প্যারাসুট কী? প্যারাসুট এর ইতিহাস,গঠন,কাজ#

Table Of Contents
  1. প্যারাসুট কী? প্যারাসুট এর ইতিহাস,গঠন,কাজ#
  2. প্যারাশুট
  3. প্যারাশুটের প্রকারভেদ
  4. প্যারাসুটের ব্যবহার

প্যারাসুট কী? প্যারাসুট এর ইতিহাস,গঠন,কাজ#

যুদ্ধের সময় আকাশপথে যুদ্ধরত সৈনিক বোমারু বিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে অবতরণ করে। অনেকসময় উদ্ধারকাজে দুর্গম স্থানে জরুরি অবতরণের জন্য বিমান বা হেলিকপ্টার থেকে নামার জন্য প্যারাসুটের ব্যবহার করা হয়। হাল আমলে শখের বশে স্কাই ডাইভিং,প্যারাগ্লাইডিং, স্কাই জাম্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্যারাশুট ব্যবহার করা হয়।

প্যারাসুট কী? প্যারাসুটের ইতিহাস,গঠন,কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা খুব কমই আছে। তাই আজ আসুন প্যারাশুটের নাড়িভুঁড়ি বের করি জেনে নেই প্যারাসুটের অদ্যপান্ত…..

প্যারাসুট কী? প্যারাসুটের ইতিহাস,গঠন,কাজ#
প্যারাসুট

আপনি আরো পড়তে পারেন… বিমানে প্যারাসুট থাকে না কেন?

প্যারাসুট কি?

উচু স্থান থেকে পতনের সময় বাতাসের সাথে বাঁধা সৃষ্টি করে বস্তুর পতনের হার হ্রাস করে এমন কাপড় নির্মিত যন্ত্রকে প্যারাশুট বলে।

উইকিপেডিয়া

প্যারাশুট

আকৃতি: ছাতার মত
ওজন: ২০-২২ কেজি। তবে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্কাই ড্রাইভারদের প্যারাসুট এর ওজন কম হয় এদের ব্যবহৃত প্যারাশুটের ওজন ৬-১০ কেজি হয়।
আয়তন: ৩০ ফিট জায়গা দখল করতে পারে খোলা অবস্থায়।অনেকক্ষেত্রে এটার আয়তন 80-200 বর্গফুট হতে পারে।
মূল্য: 20000 টাকা থেকে 80000 টাকা পর্যন্ত

প্যারাসুটের গঠন
প্যারাসুটের গঠন

প্যারাসুট শব্দের উৎপত্তি

ফরাসি ভাষার শব্দ “প্যারাসিট” হতে প্যারাসুট শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। ‘প্যারা’ শব্দ আবার গ্রিক ভাষা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।গ্রিক শব্দ ‘প্যারা’ অর্থ রক্ষাকরা এবং ফরাসি শব্দ ‘স্যুট’ অর্থ পতন। তাহলে দুটি শব্দ একত্রিত করলে অর্থ দাড়ায় পতন থেকে রক্ষা করা।“প্যারা” এবং “স্যুট” শব্দ দুটি যুক্ত করে “প্যারাশ্যুট” শব্দটির উদ্ভাবন করেন লেনোরমান্ড ১৭৮৫ সালে ।

প্যারাসুট আবিষ্কারের ইতিহাস:

খৃষ্টপূর্ব ২০০ শতকে চীনে একটি গল্প প্রচলিত ছিল যে একজন রাজা পাহার থেকে খড়কুটো দিয়ে বানানো চোঙ্গাকার যন্ত্রের সাহায্যে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করেছিলেন। এটি প্যারাসুটের সবচেয়ে পুরাতন ধারণা বলে মনে করা হয়।

প্যারাশুটের ইতিহাস
প্যারাশুটের ইতিহাস

রেনেসাঁ যুগে প্যারাসুট:

ইতালির রেনেসাঁ যুগে মানব সভ্যতার যে অভূতপূর্ণ অগ্রগতি সাধন হয়েছিল তা আর কোন সময় হয় নি। এ সময় অনেক যুগশ্রেষ্ট মনিষীর একসাথে আবির্ভাব ঘঠেছিল। ১৪৭০ সালে অজ্ঞাত কোন চিত্র শিল্পীর হাতে আঁকা প্যারাশুটের ছবি পাওয়া যায় ইতালি থেকে। এটিই সবচেয়ে প্রাচীন প্যারাশুটের চিত্র। চিত্রটিতে একজন মানুষে মোচাকৃতির যন্ত্রের সাহায্যে উপর থেকে নিচে নামছে এমন দৃশ্য অঙ্কন করা আছে।

এর কিছু বছর পরে আরো একটি চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়, এই চিত্রে দেখা যায় একজন মানুষ দুটি লাঠির সাথে কাপড় বেঁধে ছাতার মত করে উপর থেকে নিচে নামার চেষ্টা করছে। ছবিতে দেখানো কাপড়ের আয়তন খুবই কম ছিলো যা দিয়ে একজন মানুষের পতনের গতি রোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই চিত্রটি আধুনিক যুগের মানুষের মনে প্যারাশুট আবিষ্কারের চিন্তাকে একধাপ এগিয়ে নেয়।

দ্য ভিঞ্চির প্যারাশুট নকশা:

রেনেসাঁ যুগের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি প্যারাশুটের একটি নিখুঁত ও জটিল নকশা অঙ্কন করে। তার নকশাটি দেখতে কিছুটা পিরামিড আকৃতির ছিলো।নকশা অনুসারে প্যারাশুটের প্রধান ধারক ছিলো চৌকোনা কাঠের তৈরি পাটাতন।কাঠের পাটাতনের সাথে পিরামিডের মত লিলেন কাপড়ের গঠন ছিলো। তিনি নকশাটি নিজের লেখা বই ‘কোডেক্স এটল্যান্টিকাস’ এ প্রথম প্রকাশ করেন।

সে যুগে ভিঞ্চির নকশা অনুসারে প্যারাশুট তৈরি করা হয়েছিল না হয়নি তা জানাযায় নি।তবে ২০০০ সালে আড্রিয়ান নিকোলাস ইংল্যান্ডে ভিঞ্চির নকশা অনুসারে প্যারাশুট বানিয়ে সফলভাবে এর কার্যকারিতা প্রমাণ করেন।

ফুসটো ভারনাজিয়ো এর প্যারাশুট:

ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানী ফুসটো ভারনাজিয়ো ভিঞ্চির নকশাটি পরিবর্ধন করে একটি নতুন নকশা প্রণয়ন করে। তিনি ভিঞ্চির চৌকোণা কাঠের পাটাতনের গঠন ঠিক রেখে পিরামিডের মত কাপড়ের পরিবর্তে নৌকার পালে ব্যবহৃত কাপড় ব্যবহার করেন। এটি বেশ ভালোভাবে পতনের গতি কমাতে পারতো।তার নিজের লেখা বই “মেশিন নোভা” নকশাটি প্রকাশ করেন।

১৬১৭ সালে ফুসটো ভারনাজিয়ো ভেনিসের সেন্ট মার্কস ক্যাম্পান্যাইল থেকে লাফ দিয়ে তার নিজের নকশার প্যারাশ্যুটটি পরীক্ষা করেন।

লেনোরমান্ড এর প্যারাশুট

১৭০০ সালের সমাপ্তিলগ্নে ফ্রেঞ্চ বিজ্ঞানী লুইস সুবাস্টিয়ান লেনোরমান্ড প্রথম আধুনিক প্যারাশুট এর নকশা আবিষ্কার করেণ। লেনোরমান্ড ১৭৮৩ সালে সর্বপ্রথম জনসম্মুক্ষে প্যারাশুট নিয়ে লাফ দেন। ১৭৮৫ সালে লেনোরমান্ড প্রথম “প্যারাসুট” শব্দটি ব্যবহার করেন যা আজঅব্দি প্রচলিত আছে।

এরপর থেকে বিভিন্ন রূপান্তের মাধ্যমে আজকের আধুনিক প্যারাশুট নিজের রূপ ধারণ করেছে। প্রথমদিকে প্যারাশুটগুলোতে লিলেনের কাপড় ব্যবহার করা হলেও পরবর্তিতে রেশমের কাপড় ব্যবহার করা হয় বেশি ভার বহনের কারণে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্যারাশুট ব্যবহার:

বিমান থেকে জরুরি অবতারণের জন্য প্যারাসুটের প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি অনুভব করা যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়।চার্লস ব্রডউইক ১৯০৬ জনসম্মুখে আধুনিক প্যারাশুটের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন।তিনি বাষ্পভরা বেলুনে চড়ে সেখান থেকে লাফ দেন লাফ দেয়ার আগে প্যারাশুট তার পিঠে একটি ব্যাগে ভাঁজকরা অবস্থায় ছিলো। তিনি সঠিক সময়ে প্যারাশুট খুলে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করেন।

তার এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষ প্রথম জানতে পারে যে, কিভাবে স্মার্ট উপায়ে প্যারাশুটের ব্যবহার করে আকাশ থেকে লাফ দেয়া যায়। তারপর থেকে পরিধানযোগ্য প্যারাশুট আবিষ্কার করা হয় এতে প্যারাশুট এর আকার ওজন দুটোই কমে যায় এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য হয়।পরিধানযোগ্য প্যারাশ্যুটের প্রথম সংস্করন পরীক্ষা করতে গিয়ে ১৯১২ সালের ৪ ফেব্রুরারী ফ্রেঞ্জ রেইচেল্ট মৃত্যুবরণ করেন।

প্যারাসুটের গঠন

প্যারাসুটের গঠন

প্যারাসুটের গঠন
প্যারাসুটের গঠন
  1. পাইলট স্যুট
  2. ব্রাইডল
  3. এপেক্স বা টপ ভেন্ট
  4. ক্যানোপি বা ছাতা
  5. স্কার্ট
  6. সাসপেনশন লাইন
  7. ,লিঙ্ক
  8. রাইজার
  9. কন্ট্রোল লাইন
  10. ধারক

পাইলট স্যুট:

একটি ছোট প্যারাশুট যা বড়, প্রধান প্যারাশুট খুলে দেয়।

ব্রাইডল:

পাইলট সুটকে প্রধান প্যারাশুট এর সাথে সংযুক্ত করে।

এপেক্স বা টপ ভেন্ট:

প্রধান স্যুটের ওপর দিকে একটি ছিদ্র থাকে একে এপেক্স বা টপ ভেন্ট বলে।এর মাধ্যমে বাতাস ধিরে ধিরে ক্যানোপি থেকে বের হয়ে যায়।এটি ক্যানোপির পাশ থেকে বাতাস বেরিয়ে যাওয়া রোধ করে।

ক্যানোপি বা ছাতা

প্যারাশুটের প্রধান অংশ। এটি কাপর দিয়ে তৈরি ছাতার মত একটি গঠন। পতনের সময় আরোহীর বেগ কমিয়ে দেয় ক্যানোপি বা ছাতা। এর আকার বিভিন্ন রকম হতে পারে।

স্কার্ট:

ক্যানোপির নিচের অংশ।

সাসপেনশন লাইন:

ক্যানোপির সাথে আরোহীকে ধারণকারী ধারকের সংযোগকারী রশি।আরোহীর ওজন সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে সাসপেনশন লাইন।

লিঙ্ক:

সাসপেনশন লাইনগুলিকে রাইজারের সাথে সংযুক্ত করে।

রাইজার:

লিংকগুলিকে আরোহীর ধারকের সাথে যুক্ত করে।

কন্ট্রোল লাইন:

প্যারাশুট খোলা,দিক পরিবর্তন,পতনের গতি হ্রাস-বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

ধারক:

আরোহীকে বহন করার জন্য যে অংশ থাকে তাকে ধারক বলে। এটি দেখতে পিঠে রশি লাগানো ব্যাগের মত।অনেকসময় এটি কন্টেইনারের মত হতে পারে।

প্যারাসুট ব্যবহার পদ্ধতি

আপনি কিভাবে প্যারাশুট ব্যবহার করবেন তার একটি সারসংক্ষেপ দেখানো হলো।

প্যারাসুট কিভাবে ব্যবহার করবেন
প্যারাসুট কিভাবে ব্যবহার করবেন

লাফ দেয়ার আগে করণীয়

  1. আপনার AAD(automatic activation device) চালু করুন
  2. আপনার প্রধান এবং রিজার্ভ ক্লোজিং পিনগুলি পরীক্ষা করুন
  3. রিগ লাগান এবং বুক এবং পায়ের স্ট্র্যাপ সমন্বয় করুন
  4. বিমানের জাম্পিং পাটাতনে অবস্থান গ্রহণ করুন
  5. লাফ দেওয়ার আগে সহকর্মী জাম্পারকে আপনার প্রধান ক্লোজিং পিনটি চেক করতে বলুন

লাফ দেয়ার সময় করণীয়

  1. লাফ দেয়ার সময় অন্যদের সতর্ক করতে হাত নাড়ুন এবং লাফিয়ে পরুন।
  2. আদর্শ উচ্চতায় এবং স্থিতিশীল অবস্থানে আসার পর প্রথমে পাইলট স্যুটকে খুলুন তার পর মূল প্যারাসুট খুলুন।প্যারাসুট খোলার গড় উচ্চতা ধরা হয় ৩০০০-৪০০০ ফিট মাটির উপরে।

লাফ দেয়ার পর করণীয়

  1. ড্রপ জোন চিহ্নিত করুন।প্যারাসুট নিয়ে যেখানে নামা হয় তাকে ড্রপজোন বলে।সমতল ঝোপঝাড় নাই এমন স্থান ড্রপজোন হিসেবে আদর্শ।
  2. প্যারাসুটের বিভিন্ন কোণে Cord থাকে। এই Cord কন্ট্রোলের মাধ্যমে একজন প্যারাস্যুটধারী প্যারাসুটের দিক পরিবর্তন করতে পারে।
  3. 180 ডিগ্রি ফ্রন্ট রাইজার টার্ন শুরু করুন।
  4. সামনের রাইজার ছেড়ে দিন
  5. মাটিতে ভালোকরে পা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পরুন।
  6. ব্যাল্যান্স রাখার জন্য সামনে ঝুুঁকে দৌড় দিন।
  7. আস্তে আস্তে দৌড়ের গতি কমিয়ে ফেলুন।

কিভাবে কাজ করে প্যারাসুট

কোনবস্তু মাটিতে পতনের সময় বাতাসের অণুগুলোর সাথে বাঁধা পায় ফলে পতনের গতি হ্রাস পায়। বস্তুর ওজনের তুলনায় আয়তন বেশি হলে বেশি জায়গা জুড়ে বাতাস আটকে যায় ফলে পতনের হার অনেক হ্রাস পায়। কিন্তু ভারী ও কম আয়তন বিশিষ্ট পদার্থ পতনের সময় বেশি বাঁধার সৃষ্টি করতে পারেনা।এরফলে পতনের গতি কমে না।

মানুষের দেহের ওজনের তুলনায় যে আয়তন তা বাতাসে তেমন বাঁধার সৃষ্টি করতে পারেনা তাই উপর থেকে পরার সময় দ্রুত মাটিতে পরে যায়। প্যারাশুট ব্যবহার করলে এর ২০ -৩০ ফুট আয়তন প্রচুর বাতাসকে বাঁধা দেয় যা মানুষের ওজনের তুরনায় অনেক বেশি তাই প্যারাশুটে বাঁধা ব্যক্তি ধীরেধীরে মাটিতে নেমে আসে। এতে কোন রকম ক্ষতি ছাড়া একজন মানুষ মাটিতে অবতরণ করতে পারে।

প্যারাসুট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ

প্যারাশুট চালনা শেখার জন্য ট্রেইনার এর প্রয়োজন হয়। ট্রেইনার এর সাথে শিক্ষানবিস ব্যক্তির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করাকে ‘টেনডেম প্যারাসুটিং’ বলে।
শেখার সময় মানুষের মনে চরম ভীতি কাজ করে এই ভয় দূর করার জন্য ট্রেইনার তাদের সাথে থাকে

প্যারাশুট কখন খুলতে হবে, কতক্ষণ আকাশে ভাসতে হবে,মাটিতে ল্যান্ড করার পরে কিভাবে নিজেকে সামলাতে হবে এসব বিষয়ে শিক্ষা দেন ট্রেইনার।

প্যারাসুট ভাঁজ করার কৌশল

আকাশ থেকে লাফ দেয়ার সময় প্যারাশুট না খুললে সরসরি মাটিতে পরে আরোহীর মৃত্যু ঘটবে। প্যারাশুট ভালোভাবে খোলা নির্ভর করে ভালোভাবে ভাঁজ করে রাখার উপর। নিখুঁতভাবে ভাঁজ করে ব্যাগে ভরে রাখলে খুব সহজে প্যারাশুট খুলে যায়।

যারা প্যারাশুট ভাঁজ করতে দক্ষ তাদের প্যারাশুট রিগার বলে।রিগাররা এই কাজে বেশ দক্ষ ও উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। স্ক্যাইড্রাইভ খেলায় অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড় নিজের প্যারাসুট ভাঁজ করে ব্যাগে ভরানোর জন্য প্রাথমিক প্রশিক্ষন নিয়ে থাকেন।

প্যারাশুট প্যাকিং করবেন কিভাবে

প্যারাশুট ভাঁজ করার পদ্ধতি
প্যারাশুট ভাঁজ করার পদ্ধতি
মাটিতে কাপড়ের ক্যানোপি সমতলভাবে রাখুন।

ক্যানোপি প্যারাশুটের প্রধান অংশ এবং এটি একটি সিরিজের লাইন দ্বারা ব্যাকপ্যাকের সাথে সংযুক্ত। ব্যাকপ্যাকটি মাটিতে রাখুন যাতে এটি মুখোমুখি হয়। লাইনগুলি প্রসারিত করুন এবং ক্যানোপিটি মাটিতে যতটা সম্ভব সমতল রাখুন।

সাসপেন্সন লাইন জড় করুন।

হাতের আঙ্গুলের ফাঁকে একটা একটা করে লাইন ধরে সাবধানে লম্বা ও সমান্তরালভাবে একত্রিত করতে হবে।লাইন যাতে একটার সাথে আরেকটা জড়িয়ে না যায় সেটা খেয়াল রাখতে হবে।জড়িয়ে গেলে কিন্তু প্যারাশুট খুলবে না।

সাসপেনশন লাইনের জট খুলুন।

লাইন দুইহাতে ধরে ধিরেধিরে ক্যানোপির দিকে এগিয়ে যেতে হবে এতে লাইনে যদি কোন জট থাকে তা খুলে যাবে।

ভাঁজ করুন।

লাইন ধরে স্লাইডার পর্যন্ত যাওয়ার পর ক্যানোপির কাপড় ভালোভাবে ভাঁজ করতে হবে।

প্যাকিং করুন

ভাঁজ করার পর প্যারাশুট প্যাকিং করতে হবে। সাধারণত কাপড়ের ব্যাগে প্যাক করা হয়।

প্যারাশুটের প্রকারভেদ

ক্যানোপির আকৃতির উপর ভিত্তি করে প্যারাশুট বিভিন্ন রকম হতে পারে।যেমন….

প্যারাশুটের প্রকারভেদ
প্যারাশুটের প্রকারভেদ

১। গোলাকার প্যারাশুট

এদের ক্যানোপি গোলাকার ছাতা বা ছামিয়ানার মত।

২। ক্রুসিফর্ম প্যারাশুট

এটি গোলাকার ক্যানোপির পরিবর্তে কিছুটা চারকোনা ক্যানোপি ব্যবহার করা হয়।

৩। RAM AIR প্যারাশুট

এটি আয়তকার ক্যানোপি বিশিষ্ট্য।এটি বর্তমানে বেশি ব্যবহার করা হয়।

প্যারাসুটের ব্যবহার

  • সামরিক কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
  • উদ্ধারকাজে জরুরি অবতরণের জন্য কাজে লাগে।
  • প্যারাগ্লাইডিং করতে
  • স্কাইডাইভিং করতে
  • প্যারাসেইলিং এর মতো খেলাধুলায় ব্যবহার করা হয়।
  • স্পেস শাটলের গতি কমাতে ব্যবহৃত হয়।

প্যারাশুটের দাম কত?

একটি প্যারাশুটের ক্যানোপির দাম ১লক্ষ টাকা থেকে ৪ লক্ষ টাকা। ক্যানোপির সাথে বাঁকি উপাদান যুক্ত করার পর এর দাম হয় প্রায় ৮-১০ লক্ষ টাকা।
কিছু বিখ্যাত প্যারাশুটের দাম দেখুন

প্যারাশুটের নামদাম
Lightning CReW Main Parachute Canopy$2,340.00
Sabre3 Main Parachute Canopy$2,500.00
The NZ Aerosports Icarus Kraken Main Canopy$2,290.00
Firebird RUSH Reserve Canopy$1,250.00

প্যারাশুটের ওজন কত?

প্যারাশুটের ওজন ৬ কেজি থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

প্যারাশুট কি দিয়ে তৈরি?

প্যারাশুটের ক্যানোপি বা ছাতা উন্নতমানের কাপড় দিয়ে তৈরি। এর রশি গুলো নরম কিন্তু মজবুত লাইলনের তৈরি।

What is parachute and history of parachute in Bangla

parachute ki? parachute er itihush, parachute kivabe kaj kore,

Info source: wikipedia

Please Click on Just one Add to help us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।