এক্সটাসি বা আইস মাদক কী? ফান ট্যাবলেট ক্রিস্টাল মেথ সম্পর্কে বিস্তারিত#

এক্সটাসি বা আইস মাদক কী?

খুব হতাশায় আপনি যদি ফান ট্যাবলেট খেয়ে হতাশা ভুলে আনন্দের অনুভূতি পান তাহলে তো ভালোই হয় কি বলেন? কিন্তু ভুলেও এই মরন ফাঁদে পা দেবেন না! একবার এই ফান ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে আপনি ৩-৪ ঘন্টার জন্য দুঃখ ভুলে যাবেন কিন্তু ঔষধের প্রভাব কমে গেলেই আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবেন এবং দুঃখবোধ আরো বাড়াবে

আপনি আরো পড়তে পারেন…. এলএসডি কি? সুগার ড্যাডি কি? ডিএমটি সব মাদকের বাপ

তখন আপনি এই অবস্থা থেকে বাঁচতে আরো বেশি ডোজ গ্রহন করবেন। এভাবে একসময় ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আপনার মৃত্যু হবে। এমন এক ভয়াবহ মাদক নিয়ে আজ আলোচনা করবো, মাদকটির নাম এক্সটাসি বা আইস।এক্সটাসি বা আইস মাদক কী? ফান ট্যাবলেট ক্রিস্টাল মেথ সম্পর্কে বিস্তারিত#

এক্সটাসি বা আইস মাদক কী?

এক্সটেসির রাসায়নিক নাম মেথিলিন ডাইওক্সি মেথ অ্যাম্ফিটামিন বা সংক্ষেপে (এমডিএমএ)।M=methylene D=dioxy M=methyl A=amphetamine।
এই ওষুধটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ এটি সেবন করলে তিব্র হ্যালুসিনেশন তৈরি করে এবং সেবনকারীর মনে ক্ষণিকের মিথ্যা সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
ইন্দ্রিয় অনুভূতি, সাহস ও শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি যৌন উত্তেজনা বাড়াতে এই মাদক বেশ পরিচিত।নেশার জগৎে এটি “ভালোবাসার ড্রাগ” বলে পরিচিত কারণ এটি যৌনতার সময় রঙ, শব্দ এবং স্পর্শ সম্পর্কে সেবনকারীর উপলব্ধি আরও বাড়িয়ে তোলে।
এই মাদকটি আলিঙ্গন ড্রাগ,ক্যান্ডি,মলি,এমডিএমএ, আইস, ক্রিস্টাল মেথ,ফান ট্যাবলেট ইত্যাদি নামে পরিচিত।

এক্সটাসি বা আইস রাসায়নিক গঠন

এক্সটাসি বা MDMA এর রাসায়নিক ফর্মুলা হলো methylenedioxy-methylamphetamine.সাধারণ IUPAC নাম N-methyl-1-(3,4-methylenedioxyphenyl)propan-2-amine. কিন্তু MDMA সর্বসাধারণ 3,4-methylenedioxymethamphetamine or methylenedioxy-methylamfetamine হিসেবে চেনে।

এক্সটাসি-রাসায়নিক-গঠন
এক্সটাসি-রাসায়নিক-গঠন

এক্সাসির প্রভাব

মডিএমএ সাইকিডেলিক হ্যালুসিনোজেনিক ড্রাগ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। হ্যালুসিনজেনিক এফেক্ট মানে ব্যবহারকারীরা এমন জিনিসগুলি দেখতে বা উপলব্ধি করতে পারে যা বাস্তবে বিদ্যমান নেই। এই অনুভূতি সর্বদা আনন্দদায়ক হয় না অনেকসময় ড্রাগের প্রভাবে খুব ভীতিজনক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন।
আইস মাদকটির বিপজ্জনক ব্যাপারটা হ’ল এটি সেবনকারীর দেহে কী ঘটছে তা স্পষ্টভাবে বোঝার ক্ষমতাকে বাধা দেয়।

এক্সটাসি ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব

এক্সট্যাসি গ্রহণের ফলে সাময়িক সুখ অনুভূত হলেও শরীরে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যেমন-

সুখের মিথ্যা অনুভূতির সৃষ্টি

এক্সটাসি সেবনের পর হঠাৎ মন থেকে দুঃখ, উদ্বেগ,স্ট্রেস এবং হতাশা হারিয়ে যায়, নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ মনে হয় আর নেশার প্রভাব থাকা পর্যন্ত হাসতে চায়। নেশার প্রভাব কেটে গেলে নেশাকারী বাস্তবের সাথে পূর্ব অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পায় না ফলে আরো বেশি হতাশায় নিমজ্জিত হয়। এই হতাশায় অনেকে আত্মহত্যা করে।

দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সক্রিয়তা হ্রাস পাওয়া

এক্সটাসি গ্রহন করার পর দেহের অঙ্গসমূহ ৩-৪ঘন্টা অতিরিক্ত কাজ করে মস্তিষ্কের উত্তেজনার কারণে কিন্তু নেশার প্রভাব কেটে গেলে অঙ্গসমূহ অসার হয়ে আসে। দীর্যদিন এই এক্সটাসি গ্রহন করলে হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে যায়।

ঠোঁট শুকনো এবং নীল বর্ণের হয়

এক্সটাসি অতিরিক্ত ব্যবহার করলে সেবনকারীর মুখ এবং ঠোঁট শুকনো এবং নীল বা ফ্যাকাসে দেখায় এর কারণ মুখ এবং ঠোঁটকে আর্দ্রতা দিতে দেহে যে প্রাকৃতিক তরল থাকে তা পেশির অতিরিক্ত সক্রিয়তার কারণে নিঃশেষ হয়ে যায়। এটি সেবনকারীকে মারাত্মক তৃষ্ণার্ত করে তোলে।

মস্তিষ্কের ক্ষয়ক্ষতি

দীর্ঘমেয়াদী এক্সট্যাসির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। সেবনকারীর মস্তিষ্কে সেরিব্রাল প্যালসির কারণে স্ট্রোক হয়। মস্তিষ্কের সমন্বয়ে ব্যঘাত সৃষ্টির কারণে মস্তিষ্কে স্থায়ী সমন্বয়হীনতা দেখা দেয় এর ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায় এবং সেবনকারী চিরতরে পাগল হয়ে যেতে পারে।

মস্তিষ্কের-উপর-এক্সটাসির-প্রভাব
মস্তিষ্কের-উপর-এক্সটাসির-প্রভাব

এক্সটাসি বা ক্রিস্টাল মেথ সেবনের পর মস্তিষ্কে সেরাটোনিন ক্ষরণ বেরে যায় ফলে সুখের অনুভূতি সৃষ্টি হয় কিন্তু অতিরিক্ত সেরাটোনিন ক্ষরন হতে হতে একসময় এর ঘাটতি সৃষ্টি হয় ফলে সেবনকারীর ঘুম কমে যায়।

ব্রুকসিজম হয়

এক্সট্যাসি বা ক্রিস্টাল মেথ সেবনের অন্যতম সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হ’ল ব্রুকসিজম।অনবরত দাঁত কিরমির করা বা দাঁতের সাথে দাঁত কামড়ে খটখট শব্দ করাকে ব্রুকসিজম বলে।
এটি ঘটার কারণ হলো ড্রাগটি চোয়ালের পেশিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে ফলে দুই চোয়াল বারবার খোলে ও বন্ধ হয় এবং খটখট শব্দে দাঁত উঠানামা করে। এক্সটাসি সেবনের প্রভাবে ঘাড়, পিঠ এবং কাঁধের পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে।

ব্রুকসিজম
ব্রুকসিজম
আরও কিছু গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলি হ’ল:
  1. মস্তিষ্কের ক্ষতি যা শেখার ক্ষমতা এবং স্মৃতিকে প্রভাবিত করে
  2. ঘুমের সমস্যা
  3. অবিচ্ছিন্ন বিভ্রান্তির অনুভূতি
  4. মারাত্মক হতাশা এবং উদ্বেগ
  5. কিডনি ফেইলর
  6. হার্ট অ্যাটাক
  7. অতিরিক্ত নেশার ফলে মৃত্যুর ঘটনা হরহামেশাই দেখা যায়।

এক্সটাসি আবিষ্কারের ইতিহাস

1912 সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মার্ক ল্যাবের বিজ্ঞানী অ্যান্টন ক্যালিশ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক্সট্যাসি আবিষ্কার করেছিলেন।কয়েকটি ঔষধ একত্রে মিশ্রিত করে তিনি এই মারণ নেশা তৈরি করেছিলেন। ওষুধের উপাদানগুলির আদ্যক্ষর নিয়ে তিনি এটির নাম দিয়েছিলেন MDMA(এমডিএমএ)। M=methylene D=dioxy M=methyl A=amphetamine
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এর বিবর্তনের মাধ্যমে জাপানি সৈন্যদের বিশেষ করে যুদ্ধবিমানের চালকদের অনিদ্রা, উত্তেজিত ও নির্ভয় রাখার জন্য এর ব্যবহার শুরু হয়। ৫০ এর দশকে, মার্কিন সরকার মানসিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং যুদ্ধের পরীক্ষার জন্য ড্রাগটি ব্যবহার করেছিল।
৬০ এর দশকে মানুসিক সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য লোকেরা চিকিৎসার ওষুধ হিসাবে এক্সট্যাসি বা ক্রিস্টাল মেথ ব্যবহার শুরু করে।
৭০ এর দশকে এটি পার্টি এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে একটি বিনোদনমূলক ড্রাগ হিসাবে ব্যাপক ব্যবহার করা হতো।
১৯৭০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকার ক্রিস্টাল মেথ এর ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরে ১৯৯০ সালে মেক্সিকোর মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক হিসেবে এটি ছড়িয়ে দেয় আমেরিকা, ইউরোপ, চেক রিপাবলিক ও এশিয়াসহ গোটা দুনিয়ায়।
বর্তমানে ইউরোপে মূলত হল্যান্ড এবং বেলজিয়ামে বেশিরভাগ এক্সট্যাসি উৎপাদিত হয়।

বিজ্ঞানী অ্যান্টন ক্যালিশ
বিজ্ঞানী অ্যান্টন ক্যালিশ

এক্সটাসি বা আইস যেভাবে বিক্রি হয়

বিচিত্র বর্ণময় ট্যাবলেট হিসেবে বেশি বিক্রি হয় এক্সটাসি।তবে পাউডার হিসেবেও এটি বিক্রি হয়। ইন্জেকশন হিসেবেও এটি বিক্রি হতে দেখা যায়।

যেভাবে-বিক্রি-হয়-এক্সটাসি

এক্সটাসি বা আইস সেবন প্রক্রিয়া

ইনজেকশন হিসেবে নিলে এটি ৪০-৫০ সেকেন্ডের মধ্যে কাজ শুরু করে। ট্যাবলেট পানি দিয়ে খেলে ৩০-৪০ মিনিট পর কাজ শুরু হয়। পাউডারের গুড়া ধোয়ার মাধ্যমে সেবন করলে প্রয় ৫ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করে। এর প্রভাব ৩-৬ ঘন্টা থাকে। বিভিন্ন পার্টিতে ডান্স করার সময় ধোঁয়ার সাথে মিশিয়ে দেয়া হয় এক্সটাসির গুড়া।

এক্সটাসি বা আইস এর দাম কত?

৭০-১০০ মিলিগ্রাম ওজনের একটি ট্যাবলেটের দাম ১৫-২৫ ডলার মানে ১৪০০-১৯০০ টাকা প্রায়। কিন্তু কালোবাজারি মার্কেটে এটার দাম প্রায় ৫০০০ টাকা পরে। দক্ষিণ আমেরিকায় এক কেজির দাম ১৫০০০-২৫০০০ ডলার।

এক্সটাসির ডোজ

একবার নেশা করার জন্য ৭০-১০০ গ্রাম ওজনের একটি ট্যাবলেট প্রয়োজন হয়। এর প্রভাব যেহেতু ৩-৫ ঘন্টা থাকে তাই নেশাকারীকে দিনে বেশ কয়েকবার সেবন করতে হয়।

এক্সটাসি বা আইস প্রস্তুত প্রণালি

এই মাদক প্রস্তুত করা বেশ সহজ সংয়ক্রীয় একটি মেশিনে সব উপাদান দিয়ে দিলে দ্রুত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এক্সটাসি ট্যাবলেট তৈরি হয়।
এটি তৈরির প্রধান উপাদানগুলো হলো – safrole, isosafrole, piperonal and 3,4-methylenedioxyphenyl-2-propanone (PMK). Safrole হলো বিক্রিয়া শুরুর প্রধান উপাদান এর সাথে hydrobromic acid যোগ করলে bromosafrole উৎপন্ন হয় এরপর এতে methylamine যোগ করলে উৎপন্ন হয় MDMA।
তবে এতে আরও ভিন্ন উপাদান যোগ করে বিভিন্ন নেশার ঔষধ তৈরি করা যায়।

এক্সটাসি-বানানোর-মেশিন
এক্সটাসি-বানানোর-মেশিন

ক্রিস্টাল মেথ কি?

এমডিএমএ এর অপর নাম ক্রিস্টাল মেথ।

ফান ট্যাবলেট কি?

এক্সটাসির অপর নাম ফান ট্যাবলেট।

এমডিএমএ কি?

Ecstasy এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো এমডিএমএ। M=methylene D=dioxy M=methyl A=amphetamine

Please Click on Just one Add to help us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।