মাস্ক পরা বিপদজনক কখন? মৃত্যু হতে পারে মাস্ক পরলে#

মাস্ক পরা বিপদজনক কখন? মৃত্যু হতে পারে মাস্ক পরলে#

করোনার সংক্রমণ রোধ করার জন্য স্লোগান,পোস্টার,দেয়াল লিখন এবং ভার্চুয়াল বিজ্ঞাপনে মাস্ক পরতে উৎসাহ দেয়া হয়। বাড়ির বাইরে বের হলে রোগের ভয়ে না হোক অন্তত পুলিশের জরিমানা বা মাইরের ভয়ে মাস্ক পরি।

সবাই যখন নিজে মাস্ক পরতে ও অন্যকে পরাতে উঠেপরে লেগেছে তখন আমি মাস্ক না পরতে উৎসাহ দিচ্ছি। হ্যাঁ, সত্যি আপনাকে মাস্ক পরতে নিষেধ করছি। কিছু অস্বাভাবিক শারীরিক পরিস্থিতিতে মাস্ক পরলে মৃত্যু ঘটতে পারে। কি? খবর শুনে চোখ কপালে উঠলো বুঝি!!! তাহলে আসুন জানাযাক মাস্ক পরা বিপদজনক কখন?

আপনি আরো পড়তে পারেন…. বাড়িতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিভাবে বানাবেন?

কখন মাস্ক পরা উচিৎ নয়?

বয়স ও শারীরিক অবস্থাভেদে অনেক সময় মাস্ক পরা উচিৎ নয়।যেমন-

শিশুদের মাস্ক পরা উচিৎ নয়

UNICEF ও WHO সংস্থার মতে, সদ্যজাত শিশু, দুগ্ধপোষ্য শিশু এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মাস্ক পরার দরকার নেই। এই শিশুদের দেহে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধির কাজ চলে তাই প্রচুর শক্তি ব্যয় হয়।

শক্তি উৎপাদনের জন্য এদের শ্বসনহার বেশি। এজন্য এই শিশুদের প্রচুর অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। মাস্ক পরলে অক্সিজেন ঘাটতি সৃষ্টি হবে এতে শিশু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

মাস্ক পরা উচিৎ নয় 1
img-sourch-dreamstimephoto

অনেক দেশে ৪-১১ বছর বয়সী শিশুদেরও মাস্ক ব্যবহার করতে নির্দেশ দেয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক তখন আপনার শিশুকে মাস্ক পরাতেই হবে। এক্ষেত্রে মাস্কের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য শিশুকে মাস্ক পরিয়ে সবসময় চোখে চোখে রাখতে হবে।

শ্বাস কষ্টের রোগী মাস্ক পরবেন না

হাঁপানি,ব্রংকাইটিস এর সমস্যা আছে এমন শ্বাসকষ্টের রোগী মাস্ক পরলে ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হবে ফলে শ্বাসকষ্ট আরো বেড়ে যাবে। তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে অনেকের অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে।

শ্বাস কষ্টের রোগীর মাস্ক পরা উচিৎ নয়
শ্বাস কষ্টের রোগী

কারো যদি মাস্ক পরলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, যার কারণে মাস্ক ব্যবহার করা কঠিন হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে মাস্ক পরবেন না। তবু সংক্রমন রোধ করতে কী করা সবচেয়ে ভালো হবে সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

মাস্ক নিজে খুলতে পারেনা তাদের মাস্ক পরাবেন না।

যারা মাস্ক খুলতে পারেনা যেমন- অবুঝ শিশু, প্যারালাইজড রোগী, অজ্ঞান রোগী,অক্ষম বৃদ্ধ ইত্যাদি মানুষদের মাস্ক না পরানো ভালো। কারণ যখন খোলার প্রয়োজন হবে তখন এরা খুলতে পারবে না এতে অক্সিজেন ঘাটতির ফলে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হবে।

মাস্ক পরা উচিৎ নয় কখন?

খেলাধুলা করার সময় শিশুর মাস্ক খুলুন

শিশু এবং বয়স্কদের খেলাধুলা বা শারীরিক কার্যকলাপের সময় মাস্ক পরা উচিত নয়, যাতে এটি তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি করতে না পারে।

খেলার সময় মাস্ক পরা উচিৎ নয়

মাস্ক পরা বিপদজনক কখন?

কিছু শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বিপদজনক। এসময় মাস্ক পরলে, শরীরের বিভিন্ন কাজে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করার জন্য যে অক্সিজেন দরকার হয় তার ঘাটতি সৃষ্টি হয়।

অতিরিক্ত অক্সিজেন ঘাটতি হলে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা সহ মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। দেখে নেয়া যাক মাস্ক পরা বিপদজনক কখন?

পরিশ্রমী কাজের সময় মাস্ক পরা বিপদজনক

ব্যায়াম,মর্নিং ওয়ার্ক,প্রচণ্ড খাটুনির কাজ করার সময় মাস্ক পরে থাকলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হবে। কারণ এ সময় শরীরে প্রচুর শক্তি ব্যয় হয়।

মাস্ক পরা বিপদজনক কখন?
ব্যায়াম করার সময় মাস্ক পরবেন না

শক্তি আসে খাবার থেকে। খাবারের শক্তি ভেঙ্গে ফেলার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। স্বাভাবিক যে পরিমান অক্সিজেন প্রয়োজন হয় তারচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পরিশ্রম করার সময়। মুখে মাস্ক লাগানো থাকলে ফুসফুসে কম অক্সিজেন প্রবেশ করবে।

শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতির ফলে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাংস পেশির টান পড়া বা খিঁচুনি, বমি ভাব, মাথা ঘোরানো এমনকি ব্রেন স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।

তাই এই সমস্ত ক্ষেত্রে মাস্ক না পরাটাই শ্রেয়।এমন জায়গায় শরীরচর্চা করুন যেখানে মাস্ক পরার প্রয়োজন নাই এমনিতে অন্যদের থেকে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারবেন।

প্রচুর ঘাম হলে মাস্ক পরা বিপদজনক

জিম করা, রিক্সা চালানো, ভারী জিনিস উঠানোর কাজ,দৌড়োদৌড়ি ইত্যাদি কাজ করার সময় প্রচুর ঘাম হয়। আবার স্বল্প পরিসরের জায়গায় বাতাস চলাচল কম হলে গরমে প্রচুর ঘাম হয়।

প্রচুর ঘাম হলে মাস্ক পরা বিপদজনক
img-dreamstimephoto

এরকম ঘামা অবস্থায় মাস্ক পরলে তা ভিজে যাবে। ভেজা মাস্ক পরে থাকলে এটি ফুসফুসে অক্সিজেনের প্রবেশ কমিয়ে দেয় ফলে শরীরে মারাত্মক অক্সিজেন স্বল্পতা সৃষ্টি হয়। এতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া,মাথা ঘোরা, হাত-পা অবশ হয়ে আসা, চোখে অন্ধকার দেখার মত উপসর্গ দেখা দেয়।

ঘামে ভেজা মাস্কে জীবাণু লেগে গিয়ে জীবাণু দিয়ে সংক্রমণের সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়।

All Image source- dreamstimephotos

তথ্যসূত্র – UNICEF

Please click on Just one Add to Help Us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।

87 / 100
error: Content is protected !!