ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য

ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য

ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য/gham nie 15 mojar tototho/ghamer ojana kotha

ঘাম…গরমে যখন আমাদের অনেক ঘাম হয় তখন স্বভাবতঃই মাথায় প্রশ্ন আসে ঘাম কেন হয়।এই ঘাম নিয়ে আবার অনেকের বিরক্তির শেষ নেই।তবে যাই বলুন ঘামের কিন্তু অনেক উপকারও আছে।

ঘামের উপাদান/ঘাম কি?

ঘাম মূলত পানি ছাড়া কিছুই নয়।এই পানির উৎস রক্তরস। মানে বুঝলেন তো?রক্তের যে পানি থাকে সেই পানির পরিবর্তিত রূপ হলো ঘাম।তবে এতে নগন্য মাত্রায় খাদ্য লবণ(NaCl) থাকে। এর পাশাপাশি পটাশিয়াম,ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, কপার, আয়রন, নিকেল ও সীসা পাওয়া যায়। এই রাসায়নিক পদার্থ গুলো ঘামের সাথে লবন হিসেবে থাকে। এই জন্য ঘাম নোনতা স্বাদের হয়।

এবার আসুন ফটাফট জেনে নেই ঘাম নিয়ে 15 টি মজার তথ্যঃ

১।ঘামের প্রায় 90 ভাগই পানি।বিশুদ্ধ  ঘামের কোন গন্ধ হয়না, কোন রং হয় না। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ঘামের সাথে মিশে বিভিন্ন বিক্রিয়ার মাধ্যমে গন্ধ তৈরি করে।

২।বগল ও কুঁচকিতে অবস্থিত ঘর্মগ্রন্থি গুলো অ্যাপোক্রিন ঘর্মগ্রন্থি নামে পরিচিত এদের থেকে ক্ষরিত ঘাম দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।

ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য
ঘর্ম-গ্রন্থি

৩।একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবে বছরে প্রায় 278 গ্যালন ঘাম তৈরি করে।স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের দেহ থেকে গরম আবহাওয়াগত কারণে দিনে 100 মিলিলিটার ঘাম বের হয়।বেশি পরিশ্রমী মানুষের দেহ থেকে 350 মিলিলিটার ঘাম বের হয়।

আপনি শুনলে অবাক হবেন যে, একজন মানুষের দেহ থেকে প্রতি ঘন্টায় সর্বোচ্চ 2 লিটার পর্যন্ত ঘাম বের হতে পারে।একজন মানুষ দিনে প্রায় ২৪ লিটার পর্যন্ত ঘামতে পারে।অবাক হচ্ছেন, তাই না?

ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য

৪।অনেকেই বলে থাকে ঘামলে ওজন কমে।একারণে সকাল অথবা বিকেলে পার্কে মোটা মানুষদের অনেক দৌড়াদৌড়ি, হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। কিন্তু সত্যি কথা হলো ঘামলে ওজন কমে না। কারণ ঘাম মূলত পানি। ঘামার ফলে যে পানি দেহ থেকে হারিয়ে যায় তা পান করলে পুনরায় দেহের ওজন ফিরে আসবে।

(আরো পড়ুন-ঘাম কি? মানুষ ঘামে কেন? নারীর সতীত্ব বা কুমারীত্ব কি? জীবিত মানুষ পানিতে ডুবে যায় কিন্তু মৃতদেহ পানিতে ভাসে কেন?)

৪।কান, নখ, ঠোঁটে ঘর্মগ্রন্থি নেই। এ অঙ্গগুলো ঘামে না।

ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য
ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য

৫।এটি একটি অবাক করা তথ্য যে, প্রত্যেক ব্যক্তির ঘামের গন্ধ নির্দিষ্ট। একজনের ঘামের গন্ধের সাথে অন্যজনের ঘামের গন্ধের মিল নেই। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেখে যেমন মানুষকে শনাক্ত করা হয় তেমনি ঘামের গন্ধ দেখেও মানুষকে শনাক্ত করা যায়।

পুলিশের গোয়েন্দাদের কাছে যে কুকুরগুলো থাকে এ কুকুরগুলো মানুষের ঘামের গন্ধ শুঁকে শুঁকে মানুষকে খুঁজে বের করে।

ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য

৬।মানুষের মতো অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীরাও ঘামে।যেমন ঘোড়া মানুষের মতোই ঘামে।

৭।জলহস্তীর ঘাম লাল রঙের।জলহস্তির এই লাল রঙের ঘাম  এন্টিবায়োটিক ও সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে। কি লাগবে নাকি এক কৌটা সানস্ক্রিন? 

৬।ঘামে ডার্মিসিন নামে একটি উপাদান থাকে। এই উপাদান এন্টিবায়োটিক এর মত কাজ করে। এটি ত্বকের উপর বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয় তাদের বংশবৃদ্ধি রোধ করে আরও অনেক জীবাণুর হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

ঘাম নিয়ে ১৫টি মজার তথ্য

৮।অনেক মানুষের জলহস্তির মত লাল রঙ্গের ঘাম হয়। এটা এক ধরনের রোগ এই রোগকে বলা হয় হেমাটোহাইড্রোসিস। রক্তের ধমনীর মুখ ফেটে গিয়ে ঘর্মগ্রন্থির সাথে যুক্ত হলে এরকম রক্তযুক্ত ঘাম হয়। 

৯।আপনি জানলে অবাক হবেন যে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ঘর্মগ্রন্থি অনেক বেশি কিন্তু ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় প্রায় দুই গুণ বেশি ঘামে।বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের ঘাম হওয়ার পরিমাণ কমে যায়। 

১০।দেহের যে অংশ স্পর্শ করা হয় তা অস্পর্শ অংশ থেকে বেশি ঘামে।

১১।যাদের ত্বকে অ্যালার্জি আছে তারা যদি ঘেমে যান তাহলে তাদের ত্বকের এলার্জি বেড়ে যায় 

১২।যারা মাংস খায় না তাদের ঘামের দুর্গন্ধ যারা মাংস খায় তাদের ঘামের দুর্গন্ধ অপেক্ষা অনেক কম। 

১৩।সিস্টিক ফাইব্রসিস রোগের পরীক্ষা করা হয় ঘামের সাথে বের হওয়া লবণের পরিমাণ পরীক্ষা করে।

১৪।আবেগের সাথে ঘামের গন্ধের সম্পর্ক আছে। ভয় পেয়ে ঘামলে ঘামের একরকম দুর্গন্ধ হয় আবার উত্তেজনায় ঘামলে ঘামের আলাদা গন্ধ হয়। 

১৫।ঘামে 373 টি উদ্বায়ী পদার্থ থাকতে পারে।

pacemaker santo


https://kotokisuojana.com
লেখাটি ভালো লাগলে আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুণ।জ্ঞান বিতরণে সাহায্য করুন। আপনি ভালো লিখতে পারলে এই ওয়েবসাইট এ লেখা পাঠান।লেখা মনোনীত হলে পুরস্কার পাবেন।

আপনার মাথায় উদ্ভট কোন প্রশ্ন ঘুরছে কিন্তু উত্তর পাচ্ছেন না। তাহলে দেরি না করে এই পোস্টের নিচে কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন টি লিখুন।উত্তর পাবেন নিশ্চিত।
ধন্যবাদ

89 / 100

Leave a Comment