তিমির আত্মহত্যা করার কারণ কি?

তিমির আত্মহত্যা করার কারণ কি?
মৃত্যুর কথা শুনলেই আমাদের অন্তরআত্মা কেপে উঠে, অজানা আতঙ্ক মনের মধ্যে নাড়াদিয়ে উঠে। কিন্তু আপনি কি জানেন অনেকে এই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে সেচ্ছায় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে।

মানুষের ক্ষেত্রে এমন আত্মহত্যার খবর শুনে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু প্রাণিজগৎে আরো অনেক প্রাণী আছে যারা আত্মহত্যা করে। এমনি এক আজব প্রাণী হলো তিমি মাছ। আসুন আজ জানাযাক তিমি আত্মহত্যা করে কেন?তিমির আত্মহত্যা করার কারণ কি?

আপনি আরো পড়তে পারেন…. তিমি মাছের বমি মহামূল্যবান কেন?

তিমি আত্মহত্যা করে কেন?

লেমিং নামে এক প্রজাতির প্রাণী আছে যারা, নিজেদের জনসংখ্যা অত্যধিক বেড়ে গেলে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ রােধ করার জন্য নিজেরা দলবেধে আত্মহত্যা করে। সত্যি অবাক করার মত তথ্য! অবাক হলেও এ কথাই সত্য যে তারা নিজ স্বজাতির জনসংখ্যার হার সীমাবদ্ধ রাখার জন্য আত্মহত্যা করে থাকে।

লেমিং প্রাণীর ছবি, লেমিং আত্মহত্যা করে
লেমিং প্রাণীর ছবি

সাধারণত, দৌড়ােতে থাকা পশুর পালে ঝাঁপ দিয়ে এবং সমুদ্র উপকূলীয় উঁচু পাহাড় থেকে ঝাপ দেয়ার মাধ্যমে তারা আত্মহননের কাজটি করে থাকে।

পৃথিবীর অনেক দেশের সমুদ্র সৈকতে দলবেধে তিমির আত্মহত্যা করার সংবাদ শোনা যায়। কিন্তু তাদের এই রহস্যময় আচরণের এখন পর্যন্ত কোনাে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তিমির আত্মহত্যা করার কারণ কি?

তিমির আত্মহত্যার কিছু সম্ভাব্য কারণ প্রাণিবিজ্ঞানিরা আন্দাজ করেছেন। এগুলো হলো-

শারীরিক অক্ষমতা

অসুস্থতা,দুর্ঘটনাবশত আহত,অতি বৃদ্ধ হওয়া ইত্যাদি কারনে শিকারীর সহজ টার্গেটে পরিণত হয়। এসময় এরা সহজে শিকারি প্রাণী যেমন-ক্যাচাল্টো,হাঙ্গর, কিলার হোয়েল ইত্যাদির খাদ্যে পরিণত হয়।

এই রকম শারীরিক অক্ষমতার কারণে শিকারীর নজর এড়াতে এরা গভির সমুদ্র ছেড়ে সৈকতের কাছাকাছি অগভীর জলে অবস্থান করে। কিন্তু ভাটার সময় জল কমে গেলে আর ফিরে যেতে পারেনা, তখন সৈকতের চোরাবালিতে আটকে যায়।

পর্যাপ্ত পানির অভাবে এদের দেহের তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। কারণ এদের দেহের ত্বকের নিচে মোটা চর্বির প্যাড থাকে এটা এর দেহকে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ঠাণ্ডা পানির কারণে এই চর্বি তাপমাত্রা ধরে রেখে দেহকে উষ্ণ রাখে। অতি তাপমাত্রার কারণে শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ বন্ধ হয়ে তিমির মৃত্যু ঘটে। পানির অভাবে এদের অসমোরেগুলেসন প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য নষ্ঠ হয়েও মৃত্যু ঘটে।

শ্বাস গ্রহণের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা

তিমি জলে থাকলেও এরা মাছ নয় কারণ মাছেরা ফুলকা দিয়ে পানিতে দ্রবিভূত অক্সিজেন গ্রহন করে কিন্তু তিমি ফুসফুসের সাহায্যে বাতাসের অক্সিজেন গ্রহণ করে। এদের ফুসফুসের সংকোচন- প্রসারণ ক্ষমতা এবং বাতাস ধারণ ক্ষমতা স্থলচর প্রাণিদের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এরা একবার শ্বাস নিয়ে প্রায় ৪০-৫০ মিনিট অনায়াসে পানির নিচে ডুবে থাকতে পারে।

তারা এক কিলোমিটার নিচে গিয়েও শিকার ধরে আনতে পারে। ফুসফুসের বাতাস ফুরিয়ে গেলে আবার পানিতে ভেসে উঠে। এটা একটি ছন্দময় প্রক্রিয়া। মানে প্রতি ৪০ মিনিট পরপর পানির উপর ভেসে উঠা আবার পানিতে ডুব দেয়া। দৃশ্যটি দেখতে বেশ ভালো লাগে।

তিমি কিভাবে শ্বাস নেয়? তিমির শ্বাস নেয়ার কৌশল।
তিমির শ্বাস গ্রহণ

গভীর পানিতে ডুব দেয়ার পর কোন কারণে শ্বাস গ্রহণ করার জন্য উপরে উঠতে দেরি হলে শ্বাস গ্রহণের ছন্দময় প্রক্রিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয় ফলে তিমি দুর্বল হয়ে পরে এবং পানিতে ভাসতে থাকে। একসময় জোয়ারের স্রোতের টানে সৈকতের অগভির জলে চলে আসে এবং আটকে পরে মৃত্যুবরণ করে।

শ্বাস নিতে না পারলে দেহে অক্সিজেনের ঘাটতি হয় এতে পেশি দুর্বল হয়ে যায়,দেহের শক্তি কমে যায়, তখন এরা চাইলেও আর জোয়ারের প্রবল স্রোতের বিপরিতে গভীর সমুদ্রে ফিরতে পারে না বরণ করে অকাল মৃত্যু। শিকারীর জালে আটকা পরেও দমবন্ধ হয়ে এদের মৃত্যু ঘটতে পারে।

পথ ভুলে যাওয়া

শিকারের পেছনে ছুটতে ছুটতে এরা পথ ভুলে তীরের কাছে এসে অগভীর পানিতে আটকে পরে। বিশাল শরীরের ভারে এরা আর চলতে পারেনা। এসময় এদের অকাল মৃত্যু ঘটে।

নেতার অসুস্থতা

দলের নেতাকে অনুসরণ করে চলে দলের অন্যান্য সদস্য। নেতা কোন কারণে অগভির পানিতে দলবল সহ খাবার সন্ধান করতে এসে অসুস্থ হলে আর গভির পানিতে ফিরতে পারেনা তখন নেতার দেখাদেখি অন্য সদস্যরাও তার কাছে এসে মৃত্যুবরণ করে। অনেকসময় নেতার মৃত্যু ঘটলেও নির্দেশনার অভাবে অন্য সদস্যরা মারাযায়।

দলের নেতা অসুস্থ হলে তিমি ভুল সংকেত পেয়ে আত্মহত্যা করে
দলের নেতা অসুস্থ হলে তিমি ভুল সংকেত পেয়ে আত্মহত্যা করে

উদাহরণস্বরূপ, একটি কেস রেকর্ড করা হয়েছিল যা ২০১২ সালে স্কটল্যান্ডের উপকূলের কাছে ঘটেছিল। সৈকতে মৃত ডলফিনের একটি পুরো ঝাঁক আবিষ্কার হয়েছিল। এদের মধ্যে একটি বৃদ্ধ অসুস্থ পুরুষ সদস্য ছিল। একে দলের নেতা বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে এই অসুস্থ নেতার করণেই পুরো দলের মৃত্যু হয়েছে।তিমির আত্মহত্যা র এটি একটি বড় ঘটনা।

স্বজাতীর প্রতি ভালোবাসা

তিমি সামাজিক প্রানী। এরা দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। প্রত্যেক দলে অনেক সদস্য থাকে। দলের সকল সদস্য নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য এক ধরণের সূক্ষ্ম শব্দ ব্যবহার করে।

এটি অনেকটা শিস দিয়ে ডাকার মত। দলের কোন সদস্য দলছুট হয়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে সাহায্যের জন্য অন্যদের ডাকতে শিস দেয়। এই শিস শুনে অন্য সদস্যরা বিপদগ্রস্ত তিমিকে বাঁচাতে ছুটে যায়।

তিমি সামাজিক প্রাণী
তিমি সামাজিক প্রাণী


দলের কোন সদস্য যখন স্রোতের কারণে অগভীর পানিতে আটকা পড়ে যায়। তখন তাকে বাঁচানাের জন্য ছুটে আসে তার সঙ্গীরা এবং তারাও একসাথে আটকা পড়ে যায়। একজনের কারণে দলের সবার প্রাণ দিতে হয়। এটাকে বলে তিমির দলীয় আত্মহত্যা।

তিমি আত্মহত্যা করে কেন?
ভারতের গোয়া সৈকতে তিমির মৃতদেহ


একবার ভারতের গোয়া রাজ্যের সমূদ্র সৈকতে ১৫০ এবং নিউজিল্যান্ডের সৈকতে ৩০০ তিমির মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। গোয়া রাজ্যের জেলেদের কাছ থেকে শোনা যায়, তারা প্রথমদিন আটকে পরা তিমি গুলোকে অনেক কষ্টে গভির জলে ফেরত পাঠায় কিন্তু পরের দিন আবার তিমিগুলো সেচ্ছায় সৈকতে এসে আত্মহত্যা করে।

সঙ্গীর প্রতি নিখাঁদ ভালোবাসা

প্রাপ্ত বয়ষ্ক তিমি জীবন সঙ্গী হিসেবে একজনকে বেছে নেয়। সন্তান জন্ম দেয়া তাকে লালন পালন করা পর্যন্ত এই সঙ্গী কখনো আলাদা হয় না। সন্তানের দায়িত্ব স্বামী-স্ত্রী সমানভাবে পালন করে।

সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ তিমির অনেক বেশি।পুরুষ বা স্ত্রী সঙ্গীর কেউ বিপদে পরলে তাকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়। তাই কোন সদস্য অগভির জলে আটকে গেলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে অন্য সঙ্গী মারা যায়।

তিমি সঙ্গীকে খুব ভালোবাসে, তিমি আত্মহত্যা করে কিভাবে?
তিমি সঙ্গীকে খুব ভালোবাসে


” তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবোনা” সিনেমার এই ডায়ালগের বাস্তব রূপ দেখা যায় তিমির ক্ষেত্রে।

সাবমেরিন ও নৌযানের সোনার

তিমি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য যে সূক্ষ্ম শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে এটা এক ধরণের সোনার এর মত। নৌযান ও সাবমেরিন চলাচলের সময় এইরকম সোনার ব্যবহার করে। কোন তিমি দল ছেড়ে দূরে গেলে যখন দলের কাছে ফিরে আসতে চায় তখন সোনারের সাহায্যে যোগাযোগ করে।

কিন্তু মানুষের সাবমেরিনের সোনার ঐ সময় সমুদ্রে নিক্ষেপ করলে তিমির সোনার আর কাজ করে না। তাদের যোগাযোগ মাধ্যম নষ্ট হয়ে যায়। এই দলছুট তিমি এবার পথ হারিয়ে শিকারের সহজ শিকারে পরিণত হয়।অনেক সময় এই দলছুট তিমিগুলো দীর্ঘদিন যাবৎ নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করে।

সাবমেরিনের কারণে তিমির মৃত্যু ঘটে।
সাবমেরিন

একসময় বিষণ্নতায় ভুগে মারা যায়। আবার সাবমেরিন বা কোন নৌযানের সোনারে বিভ্রান্ত হয়ে অনেক তিমি পথ হারিয়ে সাবমেরিনের পিছু ছুটতে থাকে এবং একসময় সৈকতের অগভির জলে আটকা পরে মৃত্যুবরণ করে।

সামুদ্রিক পরিবেশ দূষণ

মানব ক্রিয়াকলাপ প্রায় সর্বদা অন্যান্য প্রাণির ক্ষতি করে। তিমি এর ব্যতিক্রম নয়। প্রতি বছর, বিশাল পরিমাণ আবর্জনা মহাসাগরে প্রবেশ করে, সংখ্যায় এটি এক মিলিয়ন টনেরও বেশি। এই আবর্জনাতে প্রচুর রাসায়নিক পদার্থ থাকে। তিমি এই আবর্জনাকে খাদ্যভেবে ভুল করে এবং সৈকতে এসে আটকা পরে।

তিমির পেটে প্লাসটিক
তিমির পেটে প্লাসটিক

তিমি কিভাবে আত্মহত্যা করে?

দলের কোন সদস্য যখন স্রোতের কারণে অগভীর পানিতে আটকা পড়ে যায়। তখন তাকে বাঁচানাের জন্য ছুটে আসে তার সঙ্গীরা এবং তারাও একসাথে আটকা পড়ে যায়। একজনের কারণে দলের সবার প্রাণ দিতে হয়। এটাকে বলে তিমির দলীয় আত্মহত্যা।

Timi suicide kore keno?

Timi suicide kore keno? Timir attohottar karon ki? timi mas keno attohotta kore? timi dol bedhe suicide kore keno?

Please click on Just one Add to Help Us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।