পাঠাঁর গায়ে গন্ধ হয় কেন? পাঠাঁর গন্ধ রহস্য।

পাঠাঁর গন্ধ রহস্য!পাঠাঁর গায়ে গন্ধ হয় কেন?

শীতের কালে কোন বন্ধু দুই-তিন দিন গোসল না করলে অনেকের গায়ে গন্ধ বের হয় তখন আমরা বলি তোর কাছে কে পাঠাঁর গন্ধ বের হচ্ছে। আবার প্রচন্ড গরমে ঘেমে গেলে অনেকের গা থেকে বিশ্রী গন্ধ বের হয়। তখনো পাঠাঁর গন্ধ অপবাদ শুনতে হয়। কোন বাড়িতে পাঠা পালন করা হলে সেই বাড়ির আশেপাশে যাওয়া কঠিন হয়ে যায়, পাঠার গন্ধে নাড়িভুঁড়ি উল্টে আসে।

যাইহোক পাঠার গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে আপনার মাথায় নিশ্চয় প্রশ্ন ঘোরে, শালা পাঠাঁর গায়ে এতো গন্ধ কেন হয়? তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে লেখাটি পড়ে ফেলুন।

আপনি আরো পড়তে পারেন…. সুইসাইড প্লান্ট মানুষকে আত্মহত্যায় বাধ্য করে

গাধা সম্পর্কে ২৫টি বিস্ময়কর তথ্য

পাঠাঁর গায়ে গন্ধ হওয়ার কারণ

পাঠাঁর শরীরে এবং ঘামে ক্যাপরোয়িক এসিড(C6H12O2) আছে যার কারণে পাঠাঁর গায়ে গন্ধ হয়। আবার প্রজননের মাধ্যমে ক্যাপরোয়িক এসিড ছাগীর শরীরে যায় ফলে ছাগলের দুধেও হালকা গন্ধ থাকে।

পাঠাঁর গায়ে গন্ধ হওয়ার কারণ ক্যাপরোয়িক এসিড
ক্যাপরোয়িক এসিড

ক্যাপরোয়িক এসিড ছাড়াও আরো কিছু রাসায়নিক উপাদান আছে যার কারণে পাঠাঁর গায়ে গন্ধ হয়। এই রাসায়নিক পদার্থ গুলো হলো- 4-ethyl-octanoic, -decanoic, -dodecanoic and -tetradecanoic acids. এই রাসায়নিক পদার্থগুলো হলো এক ধরনের ফ্যাটি এসিড।

পাঠাঁর গন্ধ গ্রন্থি

পাঠার গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে আপনি হয়তো ভাবছেন এতো গন্ধ পাঁঠার গায়ে কোথায় তৈরি হয়? এ প্রশ্নের একটি অবাক উত্তর রয়েছে আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না। পাঠার মাথায় অবস্থিত বড় দুটি শিং এর গোড়ায় এক বিশেষ গ্রন্থি থাকে। এই গ্রন্থির নাম করনুয়াল গ্রন্থি(cornual gland)।

পাঠাঁর গন্ধ গ্রন্থি করনুয়াল গ্রন্থি
পাঠার গন্ধ গ্রন্থি

করনুয়াল গ্রন্থি থেকে পাঠাঁর বিশ্রী গন্ধ বের হয়। পাঠার শুক্রাশয়ে টেস্টোস্টেরন ও এন্ড্রোজেন হরমোন উৎপন্ন হয়। এ হরমোন রক্তের সাথে পরিবাহিত হয় গন্ধ গ্রন্থিতে তে পৌঁছায়। টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাবেে করনুয়াল গ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং গন্ধ নিঃসরণ করে। করনুয়াল গ্রন্থি এক ধরণের রূপান্তরিত তৈল গ্রন্থি।

পাঠাঁর গন্ধের রহস্য

প্রজননকালে কোন প্রাণী প্রজনন ক্ষমতা লাভ করলে তার গা থেকে বিশেষ ধরনের গন্ধ ক্ষরিত হয়। এই গন্ধ প্রাণির যৌবন প্রাপ্তির সংকেত নির্দেশ করে। এই বিশেষ ধরনের গন্ধকে বলা হয় সেক্সফেরোমন। সেক্সফেরোমন এর সাহায্যে পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়ই প্রাণী একে অপরকে প্রজননের জন্য আকৃষ্ট করে।

কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও অনেক প্রাণীই সেক্সফেরোমন এর গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে একে অপরের সাথে মিলিত হয়? আপনি একে গন্ধবিশিষ্ট প্রেমপত্র বলতে পারেন। প্রজননকালে পাঠার শুক্রাশয় থেকে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। টেস্টোস্টেরন হরমোন রক্তের মাধ্যমে করনোয়াল গ্রন্থিতে পরিবাহিত হয় ফলে এই গ্রন্থি প্রচুর পরিমাণে গন্ধ নিঃসরণ করে।

টেস্টোস্টেরন হরমোন
টেস্টোস্টেরন হরমোন

পাঠাঁর মূত্রের মাধ্যমে সেক্সফেরোমন ক্ষরিত হয়। এদের মূত্রও বেশ গন্ধযুক্ত হয়। পাঠা মূত্র ত্যাগের সময় নিজের মুখে মূত্র লাগিয়ে নেয় এবং সারা গায়ে ঘষে ঘষে মূত্র লাগায়। এর ফলে পাঠাঁর পশমেও গন্ধ থাকে। শরীরে অনেকক্ষণ গন্ধ ধরে রাখার জন্য নিজের খেয়ে নিজের মূত্র মাখার মত এই বিশ্রী কাজটি তারা করে থাকে। একবার পারফিউম দিয়ে অনেকক্ষণ গন্ধ ধরে রাখার মতো অবস্থার কি। হুম! আপনার বোধহয় ফগ বডি স্প্রের কথা মনে পড়ে গেল।

পাঠাঁ মূত্র ত্যাগের সময় নিজের মুখে মূত্র লাগিয়ে নেয় এবং সারা গায়ে ঘষে ঘষে মূত্র লাগায়।
পাঠা মুত্র ছিটিয়ে দেয়

সেক্সফেরোমন এর গন্ধ শুঁকে স্ত্রী ছাগল উত্তেজিত হয় এবং মিলনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। গন্ধের প্রভাবে স্ত্রী ছাগলের ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু ক্ষরণ হয়। এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন পাঠাঁর গন্ধ আপনার জন্য বিরক্তিকর হলেও ছাগলের বংশ রক্ষায় এই গন্ধের বিকল্প নেই।

পাঠার গায়ে কখন বেশি গন্ধ থাকে?

বর্ষাকালের শেষ থেকে শুরু করে পুরো শরৎকাল ছাগলের প্রজনন এর উপযুক্ত সময়। এই সময়ে পাঠাঁর গায়ে বেশি গন্ধ থাকে।

খাসির গায়ে গন্ধ থাকে না কেন?

আপনার মনের নিশ্চয়ই এখন প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। পাঠাঁর মতো খাসির মাথায় তো শিং থাকে তারপরেও কেন খাসির গায়ে গন্ধ থাকে না। ঠিক বলেছেন! খাসির মাথায় শিংয়ের গোড়ায় গন্ধ গ্রন্থি আছে ঠিক পাঠার মত কিন্তু পাঠার মতো খাসির তো অন্ডকোষ বা শুক্রাশয় নেই।

তাই এদের টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন হয় না। হরমোন উৎপাদন না হলে গন্ধ গ্রন্থি উত্তেজিত হয়না এর ফলে গন্ধ গ্রন্থি থেকে গন্ধও নিঃসরিত হয় না। তাই পাঠাঁর মতো খাসির গায়ে গন্ধ থাকে না।

খাসির গায়ে গন্ধ থাকে না কেন?
পাঠার শুক্রাশয়

বোকা পাঠা গালির যৌক্তিকতা কতটুকু?

শক্তপোক্ত দৈহিক গঠন বিশিষ্ট কোন পুরুষ মানুষ যদি ভুল করে ফেলে তাহলে আমরা সচরাচর যে গালি দেই তা হল বোকা পাঠা। কিন্তু আপনি জানেন কি? পাঠা আসলে বোকা নয়। মানুষ কফির ব্যবহার শিখেছে পাঠার বংশধরের কাছ থেকে।

ছাগল কফি আবিষ্কারক
ছাগল কফি আবিষ্কারক

ধারণা করা হয় ইথিওপিয়ার এক রাখাল জঙ্গলে প্রতিদিন ছাগল চড়াতো। তার ছাগলগুলো রাতে কম ঘুমাতো এবং সব সময় চাঙ্গা থাকতো। রাখাল টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখল ছাগলটি এক বিশেষ গাছের ফল ও পাতা খায়। সে গাছ টি নিজের সাথে করে লোকালয়ে নিয়ে আসলো। এবার লোকালয়ের মানুষজন গাছের ফল খেয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখলো সত্যি সত্যি এই গাছের ফল খেলে ক্লান্তি দূর হয় শরীর চাঙ্গা থাকে। এভাবে আবিষ্কার হয় কফি। তবে ছাগল বেশ অলস তাই আপনি মানুষকে বোকা পাঁঠা না বলে আলসে ছাগল বলে গালি দিতে পারেন নিশ্চিত।

অলস ছাগলের ঘুম
অলস ছাগলের ঘুম

pacemaker santo

লেখাটি ভালো লাগলে আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুণ।জ্ঞান বিতরণে সাহায্য করুন। আপনি ভালো লিখতে পারলে এই ওয়েবসাইট এ লেখা পাঠান।লেখা মনোনীত হলে পুরস্কার পাবেন।

আপনার মাথায় উদ্ভট কোন প্রশ্ন ঘুরছে কিন্তু উত্তর পাচ্ছেন না। তাহলে দেরি না করে এই পোস্টের নিচে কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন টি লিখুন।উত্তর পাবেন নিশ্চিত।

All photo credit goes to sutterstock.com

88 / 100