মুখের সাদাশাল দূর করার উপায়

মুখের সাদাশাল দূর করার উপায়

“চেহারা মনের দর্পণ” কথাটা অনেকেই শুনে থাকবেন বোধহয়। চেহারা সুন্দর হলে সবার সামনে স্বচ্ছন্দে চলাচল করা যায়। চেহারা খারাপ হলে অনেকে হিনমন্যতায় ভোগেন। খারাপ চেহারা নিয়ে সবার সামনে যেতে বেশ লজ্জায় পরেন অনেকে।

কিন্তু ভালো চেহারা অনেক সময় বিভিন্ন ত্বকের সমস্যার কারণে খারাপ হয়ে যায়। অনেক ধরণের ত্বকের সমস্যার মধ্যে বেশ পরিচিত একটি সমস্যা হলো মুখের সাদাশাল। এই সাদা শাল হলো একটি নিরব ঘাতক।

মুখের সাদাশাল প্রকাশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি জানতেই পারেন না তার মুখের ত্বকের নিচে মারাত্মক ক্ষত বংশবৃদ্ধি করছে। নাকের ত্বকে সাদাশাল বেশি হয়। আজ জানাযাক মুখের সাদাশাল সম্পর্কে।

আপনি আরো পড়তে পারেন… তিল বা আঁচিল কেন হয়? আঁচিল কি শরীরের জন্যে ক্ষতিকর?
ফাঁসি দিলে মানুষের মৃত্যু কিভাবে হয়?

মুখের সাদাসাল কি

মুখের ত্বকের নিচে অনেক ফাঁপা নল থাকে ঘাম বের হওয়ার জন্য এই নল ময়লা বা চর্বি জমে বন্ধ হয়ে গেলে এই চর্বি সাদা ও শক্ত পুঁজের মত আকার ধারণ করে তখন একে মুখের সাদিসাল বলে। মুখের ত্বকে চাপ দিলে এই সাদাসাল বেরিয়ে আসে।

মুখের সাদাশাল
মুখের সাদাশাল

মুখের সাদাশাল কেন হয়?

মুখের ত্বকের লোমকূপ কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে সাদাশাল সৃষ্টি হয়। লোমকূপের নল চর্বিজাতীয় সাদা পদার্থ দিয়ে ভরে গেলে ত্বক ভেদ করে আর ঘাম বের হতে পারেনা।
এভাবে চর্বি জমতে থাকার ফলে একসময় শক্ত সাদাশাল সৃষ্টি হয়।আবার লোমকূপে ইনফেকশনের ফলে সাদাপূঁজ জমা হয়ে শক্ত হয়ে গেলেও মুখের সাদাশাল তৈরি হতে পারে।

মুখের ত্বকের লোমকূপ সাদাশাল
মুখের ত্বকের লোমকূপ সাদাশাল

মুখের সাল/শাল দূর করার উপায়

কিছু সহজ ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেই আপনি মুখের সাদাশাল দূর করতে পারবেন।

টমেটো

টমেটোর ভিটামিন সি সাদাশাল দূর করতে বেশ ভালো কাজ করে। টমেটোর খোঁসা বাদে ভেতরের নরম অংশ মুখের সাদাশাল আক্রান্ত স্থানে ভালোকরে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন।
টমেটোর রস শুকিয়ে চটচটে হয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩-৪দিন করুন কাজটি। আশাকরি ভালোফল পাবেন।

টমেটো
টমেটো

চিনি ও অলিভ অয়েল

কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল এবং এক চা চামচ চিনি নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে একটি নরম টুথব্রাশে লাগিয়ে ত্বকের শাল আক্রান্ত স্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা ঘসুন ও ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।

চিনি ও অলিভ অয়েল
চিনি ও অলিভ অয়েল

দুধ এবং মধুর মাস্ক

কুসুম গরম দুধ এবং মধু(Honey) একসাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মুখের সাদাশাল আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন। এরপর ঐ মিশ্রণের উপর তুলোর পাতলা প্রলেপ লাগিয়ে দিন। ৩০ মিনিট পর তুলোর প্রলেপটি টেনে তুলুন।
হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজ ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ৫দিন করুন কাজটি।

 দুধ এবং মধুর মাস্ক
দুধ এবং মধুর মাস্ক

কমলার খোসার মাস্ক

কমলার খোসা ত্বকের শাল আক্রান্ত স্থান থেকে শাল দূর করে দেয়। কমলার খোসা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। শুকনো কমলার গুঁড়োর সাথে কিছু পরিমাণ দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
এই মিশ্রণটি ত্বকের শাল আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন। ৩০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি(Water) দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের শাল দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে।

কমলার খোসার মাস্ক
কমলার খোসার মাস্ক

ডিমের সাদা অংশ

ডিমের কুসুম থেকে সাদা অংশ আলাদা করে নিন। এবার ডিমের সাদা অংশটুকু মুখের সাদাশাল আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিন। ডিমের সাদা অংশের উপর টিস্যু পেপার দিয়ে চাপুন কিছুক্ষণ।
এরপর টিস্যু পেপারের উপর আবার ডিমের সাদা অংশ দিন। শুকানোর জন্য অপেক্ষা করুন ২০ থেকে ৩০ মিনিট। শুকিয়ে গেলে টিস্যু পেপার টেনে তুলে ফেলুন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৪দিন করুন কাজটি।
আবার ডিমের সাদা অংশের সাথে লেবুর রস(Lemon juice) মিশিয়ে নিতে পারেন।

দুধ এবং মধুর মাস্ক
দুধ এবং মধুর মাস্ক

লেবুর রস ও মধু

লেবুর রসের সাথে মধু মেশান। এটি ত্বকের শাল আক্রান্ত স্থানের উপর লাগিয়ে নিন। এর উপর টিস্যু পেপার রাখুন। তার উপর লেবু এবং মধুর মিশ্রণটি আবার দিয়ে দিন। টিস্যু শুকানোর জন্য ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
শুকিয়ে গেলে টিস্যু ধিরেসুস্থে টেনে তুলে ফেলুন। এটি মুখের ত্বক থেকে সাদা শাল দূর করে দেয়। এটি সপ্তাহে ২দিন করুন।

লেবুর রস ও মধু
লেবুর রস ও মধু

ডিমের কুসুম ও জেলাটিন

ডিমের কুসুমের সাথে সামান্য পরিমাণ জেলোটিন এবং দুধ মেশান। এই মিশ্রণটি অল্প আঁচে গরম করুন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে এলে এটি ত্বকের শাল আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে মাস্কটি ত্বক থেকে তুলে ফেলুন। তারপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে ৪দিন কাজটি করতে পারেন।

ডিমের কুসুম ও জেলাটিন
ডিমের কুসুম ও জেলাটিন

বেকিং সোডা

দুই টেবিল-চামচ বেকিং সোডা ও এক টেবিল চামচ ময়দা পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। ত্বকের যেখানে সাদা শাল আছে সেখানে এই পেস্ট লাগিয়ে হালকা হাতে মাসাজ করতে হবে ২ মিনিট। এরপর ৫ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন পেস্ট শুকানোর জন্য।
পেস্ট শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দু্ই থেকে তিনদিন এটি ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।

বেকিং সোডা ব্যবহার করুন
বেকিং সোডা ব্যবহার করুন:

দারুচিনি

মধুর সঙ্গে ১ চা-চামচ দারুচিনির গুঁড়া(Cinnamon powder) মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে এই পেস্ট ত্বকের শাল আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ঘুমাতে হবে। সকালে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। টানা ১০ দিন ব্যবহারেই ভালো ফল পাওয়া যাবে।

দারুচিনি
দারুচিনি

হলুদ

পুদিনা পাতার রসের সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পেস্ট বানাতে হবে। এই পেস্ট ত্বকের শাল আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখতে হবে। ১০ মিনিট অপেক্ষা করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

হলুদ পুদিনা পাতা
হলুদ পুদিনা পাতা

লাল চন্দন

লাল চন্দনের সঙ্গে হলুদ এবং দুধ মিশিয়ে এককটি ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। পেস্ট ত্বকের শাল আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর হালকা শুকিয়ে আসলে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।

লাল চন্দন
লাল চন্দন

ত্বকের শাল প্রতিরোধে কিছু টিপস

  1. আপনার ত্বক পরিষ্কার রাখুন, দিনে মিনিমাম দুইবার ত্বক ধুয়ে নিন।
  2. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  3. তাজা শাকসবজি খান, বিশেষ করে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার বেশি খান।
  4. অয়েল ফ্রি মেকআপ ব্যবহার করুন।
  5. ভুলেও হাত বা নখ দিয়ে খুঁচিয়ে হোয়াইট হেডস তুলতে যাবেন না, এতে করে সেটা ব্রণে পরিণত হবে।
  6. জাঙ্কফুড এড়িয়ে চলুন।

##সবগুলো নয়, যে কোনও একটা বা দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। যে পদ্ধতিই অনুসরণ করুন না কেন, নিয়ম করে ব্যবহার করুন। সমস্যা দূর না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান।

pacemaker santo

লেখাটি ভালো লাগলে আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুণ।জ্ঞান বিতরণে সাহায্য করুন। আপনি ভালো লিখতে পারলে এই ওয়েবসাইট এ লেখা পাঠান।লেখা মনোনীত হলে পুরস্কার পাবেন।

আপনার মাথায় উদ্ভট কোন প্রশ্ন ঘুরছে কিন্তু উত্তর পাচ্ছেন না। তাহলে দেরি না করে এই পোস্টের নিচে কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন টি লিখুন।উত্তর পাবেন নিশ্চিত।

92 / 100

Leave a Comment