কলার পুষ্টিগুণ# কলার উপকারিতা এবং অপকারিতা#

Table Of Contents
  1. কলার পুষ্টিগুণ# কলার উপকারিতা এবং অপকারিতা#

কলার পুষ্টিগুণ# কলার উপকারিতা এবং অপকারিতা#

‘বান্দরের সামনে কলা ঝুলানো’ কথাটার সাথে অনেকেই পরিচিত। বান্দর আসলেই কলা পছন্দ করে। কিন্তু বান্দর তো জানেনা কলার উপকারিতা। জানলে হয়তো আর রক্ষে হতো না সব কলা ঐ বান্দর মশাইয়ের পেটে যেত।

যাইহোক আপনি আগে জানুন কলার মাহাত্ম্য তারপর ভাবুন বান্দের চাইতে কয়টি বেশি খাবেন। শুরু করা যাক কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আলোচনা..


আপনি আরো পড়তে পারেন…. সরিষার তেল বনাম সয়াবিন তেলসাগর কলা বনাম অনুপম কলা

কলার পুষ্টিগুণ

কলার পুষ্টিগুণ বলে শেষ করার মত নয়।এটি বিভিন্ন জৈবরাসায়নিক উপাদানে ভর্তি। ছকের মাধ্যমে কলার পুষ্টিগুণ দেখে নিন।

কলার পুষ্টিগুণের চার্ট

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কলার পুষ্টিগুণ

উপাদানের নামপরিমাণ
ক্যালরি১০৯ কিলোক্যালরি
প্রটিন৭ মিলিগ্রাম
শর্করা২৫ মিলিগ্রাম
চর্বি০.৭ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি-১০.১০ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি-২০.০৫ মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি২৪ মিলিগ্রাম
ভিটামিন এ৮০ মাইক্রোগ্রাম
ক্যালসিয়াম১৩ মিলিগ্রাম
লৌহ০.৯০ মিলিগ্রাম

কলার উপকারিতা

কলা পৃথিবীতে ইউনিক ফ্রুট, সুপার ফুড নামে পরিচিত। সব দেশেই কলার কদর আছে ভালো ফল হিসেবে।

একটি ফলে সকল ভিটামিন আছে এমন ফলের সংখ্যা খুবই নগন্য। এই নগন্য সংখ্যার মধ্যে একটি হলো কলা। আসুন ফটাফট জেনে নেই কলার ৫ উপকারিতা…

কলার পুষ্টিগুণ,উপকারিতা,অপকারিতা
কলার পুষ্টিগুণ উপকারিতা অপকারিতা

শক্তির ডিপো

আপনার দ্রুত শক্তি চান? তাহলে ঝটপট ২টি পাকা কলা খেয়ে ফেলুন এটি নিমিষেই আপনাকে শক্তি সাপ্লাই করতে শুরু করবে।
কারন করায় আছে প্রচুর গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ এগুলো হজম করার দরকার নেই শুধু রক্তে মিশে যায়। আবার এতে যে ডায়াটরি ফাইবার আছে তা সুপার ফাস্ট গতিতে হজম হয়ে আরও গ্লুকোজ তৈরিকরে যা প্রচুর শক্তির যোগান দেয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে কলার কারিকুরি

হলে রক্তে সুগার বেশি থাকে। আপনি মিষ্টি বা শর্করা জাতীয় খাবার খেলে তা দ্রুত হজম হয়ে রক্তে মিশে যায় এবং শর্করার পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করে। এতে করে ডায়াবেটিস বাড়ে।
কম পাকা কলায় যে শর্করা থাকে তা রেসিস্ট্যান্ট স্টার্চ এটি সহজে হজম হয় না।এটি অল্প করে হজম হয় আর রক্তে মেশে ফলে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে।

কলা হার্ট ভালো রাখে

কলাতে আছে প্রচুর পটাশিয়াম এটি হার্টের পেশিগুলোকে তাজা রাখে। হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমায়। মস্তিষ্কের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে হ্রাস করে।ব্লাড প্রেসার কমাতে কলা অত্যন্ত উপকারী।

কিডনি সুস্থ রাখে

কলার পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম কিনডির কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা যায় যেসব ব্যক্তি প্রতিদিন কলা খান তাদের কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৪০ ভাগ কম। কিডনি পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে এটি। মূত্রতন্ত্রের ইনফেকশন কমাতে এর অবদান আছে।

আলসার ভালো করে কলা

পেটে আলসার হলে কলা খান। কলার মিউসিলেজ পাকস্থলীর ভেতরের প্রাচিরে ক্ষতিগ্রস্ত মিউকাস পর্দাকে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। কলার ফাইবার গ্যাস্ট্রিক হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

হজমে কলার কেরামতি

চর্বি জাতীয় খবার গ্রহন করার ৩০ মিনিট পর একটি পাকা কলা খেলে দ্রুত চর্বি হজম হয়ে যায়। চর্বির ক্ষতিকর অংশ খুব সহজে পরিপাক হয় কলার কারণে।কলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি হজমে সহায়তা করে।
কলায় থাকে পেকটিন নামক একটি ফাইবার। যা কোষ্টকাঠিন্যের মতো সমস্যার দূরে রাখতে সাহায্য করে।

ভিটামিনের আধার

কলাতে A to Z ভিটামিন আছে। চিন্তা করুন, শুধু কলা খেলেই আপনি সব ভিটামিন পাবেন। বাজার থেকে কোন ভিটামিনের কৌটা কিনতে হবে না।
এতে থাকা পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি ও সি শরীরের জন্য দারুণ উপকারী।

তারুণ্য ধরে রাখে কলা

কলার ভিটামিন ও অন্যান্য উপাদান কোষকে অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। ত্বকের কোষে পানির পরিমান বৃদ্ধি করে কলা তাই ত্বকের লাবণ্যতা বজায় থাকে।
এর ভিটামিন ই যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে।কলার ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের কোলাজেন গঠনে সহায়তা করে এবং ত্বককে ফ্রিরেডিকেলজনিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় কলা

বেশি পাকা কলাতে TNF-A নামক এক ধরণের যৌগ আছে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। এতে করে ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

মানসিক চাপ কমায়

ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো এসিড কলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, এটি রক্তে মিশে যাওয়ার পর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সেরাটোনিনে রূপান্তর হয়।আনন্দদায়ক অনুভূতি সৃষ্টির জন্য সেরাটোনিন কাজ করে।
সেরাটোনিনের সঠিক মাত্রা আপনার মন ভালো রাখবে এবং মানসিক চাপ কমাবে।মনতো ফুরফুরা তাইলে ভালো ঘুম তো এমনি হবে।এর মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম- যা বিষণ্ণতা রোধে কাজ করে।

রক্ত বৃদ্ধি করে

কলাতে ভিটামিন বি-৬ থাকে এটি রক্তের লোহিত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এর ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত করে ফলে হাড় থেকে রক্ত কণিকা ভালো মাত্রায় উৎপন্ন হয় এবং রক্ত স্বল্পতা কমায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

কলায় প্রচুর ক্যারোটিনয়েড নামক এন্টি অক্সিডেন্ট আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এর ভিটামিন ই প্রজনন স্বাস্থ্য ভালো করে। ভিটামিন এ কলায় প্রচুর আছে ফলে এটি আপনার চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করবে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায় কলা

প্রতিদিন একটি করে কলা খেলে আপনার মস্তিষ্কের স্মৃতিভাণ্ডার শক্তিশালি হবে মানে আপনার স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এর বিভিন্ন উপাদান মগজের প্রয়োজনীয় খাদ্যের জোগান দেয়।

ওজন বাড়াতে ও কমাতে কলার ভেলকি

একদম পাকা কলা ২টি ও ঘন দুধ ২৫০ মিলি রোজ খেলে দেহের ওজন বাড়ে। আবার একটু কম পাকা কলা ২-৩ কয়েক মিনিট পরপর খেলে পেট ভরে যায় ক্ষুধা কম লাগে তাই ওজন কমে যায়।
ওজন কমানোর জন্য বেশি পাকা কলা না খেয়ে একটু কম পাকা কলা খান। কম পাকা কলাতে রেসিস্ট্যান্স স্টার্চ পাওয়া যায় বেশি।এটি ওজন কমাতে সাহায্য করবে কিন্তু শক্তি বাড়াবে।

কোন কলা বেশি উপকারি?

বীজহীন সকল জাতের কলাই প্রায় সমান উপকারি তবে কিছু কলার বিশেষ কিছু উপকারিতা আছে। বিচি কলা বা সবরি কলা বা এটে কলার ঔষধি উপকারিতা আছে। বিবরণ থেকে জেনে নেই কোন কলা বেশি উপকারি…..

বিভিন্ন রকমের কলা, কলার পুষ্টিগুণ,উপকারিতা,অপকারিতা
বিভিন্ন রকমের কলা
কাঁঠালি কলার উপকারিতা

স্বাবাবিক মাথাব্যথা ও বাতের ব্যথার প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে। ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

চাপা কলা বা চম্পা কলার উপকারিতা

এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় পেট পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।মস্তিষ্ক সতেজ রাখে ও মানসিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে।

সিঙ্গাপুরী কলার উপকারিতা

এই সিঙ্গাপুরী কলা আয়রনে ভরপুর ফলে এটি রক্তস্বল্পতা দূর করে। দেহে পানির শোষণ বৃদ্ধি করে।

বিচি কলা বা আঁটিয়া কলার উপকারিতা

বীজহীন কলা খেতে খেতে আমাদের সবরই ভালো লাগে কিন্তু বিচি কলা দেখলেই গা গুলায়। বিচি কলা বা এটে কলার ঔষধি গুণ জানলে আপনি আজ থেকেই খাওয়া শুরু করবেন।

বিচি কলার,সপরি কলা,এটে কলার অনেক ঔষধি গুণ আছে।এসব বীজ ওয়ালা কলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস থাকে, যা শরীরে স্বাস্থ্যকর টিস্যু গঠনে কাজ করে। বিচি কলার ফুলের রস ব্রংকাইটিস, আমাশয় এবং আলসার ভালো করে, রান্নাকরা ফুল ডায়বেটিস এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
গাছের কষযুক্ত রস হিস্টেরিয়া, কুষ্ঠ, জ্বর, রক্তক্ষরণ বন্ধ, স্থায়ী আমাশয় এবং ডায়রিয়া রোগে ব্যবহৃত হয়। গাছের শিকড় পরিপাকজনিত সমস্যা এবং আমাশয়ে ব্যবহৃত হয়।

অনুপম কলার উপকারিতা

অনিদ্রা ভালো করে।মানসিক ট্রেস কমায়
চর্বি হজমে সাহায্য করে

সাগর কলার উপকারিতা

গ্রামে প্রচলিত আছে সাগর কলা সেক্স কমায়, আসলে সাগর কলার মিউসিলেজ বির্য রস বৃদ্ধি করে আর ফ্রুকটোজ শুক্রাণুর খাদ্য যোগায়।
ঠান্ডা লাগলে বা কাশি হলে সাগর কলা খাওয়া যাবে না, আসলে ঠান্ডা বেশী বা কাশ হওয়ার সাথে কলার কোন সম্পর্ক নেই বরং কলার পেকটিন ও মিউসিলেজ কাশি নরম করে বের হতে সাহায্য করে।
তবে শ্বাস কষ্ট বা অ্যাজমা আছে এমন রোগির সাগর কলা না খাওয়াই ভালো।

কলার অপকারিতা কি?

ম্যালা উপকারের কথা শুনে যদি সমানে হালি হালি কলা সাবার করেন তাহলে কিন্তু সমস্যা আছে মশাই। উপকারের পাশাপাশি কলার অপকারিতা সম্পর্কে জানতে হবে।

  1. খালিপেটে কলা খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যাবে।
  2. বেশি মাত্রায় কলা খেলে শরীরে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয় ফলে হার্টের রোগ হতে পারে।
  3. যাদের দেহের পটাসিয়াম লেভেল বেশি তাদের কলার অপকারিতা ভালো করে জানা উচিৎ কারণ কলার পটাশিয়াম দেহের পটাশিয়াম লেভেল কে আরো বৃদ্ধি করবে এতে হাইপারক্যালিমিয়া রোগ হবে। এরফলে কিডনি জটিলতা,পেশির খিঁচুনি, মাথা ঘোরা,হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন অনিয়মিত হওয়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  4. যাঁদের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা আছে বেশি মাত্রায় কলা খেলে তা বেড়ে যেতে পারে।
  5. আপনি চরম লেভেলের ডায়াবেটিকস রোগী হলে একদম পাকা কলা খাবেন না। এটি আপনার সুগার লেভেল বিপদ মাত্রা অতিক্রম করে দেবে।
  6. মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে কলা না খেলেই ভালো হয়। কলাতে টাইরামাইন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে যা মাইগ্রেনের অন্যতম কারণ।

কলার অপকারিতা জেনে আবার করা খাওয়া বাদ দেবেন না। উপকারের সাপেক্ষে কলার অপকারিতা অতি নগন্য তাই সমস্যা না থাকলে প্রত্যেকদিন ১-৩টি করে কলা অনায়াসে খেতে পারেন।

health benefit of banana in bangla

kolar pustigun, kola,sagor kola,onupom kola,kolar upokarita,kolar opokarita, chapa kola, kathali kola,

Tag; কলার পুষ্টিগুণ# কলার উপকারিতা এবং অপকারিতা# কলার পুষ্টিগুণ কলার পুষ্টিগুণ কলার পুষ্টিগুণ কলার পুষ্টিগুণ

Please click on Just one Add to Help Us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।