বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা!!

Table Of Contents
  1. বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা?
  2. বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা

বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা?

কোরবানির ঈদে একটি কথা বেশী শোনা যায়, তা হলো কোরবানির মাংস বেশী খেলে কোনো ক্ষতি নেই।যত খুশি কোরবানির মাংস খাও এটি রহমতের মাংস,রহমতের মাংস খেলে কোন রোগ হবে না।অনেকের জটিল রোগ থাকলেও তাকে মাংস খেতে বাধ্য করা হয়।

দয়াকরে একটি সত্য কথা মাথায় রাখুন যে, রোগ হয় দেহের রাসায়নিক উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে বা জীবাণুর আক্রমণে।কোন রোগির দেহে রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং সে যদি অতিরিক্ত মাংস খায় তবে তার দেহের রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্য আরো বেশী নষ্ট হবে এবং মৃত্যু ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।তাই আসুন সতর্ক হই এই সব কুসংস্কার পরিত্যাগ করি।

যার মাংস খাওয়া নিষেধ সে কোন মাংসই খাবে না।বেশী মাংস খেলে আপনার মৃত্যু ঝুঁকি আছে।তাহলে আসুন জানাযাক বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা।

আপনি আরও পড়তে পারেন- সতীত্ব বা কুমারীত্ব কি?

কাঁকড়ার মাংসের পুষ্টিগুণ

বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা?
বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা?

মাংস কি?

মাংসের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো protein। মাংস হলো প্রাণি দেহের ঐচ্ছিক পেশী।মাংসের রাসায়নিক উপাদান হলো অ্যামিনো এসিড। অনেক অ্যামিনো এসিড পরস্পর পেপটাইড বন্ধন দিয়ে যুক্ত হয়ে তৈরি করে পেপটাইড।
এই পেপটাইড আবার একত্রিত হয়ে তৈরি করে পলিপেপটাইড। অনেক পলিপেপটাইড এর সম্মিলিত রূপ হলো মাংস।মাংসের সাথে অনেক চর্বি লেগে থাকে এই চর্বি অধিক পরিমাণে খেলে আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে।

মাংসের প্রকারভেদ

আমরা যে মাংস খাই তা দুই ধরণের।

১।লাল মাংস(Red Meat)

গরু,মহিষ,হরিণ,শুকর ইত্যাদি পশুর মাংস। এই লাল মাংস আপনার দেহের জন্য বেশী ক্ষতিকর।

২।সাদা মাংস(White Meat)

পাখি,মুরগি,খরগোশ ইত্যাদি পশুর মাংস।এই সাদা মাংস স্বাস্থের জন্যে তুলনামূলক ভালো।

লাল মাংস(Red Meat)খাওয়ার উপকারিতা

  1. দেহের ক্ষয় পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করে মাংস।
  2. দেহের বিভিন্ন অঙ্গাণু হলো মাংস দিয়ে তৈরি।
  3. মাংসে আছে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন।
  4. লাল মাংসে থাকে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, ভিটামিন এ, বি, জিংক, ফসফরাস, সেলেনিয়াম প্রভৃতি খাদ্যোপাদান।

লাল মাংস(Red Meat)খাওয়ার অপকারিতা

  1. লাল মাংস সম্পৃক্ত চর্বির (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) বা ক্ষতিকর চর্বিতে ভর্তি থাকে।
  2. লাল মাংসের প্রধান ক্ষতিকর উপাদান হলো এতে উপস্থিত উচ্চ মাত্রার ট্রাইগ্লিসারাইড (টিজি) ও এলডিএল, যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত।
  3. এই কোলেস্টেরল ধমনির প্রাচীরে জমে গিয়ে ব্লোক সৃষ্টি করে ফলে হৃপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। এভাবে একসময় ব্লক বৃদ্ধি পেয়ে হার্ট এটাকের কারণ হয়।

বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা

প্রতিদিন ১০০গ্রামের বেশি লাল মাংস খেলে যে সকল রোগের ঝুঁকি থাকে

রোগের নামঝুঁকি স্তর
হৃদরোগে মৃত্যুঝুঁকি১৫ শতাংশ
ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকি১১ শতাংশ
বৃহদন্ত্র ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি১৭ শতাংশ
লাল মাংস রোগের ঝুঁকি

১।কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা

বেশী মাংস খেলে কিডনি রোগির কিডনি রোগ বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা আছে। যাদের মারাত্মক কিডনি রোগ আছে তাদের কিডনি কিটোন বডি ফিল্টার কম করতে পারে।মাংস বেশী খেলে বেশী অ্যামিনো এসিড উৎপন্ন হবে।অতিরিক্ত অ্যামিনো এসিড প্রচুর কিটোন বডি সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত কিটোন বডির বিষক্রিয়া কিডনি বিকল করে দিতে পারে।

কিডনি বিকল
কিডনি বিকল

২।হার্ট ব্লোক ও হার্ট এটাকের ঝুঁকি

হৃদপিন্ড যে ধমনি দিয়ে রক্ত গ্রহণ করে তাকে করোনারি ধমনি বলে।এই ধমনিতে চর্বি জমার ফলে হার্ট ব্লোক হয়। হার্ট ব্লোকের কারণে হার্ট এটাক হয়। লাল মাংসে প্রচুর ক্ষতিকর চর্বি থাকে। এই ক্ষতিকর চর্বি হার্টের করোনারি ধমনিতে আটকে যায় এবং হার্ট ব্লোক সৃষ্টি করে।হার্টের রোগিদের অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার অর্থ মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো।

হার্ট ব্লোক ও হার্ট এটাক
হার্ট ব্লোক ও হার্ট এটাক

৩।গ্যাস্ট্রিক বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা

মাংস পরিপাক করতে পাকস্থালী এবং ক্ষুদ্রান্ত্রের অনেক এনজাইমের প্রয়োজন হয়।মাংস পাকস্থালী বা পেটে ২ থেকে ২.৫ঘন্টা থাকে। লাল মাংস সহজপাচ্য নয়। তাই যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারা অতিরিক্ত মাংস খেলে হজমে সমস্যা হবে।
লাল মাংসে থাকে এক বিশেষ ধরনের ইনফ্লামেটরি যৌগ, যা পাকস্থলীর প্রদাহের জন্য দায়ী।

গ্যাস্ট্রিক বৃদ্ধি
গ্যাস্ট্রিক বৃদ্ধি

৪। অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি

যাদের অতিরিক্ত ওজন আছে তাদের মাংস কম খাওয়াই ভালো।বেশী মাংস খেলে মোটা মানুষ আরো বেশী মোটা হবে।

অতিরিক্ত ওজন
অতিরিক্ত ওজন

৫।দেহ ও মুখের দুর্গন্ধ

বেশী মাংস খেলে মুখ ও দেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়।

৬।পানি শূন্যতা

মাংস পরিপাক করতে প্রচুর পানি প্রয়োজন হয়।অতিরিক্ত মাংস খেলে আপনার ডি-হাইড্রেশন বা পানি শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

৭।কোলেস্টেরল বৃদ্ধি

যাদের কোলেস্টেরল লেভেল বিপদসীমার উপরে আছে তাদের বেশী মাংস খাওয়া মানে মারাত্মক অসুস্থতা কে আমন্ত্রণ জানানো।

৮।স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি

যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা অতিরিক্ত মাংস খেলে উচ্চ রক্তচাপ আরো বৃদ্ধি পাবে। উচ্চ রক্তচাপ বিপদসীমার উপরে উঠে গেলে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি
স্ট্রোকের ঝুঁকি

৯। কোষ্ঠকাঠিন্য বৃদ্ধি

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তারা অতিরিক্ত মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য আরো বাড়বে।বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা, পাইলস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মলত্যাগে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

১০। মাইগ্রেনের সমস্যা বৃদ্ধি

অতিরিক্ত মাংস খেলে মাইগ্রেনের সমস্যা বৃদ্ধি পাবে। সাধারন মানুষদের মাথা ব্যথা হতে পারে।

১১।আলসেমি বৃদ্ধি পাবে

বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা, অতিরিক্ত মাংস খেলে আলসেমি বৃদ্ধি পায়।

লাল মাংস(Red Meat) খেলে যেসব ক্যান্সার হতে পারে

দিনের পর দিন লাল মাংস(Red Meat) বেশি খেলে যেসকল ক্যান্সার হয় তার তালিকা।যত বেশি লাল(Red Meat) মাংস খাওয়া হবে, এসবের ঝুঁকি ততই বাড়ে। 

পাকস্থলীর ক্যান্সার,ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্যান্সার, বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার। এছাড়াও ফুসফুস,কোলন ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

মাংস খাওয়ার নিরাপদ মাত্রা

কতটুকু মাংস খাওয়া নিরাপদ

একজন মানুষের মোট দেহ ওজন হিসাব করে,প্রতি কেজির জন্যে •৮(দশমিক আট) গ্রাম মাংস দৈনিক খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। ধরুন আপনার ওজন ৬০ কেজি, তাহলে দৈনিক আপনার (৬০ו৮)=৪৫গ্রাম মাংস খাওয়া নিরাপদ।

মন খারাপ হয়ে গেলো?তাহলে মন ভালো করার জন্যে শুনুন আপনি দুই একদিন ১.১৭গ্রাম/কেজি পর্যন্ত খেতে পারেন।আরও ভালো খবর, আপনি যদি খুব পরিশ্রমী হোন তাহলে দৈনিক ৩.৭৫গ্রাম/কেজি মাংস কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই খেতে পারবেন।

গরুর মাংস কতটুকু খাওয়া নিরাপদ

একজন মানুষের মোট দেহ ওজন হিসাব করে,প্রতি কেজির জন্যে •৮(দশমিক আট) গ্রাম গরুর মাংস প্রতিদিন খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। ধরুন আপনার ওজন ৬০ কেজি, তাহলে প্রতিদিন আপনার (৬০ו৮)=৪৫গ্রাম মাংস খাওয়া নিরাপদ।

Besi mangso khaoar opokarita

Besi meat khaoar opokarita, Red Meat khaoar opokarita, besi mangso khele cancer hote pare,Red Meat,mangser upocarita.The disadvantages of eating too much meat?Disadvantages of eating red meat.How much meat is safe to eat?Eating red meat can cause cancer.

Please Click On Just One Add To Help Us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।