মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন ১০ উপায়ে|তৈরি করুন স্মার্ট ব্রেইন|

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন ১০ উপায়ে|তৈরি করুন স্মার্ট ব্রেইন|

Table Of Contents

আমাদের সবার ব্রেইন বা মস্তিষ্ক একই উপাদানে তৈরি।তারপরেও কেউ বেশি মেধাবী আবার কেউ কম মেধাবী।আপনি নিশ্চয় ভাবছেন এর কারণ কি? হুম! বলছি… এর কারণ কেউ মস্তিষ্কের ক্ষমতা বেশি ব্যবহার করে আবার কেউ কম ব্যবহার করে।

আপনি মস্তিষ্কে ক্ষমতা যত ব্যবহার করবেন তত আপনি বুদ্ধিমান হবেন।মস্তিষ্কের ক্ষমতা কম ব্যবহার করলে বোকা হবেন।কিভাবে মস্তিষ্কের ক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করে আপনি বেশি বুদ্ধিমান হবেন তা জানার জন্য এই লেখাটি শেষ পর্যন্ত পরুন আর হয়ে যান স্মার্ট ব্রেইনের মালিক।আপনার সন্তানের স্মার্ট ব্রেইন তৈরি করতে এই লেখাটি পড়া জরুরী।

প্রথমে মস্তিষ্ক নিয়ে কিছু মজার তথ্য জেনে নিনঃ

মস্তিষ্কের/ব্রেইনের/ব্রেনের/মগজের মেমোরি কার্ডের ধারণ ক্ষমতা কত?

brain er sriti/smriti dharon khomota koto?
মানুষের মস্তিষ্কের স্মৃতি ধারণ ক্ষমতা 2.5 পেটাবাইট যা 25 লক্ষ গীগা-বাইটের সমান। বৈজ্ঞানিক
গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা গেছে যে, মস্তিষ্কের এই স্মৃতি বা মেমরি ধারন ক্ষমতা দিয়ে আমরা এক নাগারে ৩০ লাখ ঘন্টা বা ৩৪২ বছর একটানা ভিডিও রেকর্ড করতে এবং সংরক্ষণ করতে পারবো।কি আজব লাগছে!

আমরা মস্তিষ্কের কতটুকু ব্যবহার করি?

মস্তিষ্কের ক্ষমতা অসীম।মানুষ তার জীবদ্দশায় মস্তিষ্কের ক্ষমতার মাত্র ১০ থেকে ২০% ব্যবহার
করে।এটা একটা ভ্রান্ত মতবাদ।মস্তিষ্কের সব অংশই ব্যবহার করা হয় সারাজীবনে।ভিন্ন ভিন্ন কাজের
জন্যে মস্তিষ্কের ভিন্ন ভিন্ন অংশ দায়ী।
নিউরোলোজির আধুনিক গবেষণায়, মস্তিষ্কের একেবারেই
অব্যবহৃত কোনো অংশ আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি এ পর্যন্ত মগজের একটা কোষকেও
একেবারে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পাওয়ার তথ্য নেই।

বিভিন্ন সময় ল্যবরেটরিতে ব্রেইন ইমেজিং টেস্ট এর ফলাফল থেকে প্রমাণিত যে, একটা নির্দিষ্ট কাজ করার সময় মস্তিষ্কের সব অংশই মোটামুটি সক্রিয় থাকে, তবে ওই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশগুলোর সক্রিয়তা বেশি লক্ষ্য করা যায়।

যেমন, ধরুন আপনি এখন মোবাইলের স্ক্রিনে লেখাটি পরছেন এবং গান শুনছেন এখন আপনার মগজের অপটিক ও অডিটরি লোব বেশি কাজ করছে,বাঁকি অংশগুলো কম কাজ করছে,তাবলে এটা বলা যাবে না যে বাঁকি অংশ একে বারে নিষ্ক্রয় আছে। সুতরাং,বলা যায় সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য মস্তিষ্কের প্রায় পুরোটাই দরকার, মাত্র ১০ শতাংশ নয়!

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমরা দুটি জিনিসের উপর দৃষ্টিপাত করি!

১। মস্তিষ্কের প্রধান দুই অংশকে সমানভাবে ব্যবহারঃ

মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।আয়তন ১৫০০ঘন সেন্টিমিটার।এতে নিউরন আছে ১০০বিলিয়ন।এই নিউরন একত্রিত করলে তা দিয়ে পৃথিবীকে কয়েকবার প্যাঁচানো সম্ভব। মস্তিষ্কের ৩টি অংশ হলো অগ্র/গুরু মস্তিষ্ক,মধ্য মস্তিষ্ক, পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্র মস্তিষ্কের পরিমান,আয়তন প্রায় পুরো মস্তিষ্কের ৮০ভাগ। এই অগ্র মস্তিষ্কের একটি প্রধান অংশ হলো সেরিব্রাম। সেরিব্রাম দুইভাগে বিভক্ত। ডান পাশের সেরিব্রাম কে বলে ডান সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার,বাম পাশের সেরিব্রাম কে বলে ডান সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার।

আমাদের প্রধান স্মৃতি ঘর বা ROM হলো এই সেরিব্রাম।ডানহাতি মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশ বা বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বেশি সক্রিয় আবার বামহাতি মানুষের ডান মস্তিষ্কের অংশ বা ডান সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বেশি সক্রিয়।

সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার
সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার
ডান সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ারবাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার
১। দেহের বাম পাশের অঙ্গগুলির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে।১। দেহের ডান পাশের অঙ্গগুলির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে।
২। ক্রিয়েটিভিটি/সৃজনশীলতা এই অংশের কারসাজি।২। ভাষা শিখতে সাহায্য করে,উপস্থিত বক্তৃতা এই অংশের দ্বারা সম্পন্ন হয়।
৩।বক্তব্য দেয়া,হিসাব করে কথা বলা, কথার প্রত্যুত্তর করা,ঘটনার প্রসঙ্গক্রমে কথা সাজানো এই অংশের
কাজ।
৩। তথ্য বিশ্লেষণ ও হিসাব করে।
৪।মানুষের চেহারা,কোন স্থান,চিহ্ন সনাক্ত করে এবং মনে রাখে।৪। কাজের সাথে সময়ের সঙ্গতি নির্ণয় করে।
শব্দ,সংখ্যা, বর্ণ সনাক্ত করে এবং মনে রাখে।
ডান এবং বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার এর পার্থক্য

তাই বলা যায় সব মানুষের মস্তিষ্কের সব অংশ সমান ভাবে কাজে লাগেনা।মস্তিষ্কের যে অংশ ব্যবহৃত হয় না সেই অংশ ধিরে ধিরে ক্ষমতা হারাতে থাকে। যে অংশ বেশি ব্যবহৃত হয় সেই অংশ বেশি সক্রিয় হয় দুই পাশের মস্তিষ্ককে সমান ভাবে ব্যবহার করতে চেষ্টা করলে আপনি হয়ে যাবেন স্মার্ট ব্রেইন এর মালিক। (আরো পড়ুন-নারীর সতীত্ব বা কুমারীত্ব কি?)

২।মস্তিষ্কের নতুন নিউরন সৃষ্টির চেষ্টা করাঃ

যখন আপনি নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করছেন, তখন আপনার মস্তিষ্কের এক স্নায়ুকোষের সাথে অন্য একটি স্নায়ুকোষের সংযোগ তৈরি হয়।এই সংযোগ স্থল কে বলে সিন্যাপস।সিন্যাপসই হলো আপনার মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ড।ফোনের মেমরি কার্ড ফুল হয়ে গেলে যেমন নতুন কিনতে হয় তেমন মস্তিষ্কের মেমরি কার্ড ফুল হলে নতুন করে তৈরি করতে হয়।

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন ১০ উপায়ে|তৈরি করুন স্মার্ট ব্রেইন|
সিন্যাপস,স্নায়ুকোষ
মগজে এত মেমরি কার্ড কোথায় পাবো?

কি চিন্তা করছেন? চিন্তার কোন কারণ নেই! আপনার মস্তিষ্কে যে পরিমান নিউরন আছে তা দিয়ে ২৫ লক্ষ গিগাবাইট এর মেমরি কার্ড তৈরি করা সম্ভব।একই কাজ একইভাবে বারবার করলে কাজের ধরণটি মস্তিষ্ক মুখস্থ করে রাখে ঠিক কম্পিউটার এর ক্যাশ মেমরির মত এতে করে ঐ কাজটি করতে সময় কম লাগে একে আমরা দক্ষতা বলি।

এভাবে দক্ষতা বাড়বে ঠিক আছে কিন্তু সিন্যাপস তো বাড়বে না!তাই স্বাভাবিক কাজ গুলো প্রতিদিন একইভাবে না করে নতুন নতুন উপায়ে করুন। এর ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন সিন্যাপস তৈরি হবে।

এই অভ্যাসগুলো প্রতিদিন চর্চা করুন তাহলে আপনার মস্তিষ্কের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।আপনি হয়ে
যাবেন বেশি বুদ্ধিমান এবং স্মার্ট ব্রেইন এর(smart brain) এর মালিক।
(যে ১০ উপায়ে আপনি বাড়াতে পারেন মগজের শক্তি)

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন ১০ উপায়ে|তৈরি করুন স্মার্ট ব্রেইন|

ডানহাতি-বামহাতি

১।আপনি ডানহাতি হলে বাম হাতে লেখা, ব্রাশ করা,চুল আঁচড়ানোর চেষ্টা করুন।আর বামহাতি হলে, ডান হাতে কাজগুলো করুন এর ফলে আপনার দুইপাশের মগজ সমান দক্ষ হয়ে উঠবে ।সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এই কাজ গুলো করলে নতুন নতুন সিন্যাপস তৈরি হবে।

চাকুর মাথা বিদ্ধ করার চেষ্টা

২।একটি কাঠের পাটাতনের চার থেকে পাঁচটি বৃত্ত আঁকুন,সবচেয়ে ভেতরের বৃত্তের কেন্দ্রে লাল রং করুন।এবার লাল কেন্দ্রে বারবার একটি চাকুর মাথা বিদ্ধ করার চেষ্টা করুন।

এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের লক্ষ্য ঠিক করার অংশ সক্রিয় হয়ে উঠবে।আপনি হবেন যে কোন লক্ষ্য পূরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

ছবি আঁকুন

৩।ছবি আঁকুন প্রতিদিন।ছবি আঁকার সময় মস্তিষ্কের সব ক্রিয়েটিভিটি সক্রিয় হয়।সবুজ প্রকৃতির ছবি আঁকলে মন শান্ত হয়।

দাবা-খেলুন

৪।দাবা খেলুন সপ্তাহে অন্তত দুই দিন। দাবা খেললে মস্তিষ্কের সব অংশই গভীর মনোযোগের সাথে কাজ করে।
এতে আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ,প্রতিপক্ষকে পর্যবেক্ষণ, সফলভাবে কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করার ক্ষমতা
বাড়ে।

ধাঁধা সমাধান করুন

৫।ধাঁধা সমাধান করুন এবং রুবিক্স কিউব ও সুডাকু বোর্ড মেলানোর চেষ্টা করুন,ক্লাশের অংক না থাকলেও মজার জন্যে অংক করুন। বারবার এই চেষ্টা করতে থাকলে আপনার ধৈর্য বৃদ্ধি পাবে।

ব্রেনের বিরক্তি উৎপাদনকারী অংশ দুর্বল হবে।কোন কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।কঠিন গাণিতিক হিসাব সহজে সমাধান করতে পারবেন।মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে,স্মার্ট ব্রেইন তৈরি হবে।

বিদেশী ভাষা শেখার চেষ্টা করুন

৬।প্রতিদিন বিদেশী ভাষা শেখার চেষ্টা করুন। এই অভ্যাস মস্তিষ্কের ক্ষমতা প্রায় 100 গুণ বৃদ্ধি করে।মস্তিষ্কের স্মৃতি ধারনকারী অংশ দ্রুত সক্রিয় হয়। স্মার্ট ব্রেইন তৈরি করতে এটি একটি কার্যকর উপায়।

রোড সাইন

৭।রাস্তায় চলাচলের সময় রাস্তার পাশের দুই একটি দোকানের নাম মুখস্ত করুন,সাইনবোর্ডের লেখা মনে রাখার চেষ্টা করুন।এতে আপনার মস্তিষ্কের যে অংশ নতুন বিষয় মনে রাখে তা উন্নত হবে।

বই পড়া

৮।বই পড়ার অভ্যাস করুন। ধার্মিক মানুষ হলে ধর্মগ্রন্থ থেকে প্রতিদিন অন্তত একটি লাইন মুখস্ত করুন।প্রতিদিন অন্তত তিনটি নতুন শব্দ এবং একটি ফোন নম্বর মুখস্ত করুন।এটা মস্তিষ্কের স্মৃতি ধারণ ক্ষমতা 200% পর্যন্ত বাড়াতে সাহায্য করে।

আয়নার সামনে বক্তব্য

৯।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করুন এটা আপনার আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে এই অভ্যাস আপনাকে সাহায্য করবে।

৭ ঘন্টা ঘুমানো

১০। ২৪ ঘন্টায় অন্তত ৭ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুমালে মস্তিষ্কের নিউরন রিফ্রেশ হয়।মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর হয়। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বাড়ে।দিনের বেলা যাকিছু শেখেন তা নিউরনের
সংযোগস্থল সিন্যাপসে স্মৃতি হিসেবে জমা থাকে।আপনি যখন ঘুমিয়ে পড়েন তখন সেই সংযোগ আরও জোরদার
হয় এবং যাকিছু আপনি দিনে শিখেছেন তা স্থায়ী স্মৃতি হিসেবে জমা হয়।

mostisker/mogoger khomota bridhi korun|smart brain toiry

mostisker khomota bridhi korun 10 upay, brain er power bridhi korun, manusher brain er smriti dharon khomota koto? brain er memory capacity koto?brain e new neuron create kora, brain er 25lokho gigabyte memory card ase.

Author
Pacemaker Santo
https://kotokisuojana.com/

লেখাটি ভালো লাগলে আপনার প্রয়জনের সাথে সেয়ার করুন।জ্ঞান বিতরণে সাহায্য করুন।ব্লোগ পোস্টের নিচে কমেন্ট বক্স পাবেন, এই বক্সে আপনার মন্তব্য লিখুন, কোন উদ্ভট প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে কিন্তু উত্তর পাচ্ছেন না? প্রশ্নটি এই বক্সে দিন উত্তর পাবেন নিশ্চিত।

88 / 100

3 thoughts on “মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করুন ১০ উপায়ে|তৈরি করুন স্মার্ট ব্রেইন|”

Leave a Comment