বলে।সাম্প্রতিককালে ট্রান্সজেনিক প্রাণী সৃষ্টির সফলতার পর ক্লোন্ড প্রাণী সৃষ্টি করে জীন বিজ্ঞানিরা বিশ্ববাসীকে চমকিয়ে দিয়েছেন।

ক্লোন কী-ক্লোন প্রাণী কিভাবে সৃষ্টি করা হয়

আপনি আরো পড়তে পারেন….. তিন স্ত্রী পুরুষ মিলে এক সন্তান জন্ম দেয়!!! …..সারোগেসি কি? …. টেস্ট টিউব বেবি কি?টেস্টটিউব বেবি কিভাবে হয়?

ক্লোন কী?

বিজ্ঞানী হে বি এস হ্যাল্ডন ক্লোন শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেন।ক্লোনিং শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ থেকে যার অর্থ গাছের একটি শাখা থেকে আরেকটি শাখা উৎপন্ন হওয়া। “ক্লোন” শব্দের আরেকটি অর্থ “অনুরূপ প্রতিলিপি” আর ক্লোনিং হলো ক্লোন তৈরির প্রক্রিয়া।

একটি প্রাণী থেকে তার জীন নিয়ে উক্ত জীন কে কোন অনিষিক্ত ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসে সংযুক্ত করে দাতা জীনের প্রাণীর মত হুবহু প্রাণী সৃষ্টি করাকে ক্লোনিং বলে।

সূত্র: উইকিপেডিয়া

ক্লোনিং এর সংজ্ঞা কী?

অর্থাৎ ক্লোনিং হল এক ধরনের অযৌন শুক্রাণু-ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের মিলন না ঘটিয়ে দেহ কোষের নিউক্লিয়াস কে ব্যবহার করে একটি প্রাণীর হুবহু অনুরূপ সৃষ্টি করা।

সূত্র: nationalgeographic.org

ক্লোন্ড প্রাণী কী?

ক্লোনিং কৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন করা জীব কে ক্লোন্ড প্রাণী বলে।

সূত্র: উইকিপেডিয়া

ক্লোনিং এর ইতিহাস

প্রায় শতবর্ষ পূর্ব থেকে বিজ্ঞানীরা Cloning নিয়ে গবেষণা করছেন। যুগযুগ ধরে বহু বিজ্ঞানীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আধুনিক যুগে ক্লোনড্ প্রাণী সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।ক্লোন শব্দটির প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৯৬৩ সালে।

১৮৮৫ সালে বিজ্ঞানী হ্যান্স এডওয়ার্ড ড্রিশ সি-আর্চিনের ভ্রূণকোষ আলাদা করে সেটা থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি সি-আর্চিন জন্ম দিতে সক্ষম হন। এই গবেষণা থেকে জানাযায় যে, একটি দেহকোষের যেসব বৈশিষ্ট্য থাকে তার সাথে ভ্রূণ অবস্থায় থাকা কোষের বৈশিষ্ট্যের মিল আছে। অর্থাৎ ভ্রূণের বৈশিষ্ট্য পরিস্ফুটিত হয়ে নতুন প্রাণী দেহ গঠন করে।

বিজ্ঞানী হ্যান্স এডওয়ার্ড ড্রিশ
বিজ্ঞানী হ্যান্স এডওয়ার্ড ড্রিশ

ক্লোনিং এর জনক

বিজ্ঞানী হ্যান্স স্পারম্যান-স্পেম্যান ক্লোনিং এর জনক
বিজ্ঞানী হ্যান্স স্পারম্যান-স্পেম্যান

১৯৩৮ সালে জার্মান বিজ্ঞানী হ্যান্স স্পারম্যান(স্পেম্যান) এক বিজ্ঞান সম্মেলনে Cloning সম্পর্কে নতুন ধারণা দেন। তিনি বলেন একটি ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস অপসারণ করে তার স্থলে দেহ কোষের নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। সেই সময় তার প্রস্তাব সবার কাছে উদ্ভট মনে হলেও তার ধারণার উপর ভিত্তি করেই আধুনিক যুগের Cloning পদ্ধতি গড়ে উঠেছে। হ্যান্স স্পারম্যান এর গবেষণাকে বলা হয় ক্লোনিং এর প্রাথমিক ভিত্তি। হ্যান্স স্পেম্যান কে বলা হয় ক্লোনিংয়ের জনক। তিনি ১৯৩৫ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

স্পেমানের এই আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে রবার্ট ব্রিগস এবং থমাস কিং একটি ব্যাঙের ভ্রূণকোষ তৈরি করেন। পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিবেশে সেই ভ্রূণ থেকে ব্যাঙাচি জন্ম নেয়

১৯৪৪ সালে অসওয়াল্ড এভারি তার গবেষণাপত্রে লেখেন যে মানুষ সহ সকল জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নিউক্লিক এসিডে সংরক্ষিত থাকে। শুক্রানুর নিউক্লিয়াসের ভেতর যে নিউক্লিক এসিড থাকে তার মাধ্যমে পিতার বৈশিষ্ট্য ডিম্বাণুতে স্থানান্তরিত হয়। এভাবে বংশগত বৈশিষ্ট্য এক বংশ থেকে অপর বংশে যুগযুগান্তরে আদান-প্রদান হয়।

এই গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে শুক্রানু ও ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের মিলন ছাড়াই শুধু দেহ কোষের নিউক্লিয়াস দিয়ে একটি মানুষের সকল বৈশিষ্ট্য স্থানান্তর করা সম্ভব।

১৯৭৫ সালে বিজ্ঞানী জে ডেরেক ব্রুমহল তার পূর্বসূরি বিজ্ঞানী অসওয়াল্ড এভারি এর গবেষণার সত্যতা প্রমাণ করেন। তিনি একটি ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস অপসারণ করে তার স্থলে দেহকোষের নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপন করে ভ্রূণ সৃষ্টিতে সক্ষম হোন।এই গবেষণা ক্লোন প্রানী সৃষ্টির ইতিহাসে একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। বিজ্ঞানী জে ডেরেক ব্রুমহল ও তার গবেষক দল খরগোশের কোষ নিয়ে ভ্রুণকোষ তৈরি করতে সক্ষম হন। এটি স্তন্যপায়ী প্রাণির ক্লোনিংয়ের প্রথম ধাপ।

February মাসের 22 তারিখ 1997 সাল Scotland দেশের Midlothian শহরের Roslin Institute এর বিজ্ঞানী ইয়ান উইলমুট, কেইট ক্যাম্পবেল ও তাদের সহকর্মীরা পৃথিবীর ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনার সৃষ্টি করেন প্রথম ক্লোনড্ প্রাণী তৈরি করার মাধ্যমে।তারা ২৭৭ বার চেষ্টার পর প্রথমবারের মতো সফলভাবে একটি ভেড়ার ক্লোন করতে সক্ষম হন।

ইয়ান উইলমুট ও কেইথ ক্যাম্পবেল
ইয়ান উইলমুট ও কেইথ ক্যাম্পবেল

সংক্ষেপে  ক্লোনিং এর ইতিহাস

সালঘটনা
১৮৮৫ সালবিজ্ঞানী হ্যান্স এডওয়ার্ড ড্রিশ সি-আর্চিনের ভ্রূণকোষ আলাদা করে সেটা থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি সি-আর্চিন জন্ম দিতে সক্ষম হন।
১৯৩৮ সালস্পেম্যান এক বিজ্ঞান সম্মেলনে ক্লোনিং সম্পর্কে নতুন ধারণা দেন।রবার্ট ব্রিগস এবং থমাস কিং একটি ব্যাঙের ভ্রূণকোষ তৈরি করেন।
১৯৪৪ সালনিউক্লিক এসিড থাকে তার মাধ্যমে পিতার বৈশিষ্ট্য ডিম্বাণুতে স্থানান্তরিত হয় এই তথ্য আবিষ্কার ।
১৯৭৫ সালবিজ্ঞানী জে ডেরেক ব্রুমহল ও তার গবেষক দল খরগোশের কোষ নিয়ে ভ্রুণকোষ তৈরি করতে সক্ষম হন।
February মাসের 22 তারিখ 1997 সাল বিজ্ঞানী ইয়ান উইলমুট, কেইট ক্যাম্পবেল ও তাদের সহকর্মীরা সফলভাবে একটি ভেড়ার ক্লোন করতে সক্ষম হন।

ক্লোনিং কিভাবে করা হয়?

ক্লোনিং জিনিষ টা কি? আপনি অনেক তথ্য ঘাটাঘাটি করতে অভ্যস্ত হলে খুব সহজেই জানতে পারবেন ক্লোনিং সম্পর্কে। আবার জীববিজ্ঞান পড়লেও Cloning পড়তে হয় একাডেমিক পাঠ্যক্রমে তাই ক্লোনিং বিষয়টি আপনার কাছে ডালভাতের মত ব্যাপার।

কিন্তু যারা জীববিজ্ঞান পড়েননি তাদের জন্য বিষয়টা সহজে বোঝা বেশ কঠিন। তাদের জন্য কঠিন শব্দ বাদ দিয়ে সাধারণভাবে আলোচনা করছি Cloning বিষয়টা কী?

ক্লোনিং এর মূলনীতি কী?

একজন প্রজননক্ষম স্ত্রী ও পুরুষ মানুষের দেহে হ্যাপ্লয়েড (n) ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সৃষ্টি হয়। হ্যাপ্লয়েড মানে একসেট ক্রোমোজোম। অর্থাৎ শুক্রাণুতে যে ক্রোমোসোম থাকে তা পিতৃবংশের বৈশিষ্ট্য বহন করে আর ডিম্বাণুর ক্রোমোসোম মাতৃবংশের বৈশিষ্ট্য বহন করে। ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণু মিলিত হলে পিতৃ ও মাতৃবংসের একসেট করে ক্রোমোসোম মিলিত হয়ে ২ সেট বা ডিপ্লয়েড (2n) ক্রোমোসোম বিশিষ্ট্য জাইগোট গঠন করে।

এই জাইগোট পরিস্ফুটিত হয়ে একটি শিশুর সৃষ্টি করে। যেহেতু জাইগোটে পিতা ও মাতার বৈশিষ্ট্য মিশ্রিত হয় সেহেতু সন্তানের চেহারা হুবহু বাবা বা মায়ের মত হয়না।

ডিম্বাণুতে ডিপ্লয়েড ক্রোমোসোম বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপন করলে তা স্বাভাবিক নিয়মে পরিস্ফূটিত হয়ে নতুন ভ্রূণ সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে সরাসরি কোন স্ত্রী বা পুরুষের দেহ কোষ থেকে নিউক্লিয়াস সংগ্রহ করে ডিম্বাণুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।

ক্লোনিং এর মূলনীতি
ক্লোনিং এর মূলনীতি

এই নিউক্লিয়াসে শুধু একজনের ক্রোমোসোম আছে তাই বৈশিষ্ট্য মিশ্রিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই ভ্রূণ থেকে তৈরি হওয়া শিশু সরাসরসরি নিউক্লিয়াস দাতার মত চেহারা বিশিষ্ট হয়। এটাই হলো Cloning এর মূলনীতি।

ক্লোন প্রাণী কিভাবে তৈরি করা হয়?

জটিল কিছু পদ্ধতি সতর্কতার সাথে প্রয়োগ করে Cloning করা হয়।বর্ণনার সুবিধার জন্য ধারাবাহিক ধাপে আলোচনা করা যাক।

ক্লোন ভেড়া-ডলি কিভাবে সৃষ্টি হয়?

স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অবস্থিত Roslin Institute এর বিজ্ঞানী wilmut ও তাঁর সহকর্মীগণ প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী ডলি নামক ক্লোন ভেরী উৎপাদন করেছেন।ডলির জন্ম হয়েছিল ৫ ই জুলাই ১৯৯৬ সাল এবং গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় ২২শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯৭। ডলির নামকরণ করা হয় বিখ্যাত গায়িকা ডলি পার্টনের নাম অনুসারে এবং ডলির সাঙ্কেতিক নাম (CODE NAME) ছিল 6LL3।

ক্লোন প্রাণী সৃষ্টির ধাপ

ক্লোন প্রাণী ডলি সৃষ্টি কয়েকটি ধারাবাহিক ধাপে সম্পন্ন করা হয় ধাপসমূহ হলো-

১. দেহকোষ থেকে নিউক্লিয়াস সংগ্রহ

দেহকোষ থেকে নিউক্লিয়াস সংগ্রহ
দেহকোষ থেকে নিউক্লিয়াস সংগ্রহ

প্রথমে একটি ৬ বছর বয়সী স্ত্রী ভেড়ার স্তনগ্রন্থি থেকে দেহকোষ নেওয়া হয়। উক্ত দেহ কোষকে একটি বিশেষ দ্রবণে রাখা হয়, যেখানে পুষ্টি পদার্থ খুব কম বা অনুপস্থিত থাকে। পুষ্টিহীন মাধ্যমে উক্ত দেহকোষ তাদের পূর্ববর্তী কাজে অকেজো হয়ে পরে। এ অবস্থাকে Quiesent state বলে। এক পর্যায়ে এর কোষগুলো ভ্রণীয় পর্যায়ের কোষে প্রত্যাবর্তন করে। এ কোষ গুলো থেকে তাদের নিউক্লিয়াস পৃথক করে সংরক্ষণ করা হয়।

২. ডিম্বাণু সংগ্রহ ও নিউক্লিয়াস অপসারণ

ডিম্বাণু সংগ্রহ ও নিউক্লিয়াস অপসারণ
ডিম্বাণু সংগ্রহ ও নিউক্লিয়াস অপসারণ

একই সাথে একটি প্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রী ভেড়া থেকে একটি অনিষিক্ত ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ডিম্বানু মধ্যস্থ নিউক্লিয়াসকে সাবধানে অপসারণ করা হয়। যাতে সাইটোপ্লাজম-সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে। এরপর নিউক্লিয়াস বিহীন ডিম্বাণু কে আবাদ মাধ্যমে স্থানান্তর ও সংরক্ষণ করা হয়।

৩. নিউক্লিয়াস স্থানান্তর ও জাইগোট তৈরি

নিউক্লিয়াস স্থানান্তর ও জাইগোট তৈরি
নিউক্লিয়াস স্থানান্তর ও জাইগোট তৈরি

এ পর্যায়ে নিউক্লিয়াস বিহীন ডিম্বানু ও স্তনগ্রন্থির দেহকোষ থেকে সংগৃহিত নিউক্লিয়াসকে একটি আবাদ মাধ্যমে পাশাপাশি রেখে ইলেকট্রিক পালস্ প্রয়োগ করা হয়। ফলে নিউক্লিয়াস বিহীন ডিম্বাণু তার পাশে থাকা দেহকোষের নিউক্লিয়ার বস্তুকে নিজের সাইটোপ্লাজমের ভেতরে গ্রহণ করে নেয়।

যা নিষিক্ত ডিম্বাণুর ভূমিকা পালন করে। উক্ত নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোটের ক্রোমোসোম সংখ্যা 2n বা ডিপ্লয়েড হয়। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অযৌন পদ্ধতিতে নিউক্লিয়াস বিহীন ডিম্বাণুর সাথে একটি দেহ কোষের নিউক্লিয়াসের মিলনের ফলে 2n যুক্ত জাইগোট সৃষ্টি করা হয়

৪. ভ্রূণ সংস্থাপন ও নতুন ক্লোন সৃষ্টি

ভ্রূণ সংস্থাপন ও নতুন ক্লোন সৃষ্টি
ভ্রূণ সংস্থাপন ও নতুন ক্লোন সৃষ্টি

চতুর্থ পর্যায়ে উক্ত জাইগোট বা নিষিক্ত ডিম্বাণু লালন পালন করার জন্য তৃতীয় আর একটি পরিপক্ক স্ত্রী ভেড়ার জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। মাতৃজরায়ু পরিবেশ নিষিক্ত ডিম্বাণু ক্রমবিভাজনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ভেড়া সৃষ্টি হয় এবং জরায়ুতে ২১ সপ্তাহ থাকার পর ডলি নামক ক্লোন ভেড়াটি ভূমিষ্ঠ হয় যা দেখতে হুবহু নিউক্লিয়াস দাতা স্ত্রী ভেড়ার মত।

ক্লোন ভেড়া ডলির জীবনী:

ডলি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে ৬টি শাবক জন্ম দেয়।শাবকগুলোর নাম ছিলো Bonnie,জমজ Sally এবং Rosie,ত্রিজমজ Lucy, Darcy এবং Cotton.

ক্লোন ভেড়া ডলির জীবনী
ক্লোন ভেড়া ডলি

‘বনি’ ছিলো ১ম শাবকের নাম।বনির জন্ম হয়েছিলো ১৯৯৮ সালে। ডলি তার জীবনে ২ বার রোগে আক্রান্ত হয়। ১ম বার আরথ্রাইটিসে আক্রান্ত হলেও রোগ ভালো হয়ে যায়। ২য় বার ফুসফুসে টিউমার ধরা পরে। টিউমার নিরাময়যোগ্য ছিলোনা মানে ফুসফুস ক্যান্সার হয়েছিলো তাই ডলিকে মেরে ফেলা হয়।ডলির মৃত্যুর তারিখ ছিলো ১০-০২-২০০৩।স্কটল্যান্ডের জাতীয় যাদুঘরে ডলির স্মৃতি সংরক্ষণ করা আছে।

ক্লোনিংয়ে ব্যবহৃত পদ্ধতি

সাধারনত ৩টি পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফলভাবে Cloning সম্পন্ন করা হয়।

সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফারঃ

সোমাটিক সেল নিউক্লিয়াস ট্রান্সফার
সোমাটিক সেল নিউক্লিয়াস ট্রান্সফার

এটি মৌলিক পদ্ধতি। এটা মডিফাই করে বাঁকি দুটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে।এই পদ্ধতির প্রথমে কার্যক্ষম সুস্থ ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস অপসারণ করে সেখানে যার ক্লোন করা হবে তার দেহ কোষের ডিপ্লয়েড নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপন করা হয় এরপর এই ডিপ্লয়েড নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট ডিম্বাণুকে প্রজননক্ষম স্ত্রী প্রাণির জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। জরায়ুতে ডিম্বাণু পরিস্ফুটিত হয়ে ভ্রূণ সৃষ্টি করে এবং ক্লোনড্ প্রাণির জন্ম হয়।

রস্লিন পদ্ধতিঃ

ক্লোনিংয়ে ব্যবহৃত রস্লিন পদ্ধতি
রস্লিন পদ্ধতি

রস্লিন ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।রস্লিন পদ্ধতিতে প্রথম ক্লোনড্ ভেড়া ডলিকে সৃষ্টি করা হয়ে ছিলো। এই পদ্ধতির সবকিছুই সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতির মত তবে এক্ষেত্রে সংগ্রহকৃত দেহকোষটিকে পুষ্টিহীন মাধ্যমে রেখে কৃত্রিম খাদ্য সংকট সৃষ্টি করা হয় এতে দেহকোষ খাদ্যের অভাবে ভ্রূণ কোষের ধর্ম বা স্টেম সেলের ধর্ম গ্রহণ করে। ইলেকট্রিক পালস প্রয়োগ করে ডিম্বাণুতে নিউক্লিয়াস প্রবেশ করানো হয়। এরপরের ধাপগুলো মুল পদ্ধতির মতোই।

হনলুলু পদ্ধতিঃ

ক্লোনিংয়ে ব্যবহৃত হনলুলু পদ্ধতিঃ
হনলুলু পদ্ধতি

হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তেরুহিকো ওয়াকায়ামা এই পদ্ধতিটি উদ্ভাবন করেন। এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াস বিহীন ডিম্বাণুতে দেহকোষের নিউক্লিয়াসটি মাইক্রোইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ট্রান্সফার করা হয়। এর পরের ধাপ ১ম পদ্ধতির মত।

ক্লোনিংয়ের প্রকারভেদ

ক্লোনিং প্রধাণত তিন প্রকার-

  1. মলিকিউলার Cloning
  2. রিপ্রোডাক্টিভ cloning
  3. থেরাপিউটিক Cloning

জিন ক্লোনিং বা মলিকিউলার ক্লোনিংঃ

জীন ক্লোনিং বা মোলেকুলার ক্লোনিং
জীন ক্লোনিং বা মোলেকুলার ক্লোনিং

একটা ডিএনএ অণুর মত আরেকটি ডিএনএ অণু তৈরি করার নামই মলিকিউলার Cloning। এটা জিন ক্লোনিং নামেই বেশি পরিচিত।কোষ বিভাজনের সময় প্রাকৃতিকভাবে মাতৃ কোষের ডিএনএ এভাবে ক্লোনিং হয়। একারণে হাতের আঙ্গুল বা সব অঙ্গ বৃদ্ধি পেলেও আকৃতি ও গুনাগুণ পূর্বের মতই থাকে। কৃত্রিমভাবে ল্যবরেটরিতে পিসিআর মেশিনের সাহায্যে জিন ক্লোনিং করা যায়।

রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং বা জীব ক্লোনিং

একটি প্রাণির মত হুবহু আরেকটি প্রাণি সৃষ্টির প্রক্রিয়া কে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং বলে। সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতি ব্যবহার করে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং করা হয়।

থেরাপিউটিক ক্লোনিং

থেরাপিউটিক ক্লোনিং
থেরাপিউটিক ক্লোনিং

মানুষের জীবন শুরু হয় ভ্রূণের কিছু কোষ নিয়ে। প্রাথমিক পর্যায়ের এই কোষগুলোকে স্টেম সেল বলে। স্টেম সেল বিভাজিত হয়ে পূর্ণ প্রাণিদেহ গঠন করে। একটি স্টেম সেল প্রয়োজনে বিভাজিত হয়ে যে কোন অঙ্গ গঠন করতে পারে। মানব দেহের কোন অঙ্গ নষ্ট হলে তা স্টেম সেল থেকে তৈরি করা সম্ভব।এই গবেষণা চলমান আছে। চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করতে আরো সময় লাগবে।

অঙ্গ বিকল হয়েছে এমন ব্যক্তির কোষ থেকে নিউক্লিয়াস সংগ্রহ করা হয়। ল্যবরেটরিতে এই কোষ দিয়ে ক্লোন প্রাণী সৃষ্টি করা হয়। এধরণের ক্লোন প্রক্রিয়ায় শুধু ভ্রূণ সৃষ্টি করা হয় পরিপূর্ণ শিশু সৃষ্টি করা হয় না। এই ভ্রূণ দেহ থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়। সেই স্টেম সেল দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় এই Cloning পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

সেল ক্লোনিং

দেহ কোষ থেকে নিউক্লিয়াস সংগ্রহ করে তা অনিষিক্ত ডিম্বাণুতে স্থাপন করার মাধ্যমে সেল ক্লোনিং করা হয়। এটি সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতিতে করা হয়।

ক্লোনিং সম্পর্কে ভুল ধারণা

অনেকেই মনে করেন ক্লোনড্ করা প্রাণির আচরণ যে প্রাণী থেকে ক্লোনড্ করা হয়েছে তার মত হবে। এটা Cloning সম্পর্কে ভুল ধারণাগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রাণির আচরণ নির্ভর করে পরিবেশের প্রভাবের উপর। যে পরিবেশে প্রাণী বড় হয় এবং লালিতপালিত হয় সেই রকম আচরণের অধিকারী হয়।

ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে যে প্রাণী সৃষ্টি করা হয় তার চেহারা যার কোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে তার মত নাও হতে পারে। প্রথম ক্লোন করা বিড়াল ছানা সিসি তার কোষ দাতা বিড়ালের মত হয়নি।

ক্লোন বিড়াল সিসি
ক্লোন বিড়াল সিসি

ক্লোনিংয়ের বর্তমান ব্যবহার

প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীর সব জীব ডিএনএ রেপ্লিকেশন এর মাধ্যমে আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত মলিকিউলার Cloning করে যাচ্ছে এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত চালু থাকবে।

ক্লোনিং এর প্রয়োগ

কৃত্রিম উপায়ে Cloning করার প্রযুক্তি বর্তমানে বেশ উন্নতি করেছে।বিভিন্ন ক্ষেত্রে Cloning ব্যবহার করা হয়।

ক্লোনিংয়ের উপকারিতা বা সুবিধা

  1. এখন অনেক মানুষ তার শখের পোষা প্রাণির ক্লোন সৃষ্টি করছে যাতে আসল প্রাণিটি মৃত্যুর পরেও তার দেহ কোষ থেকে তৈরি ক্লোনড্ প্রাণির সাহায্যে অভাব মেটানো যায়। সোয়ান বায়োটেক, ভেগান পেটস ইত্যাদি বায়োটেকনোলজি কোম্পানি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পোষা প্রাণীর ক্লোন করে দিচ্ছে।
  2. আন্তর্জাতিক গোয়েন্দাগিরির জন্য অনেক দেশ অবৈধ উপায়ে মানব Cloning করছে।
  3. কৃষিক্ষেত্রে ক্লোনিং এক বিস্ময়ের নাম। ক্রমবর্ধমান মানব জাতীর মুখে খাবার তুলে দিতে বিজ্ঞানীগণ জীন cloning এর সাহায্যে ফসলের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে।
  4. জিনেটিক রোগ বা বংশগত রোগ নিরাময় করার কোন নির্ভরযোগ্য ঔষধ আজঅবধি আবিষ্কার হয়নি। এক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা cloning।
  5. স্টেম সেল উৎপাদন করা হয় থেরাপিউটিক ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে।
  6. অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ এন্টিবডি তৈরি করা হয়।
  7. জিন ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে অক্ষতিকর পতঙ্গ সৃষ্টি করে ফসলের ক্ষতিকর পতঙ্গ দমণ করা যায়। এতে কীটনাশক ব্যবহার কম হয়। পরিবেশের জন্য বড় হুমকি এই কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস করার মাধ্যমে জীববৈচিত্র রক্ষা করা যাবে।

ক্লোনিংয়ের অসুবিধা

ক্লোনিংয়ের সুবিধার চাইতে অসুবিধা অনেক বেশি। এই অসুবিধা দূর করার জন্য বিজ্ঞানীরা আজ পর্যন্ত তেমন কোন ভালো উপায় বের করতে পারে নি।

  1. ক্লোনিংয়ের প্রধান অসুবিধাগুলো হলো-
  2. ক্লোন প্রাণীর স্বল্প আয়ুষ্কাল।
  3. বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া।
  4. ক্লোন জীবের বিকলাঙ্গতা।
  5. কম জীবনীশক্তি।

ক্লোনড জীব বেশি দিন বাঁচে না কেন?

ক্রোমোসোমের দুই প্রান্তের বিশেষ অঞ্চল কে টেলোমিয়ার বলে। একটি কোষ যখন বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি করে তখন এই টেলোমিয়ার কিছুটা ক্ষয়ে যায়। নতুন সৃষ্ট কোষের ক্রোমোসোমগুলোর দৈর্ঘ্য পুরাতন কোষ অপেক্ষা খাটো হয়। এই টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য কমতে থাকলে প্রাণির আয়ুষ্কাল কমতে থাকে। মানে যার যত বেশি বয়স তার ক্রোমোসোমের টেলোমিয়ার তত বেশি খাটো।

ক্লোন করার সময় যদি এমন খাটো টেলোমিয়ার বিশিষ্ট্য কোষ ব্যবহার করা হয় তবে ঐ কোষ থেকে সৃষ্টি হওয়া ক্লোনড্ শিশুর বয়স যার কোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে তার সমান হবে। মানে ৩০ বছর বয়সি কোন মানুষের কোষ থেকে ক্লোন করে জন্ম নেয়া শিশুর বয়স প্রকৃতপক্ষে ৩০ বছর। কোষের বয়স বাড়লে তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়,ক্ষত নিরাময়ের ক্ষমতা কমে যায়।

এমন কোষ দিয়ে ক্লোন করা শিশুর দেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে এরা সহজেই রোগে আক্রান্ত হয় এবং প্রাকৃতিকভাবে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে পারে না। তাই এরা বেশিদিন বাঁচে না।বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এরকম প্রাণী ভ্রূণ অবস্থাতেই মারা যায়। একটি ভেঁড়ার স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ১০-১২ বছর কিন্তু প্রথম ক্লোনড্ ভেড়া ডলি বেঁচে ছিল মাত্র সাড়ে ৬ বছর।

তবে বর্তমানে ক্লোন করার আগে দেহ কোষটির টেলোমেয়ারের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে আগের মত করা হয়।

নিউক্লিয়ার জিনোম এবং মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনোমের অসামান্জস্যতা, মিউটেশন, কোষের বিভিন্ন প্রোটিন, ফ্যাক্টর, অন্যান্য মলিকিউলস গুলোর মধ্যকার মিথষ্ক্রিয়াসহ ইত্যাদি অনেক কারণে ক্লোনড্ প্রাণী বেশিদিন বাঁচে না।

ক্লোনিংয়ের বৈধতা

মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণির ক্লোন করা বিশ্বের অনেক দেশেই বৈধ। মানুষের ক্লোন করার উপর নিষেধাজ্ঞা আছে সারাবিশ্ব জুড়ে (ডেনমার্ক ছাড়া)। চীন কখনোই মানুষের ক্লোনিংকে নিষিদ্ধ করেনি। অনেক বোদ্ধারা মনে করেন সফলভাবে বানরের ক্লোন সম্পন্নকারী চীনা বিজ্ঞানীরা শীঘ্রই মানুষের ক্লোনিংয়েও সফল হবেন।

ক্লোনিং এর সামাজিক প্রভাব:

পশুদের ক্লোনিং নিয়ে তেমন কোনাে বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। তবে এর মধ্যে মানুষের ক্লোনিংয়ের চিন্তাভাবনা আরম্ভ হয়েছে। এখন এর নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। ক্লোনিং হয়ে ভূমিষ্ট হওয়া শিশুটি যখন বড় হবে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ব্যক্তিত্ব ওই ক্লোন হতে চাওয়া ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের নায় হবে,নাকি অন্যরকম হবে।

আবার, এভাবে ক্লোন হয়ে সৃষ্টি হওয়ায় শিশুটির উপর সামাজিক চাপ প্রবল হবে। তবে স্থবির বিষয়, এখন পর্যন্ত মানুষ বা মানবগােষ্ঠীর সফল ক্লোনিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। ক্লোনিংজাত শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হবে, এমনতাে বলা যাচ্ছে না বরং উল্টো প্রতিবন্ধী বা বিকলাঙ্গ হওয়ার আশংকা বেশি। মানব Cloning হবে প্রকৃতির উপর এক বড় ধরনের হস্তক্ষেপ।

সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, ধর্ম আর বিজ্ঞান এক নয়, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা উচিত। মানব জাতির Cloning হবে ধর্মীয় অনুশাসনের উপর হস্তক্ষেপ। এটা সত্য যে, আরব্য উপন্যাসের সে দৈত্য যাকে বােতল থেকে বের করার পর পুনরায় বােতলে ঢােকানাে যায়নি।

পরমাণু শক্তির ন্যায় জীবপ্রযুক্তি ঠিক তেমন এক বাধাহীন শক্তি। আমাদের কাজ হলাে- সত্য এবং ন্যায়ের দিকে লক্ষ রেখে মানবজাতির কল্যাণে জীবপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানাে।

ক্লোনিংয়ের ভবিষ্যৎ

ভবিষ্যৎে অনেক অকল্পনীয় জাগতিক বিষয় সত্যিকার ঘটনায় রূপান্তরিত হবে ক্লোনিয়ের মাধ্যমে।আমরা হয়তো কখনো পুরুষশূন্য পৃথিবীর কথা কল্পনা করতে পারিনা। কেননা পুরুষের শুক্রাণু ছাড়া মহিলাদের ডিম্বাণু নিষিক্ত হবে না।ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে ভ্রূণ সৃষ্টি হবে না।ভ্রূণ তৈরি না হলে তো পৃথিবীতে মানুষের জন্ম হবে না।কিন্তু ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াই ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করা যাবে। তাহলে সন্তান উৎপাদনের জন্য পুরুষের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাবে। এভাবে পুরুষশূন্য এক মানবজাতি গড়ে উঠবে।

আদিম কালে পৃথিবীতে অনেক প্রাণী বিরাজমান ছিলো এই প্রাণিগুলো আজ আর পৃথিবীতে নেই।তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে কালের বিবর্তনে। এমন কিছু প্রাণির উদাহরণ হলো ডাইনোসর, লোমশ হাতি বা ম্যামথ, স্যাবরটুথ টাইগার,ডোডো পাখি ইত্যাদি।ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে এই সব বিলুপ্ত প্রাণিকে আবার পুনরুজ্জীবিত করা হবে। আপনার চোখের সামনে হেটে বেড়াবে অতিকায় ডাইনোসর ও ম্যামথ।

২০০৩ সালের ৩০ জুলাই উত্তর স্পেনের একদল বিজ্ঞানী বিলুপ্ত প্রজাতির এক ছাগলকে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে পুনর্জীবিত করেন। ‘বুকারডো’ নামের ছাগলটি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বেঁচে ছিলো।এই ঘটনার পর বিজ্ঞানীরা হতোদ্যম হয়ে পরেন নি, আরো উৎসাহের সাথে এরকম প্রাণী সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করেছেন। ইউএসএ এর কেমিস্ট ড. জর্জ চার্চের তত্ত্বাবধায়নে হার্ভার্ডের একদল বিজ্ঞানী ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে ১০০০০ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ম্যামথ বা লোমশ হাতিকে পুনরুজ্জীবিত করার গবেষণায় নিযুক্ত আছে।

তারা ইতোমধ্যে ৫০% কাজ শেষ করে ফেলেছে। সেদিন আর বেশি দূরে নেই যেদিন দেখবেন আপনার সন্তান জীবন্ত ম্যামথ দেখতে চিড়িয়াখানায় যাবে। অনেকে ডাইনোসরের ডিমের অমলেট খাওয়ার জন্য অনেকে হোটেলে ভিড় করবে।

শেষকথা:

যাইহোক, অনেক কথাই হলো ক্লোনিংয়ের ব্যাপারে এখন আমাদের আশা একটাই, Cloning মানব জীবনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক।

কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

ক্লোনিংয়ের জনক কে?

জার্মান বিজ্ঞানী হ্যান্স স্পারম্যান (স্পেম্যান)

ক্লোনিং পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণকারী ভেড়ার নাম কি?

ডলি

ক্লোন শব্দের অর্থ কি?

ক্লোন শব্দের অর্থ “অনুরূপ প্রতিলিপি”

Cloning in Bangla

A brief description about Cloning in bangla. clone ki? cloning ki? cloning er etihash, kivabe clone kora hoy? cloning er prokerved,cloning,Definition, Process, and Types in Bangla, What is Cloning,history of cloning,examples of cloning,cloning application,benefits of cloning,cloning animals,What are the 3 types of cloning?

Tag: জীব ক্লোনিং,ক্লোন শব্দের অর্থ কি ….ক্লোনিং কত প্রকার…..ক্লোনিং কত প্রকার……ক্লোনিং কত প্রকার…..ক্লোনিং এর সংজ্ঞা কী……..

Please Click on Just one Add to help us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা।

DMCA.com Protection Status