ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?discover now!

ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?discover now!

gham ki?manush ghame keno?

ঘামের উপাদান/ঘাম কি?

ঘাম কি?ঘাম মূলত পানি ছাড়া কিছুই নয়।এই পানির উৎস রক্তরস। মানে বুঝলেন তো?রক্তের যে পানি থাকে সেই পানির পরিবর্তিত রূপ হলো ঘাম।তবে এতে নগন্য মাত্রায় খাদ্য লবণ(NaCl) থাকে। এর পাশাপাশি পটাশিয়াম,ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, কপার, আয়রন, নিকেল ও সীসা পাওয়া যায়। এই রাসায়নিক পদার্থ গুলো ঘামের সাথে লবন হিসেবে থাকে। এই জন্য ঘাম নোনতা স্বাদের হয়।

আপনি কতটুকু ঘামেন?

স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের দেহ থেকে গরম আবহাওয়াগত কারণে দিনে 100 মিলিলিটার ঘাম বের হয়।বেশি পরিশ্রমী মানুষের দেহ থেকে 350 মিলিলিটার ঘাম বের হয়।আপনি শুনলে অবাক হবেন যে, একজন মানুষের দেহ থেকে প্রতি ঘন্টায় সর্বোচ্চ 2 লিটার পর্যন্ত ঘাম বের হতে পারে।একজন মানুষ দিনে প্রায় ২৪ লিটার পর্যন্ত ঘামতে পারে।অবাক হচ্ছেন, তাই না?

ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?

ঘাম তৈরির কারখানা

ঘাম তৈরি হয় ঘর্মগ্রন্থি থেকে। মানুষের ত্বকের নিচে ঘর্মগ্রন্থি তৈরি হয়ে ত্বকের উপর মুক্ত হয়। একজন
মানুষের দেহে ঘর্ম গ্রন্থির সংখ্যা প্রায় ২০-৪০ লক্ষ।আমাদের দেহে দুই ধরনের ঘর্মগ্রন্থি আছে। একটির
নাম একক্রাইন (eccrine) অন্যটি অ্যাপেক্রাইন (apocrine) ঘর্মগ্রন্থি। একক্রাইন এর সংখ্যা বেশি এগুলো মানুষের পুরো দেহ জুড়ে বিস্তৃত।অ্যাপেক্রাইন ঘর্মগ্রন্থি দেহের সব জায়গায় থাকে না, বগলে ও কুঁচকিতে থাকে।

ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?
ঘর্ম-গ্রন্থি

ঘাম হওয়ার কারণ কি?

মানুষের শরিরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা 36-38 ডিগ্রি সেলসিয়াস।পরিবেশীয় তাপমাত্রা কমবেশি হলেও আমাদের শরিরের নিজস্ব তাপমাত্রার কোন পরিবর্তন হয়না।শরীরের স্বাভাবিক কাজ করার জন্য এই ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস(৯৭-৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা ধ্রুব থাকে।

এই কারণে মানুষকে বলে উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী।যে কোন শারীরিক পরিশ্রমের সময়, অতিরিক্ত শক্তির জোগান দিতে হয়।এই বেশি শক্তি আসে, প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করা অক্সিজেন এবং গ্লুকোজের বিক্রিয়ার ফলে।গ্লুকোজের ভাঙ্গার ফলে শুধু শক্তিই নয় তাপও উৎপন্ন হয় ফলে দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

এই অতিরিক্ত তাপ রক্তরস কে জলীয়বাষ্পতে পরিণত করে।এই জলীয়বাষ্প ঘর্ম গ্রন্থির থলিতে জমা হয় এবং ঘর্ম নালীর মাধ্যমে ত্বকের উপর বের হয়ে আসে।যদি বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকে তাহলে বাতাসের পানির সাথে ঘমের বাষ্প মিশে তরল ঘাম সৃষ্টি হয়।

(আরো পড়ুন-নারীর সতীত্ব বা কুমারীত্ব কি?জীবিত মানুষ পানিতে ডুবে যায় কিন্তু মৃতদেহ পানিতে ভাসে কেন?)ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য

ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?

পরিশ্রম না করলেও গরমে ঘাম হয় কেন?

দেহের বাহিরের তাপমাত্রা বেশি হলে এই তাপ দেহে প্রবেশ করে ত্বকের মাধ্যমে ফলের দেহের তাপমাত্রা
আরো বৃদ্ধি পেতে চায়। এই অবস্হায়, দেহ স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্যে তাপ বিমোচন করতে চায়।

পানি যেকোন পদার্থের চেয়ে বেশি তাপ ধারণ করতে পারে তাই রক্তের পানি বা রক্তরসের সাথে তাপ
দ্রবীভূত হয়ে রক্তরস কে বাষ্পীভূত করে এবং জলীয়বাষ্প আকারে ঘর্মগ্রন্থি ও ঘর্মনালীর মাধ্যমে বের
করে দেয়।বাতাসের জলীয়বাষ্প এর সাথে মিশে ঘাম সৃষ্টি করে।(ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?discover now!)

শীতকালে ঘাম হয় না কেন?

শীতকালে বাতাসের তাপমাত্রা কম থাকে।দেহের তাপমাত্রা বেশি থাকে। এই অবস্থায় দেহ থেকে তাপ হারিয়ে যেতে চায়। কিন্তুু দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা(৩৬-৩৮°C) কমে গেলে তো চলবে না! তাহলে উপায়? উপায় আছে, তা হলো, দেহের তাপমাত্রা সংরক্ষণ করা।

দেহের তাপমাত্রা সংরক্ষণ করার একটি উপায় হলো ঘর্মগ্রন্থির মুখ অস্হায়ীভাবে বন্ধ রাখা। এই কারণে আমরা শীতকালে ঘামি না। তবে পরিশ্রম করলে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শীতকলেও মানুষ ঘামে।

কোন দেশের মানুষের ঘাম হয় না?

মরুভূমির উন্মুক্ত পরিবেশে বসবাসকারী মানুষ ঘামে না। মরুভূমির বাতাসে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে তাই শরিরের ঘাম সরাসরি বাষ্প হয়ে যায়।ঠান্ডার দেশের মানুষ ঘামে না এটাতো সবাই জানি।

ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?ঘামার উপকারীতা ও অপকারিতা|

মুখ ও মাথা বেশি ঘামে কেন?

মুখ ও মাথার ত্বকের নিচে এক ধরণের হলুদ আলগা চর্বি বেশি থাকে।এই চর্বি বেশি পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে। একারণে মাথা ও মুখ বেশি ঘামে।

ঘামে গন্ধ হয় কেন?

ঘামের কারণে ত্বক ভেজা থাকে, ভেজা ত্বকে খুব সহজে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে।ব্যাকটেরিয়া ঘামের সাথে বের হওয়া লবণ ও মৃত কোষ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে এবং পচন ঘটায় ফলে ঘামের দুর্গন্ধ হয়।শিশু ও বৃদ্ধদের ঘামে গন্ধ নেই বললেই চলে।

ঘাম হওয়ার কারণ কি?
ঘামের দুর্গন্ধ

মানুষ ছাড়া আর কোন প্রাণী ঘামে?

সাধারনত স্তন্যপায়ী প্রাণিদের(যেসকল প্রাণী মায়ের দুধ খেয়ে বড় হয়) ঘাম হয় যেমন
মানুষ,গরু,কুকুর,বনমানুষ ইত্যাদি।

বুদ্ধিমান স্তন্যপায়ী প্রাণী যারা দুই পায়ে ভর দিয়ে দাড়াতে পারে যেমন- মানুষ,বানর,গরিলা, সিম্পাঞ্জি,ওরাংওটাং,হনুমান এদের সারা দেহে একক্রাইন ও এপোক্রাইন উভয় ঘর্মগ্রন্থি আছে। কুকুর, বেড়াল,বাঘ,নেকড়ে এদের সারাদেহে ঘর্মগ্রন্থি নেই শুধু পায়ের তলায় ঘর্মগ্রন্থি থাকে।

ঘাম হওয়ার উপকারিতা

১।শরিরের কুলিং সিস্টেম বা শীতলীকরণ পদ্ধতি সচল রাখার জন্যে ঘাম ছাড়া বিকল্প কোন ব্যাবস্থা নেই।
২।ঘামের সাথে দেহের বর্জ্য পদার্থ বের হয়
৩। দেহের সঞ্চিত চর্বি গলে গেলে তার কিছুটা ঘামের সাথে বেড় হয়।

৪। ঘামের সময় হার্টে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
৫।ত্বকের চকচকে ভাব বজায় রাখে। এর ফলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে দেহে পানি ও লবণ ঘাটতি পরে ফলে দেহ দুর্বল হয়ে যায়। এই অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে। স্যালাইন,ডাবের জল পান করলে অতিরিক্ত ঘামের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়।

ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?ঘামার উপকারীতা ও অপকারিতা|

অতিরিক্ত ঘামা রোগের লক্ষণ

১।বুকে অতিরিক্ত ব্যথা একই সাথে ঘামতে থাকা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।
২।লসিকা গ্রন্থির ক্যানসার হলে অতিরিক্ত ঘাম হয়। রাতের বেলা এই ঘাম বেশি হয় ।

৩।আড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার(ফিওক্রমোসাইটোমা) হলেও অতিরিক্ত ঘাম হয়।
৪।যক্ষ্মা রোগীরও বেশি ঘাম হয়। রাতে ঘামের সাথে জ্বর জ্বর ভাব, কাশি, লসিকা গ্রন্থি ফোলা, দুর্বলতা
ইত্যাদি লক্ষণ আছে কি না খেয়াল করুন।(ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?discover now!)

ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?ঘামার উপকারীতা ও অপকারিতা|

ঘাম না হওয়ার অপকারিতা

অতিরিক্ত ঘাম হওয়া যেমন খারাপ তেমনি ঘাম না হওয়া ও খারাপ।ঘাম না হলে দেহ থেকে তাপ বের হওয়ার উত্তম উপায় থাকবে না। জটিল পরিস্থিতিতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হতে পারে।

pacemaker santo
https://kotokisuojana.com
লেখাটি ভালো লাগলে আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুণ।জ্ঞান বিতরণে সাহায্য করুন। আপনি ভালো লিখতে পারলে এই ওয়েবসাইট এ লেখা পাঠান।লেখা মনোনীত হলে পুরস্কার পাবেন। আপনার মাথায় উদ্ভট কোন প্রশ্ন ঘুরছে কিন্তু উত্তর পাচ্ছেন না। তাহলে দেরি না করে এই পোস্টের নিচে কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন টি লিখুন।উত্তর পাবেন নিশ্চিত।
ধন্যবাদ

89 / 100

3 thoughts on “ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন?discover now!”

Leave a Comment