বিষাক্ত গরু চেনার ১০ উপায়

বিষাক্ত গরু চেনার ১০ উপায়

বিষাক্ত গরু বা কেমিক্যাল দিয়ে মোটাতাজা করা গরুর কথা অনেকেই শুনেছেন।চকচকে রং এবং নাদুসনুদুস
স্বাস্থ্যের কারণে এ গরু গুলোকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে।কিন্তু আপনি জানেন কি এই চাকচিক্যের পিছনে
লুকিয়ে আছে বিষাক্ত কেমিক্যালের এক মরণ ফাঁদ।

বিষাক্ত গরু
চকচকে গরু

কিন্তু কি বলব, আমাদের দেশের বিত্তবানদের একটি বাজে শখ হল কোরবানির হাটে গিয়ে সবচেয়ে বড় এবং চকচকে গরু কেনা। সমাজে ক্ষমতা প্রদর্শন,সম্পদের বিশালতা প্রদর্শন করতে বিত্তবানরা প্রায়ই কোরবানির হাটে গিয়ে এসব বিষাক্ত গরু কেনেন।

এই শ্রেনীর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অসাধু খামারিরা গরুকে বিষাক্ত ঔষধ প্রয়োগ করে মোটাতাজা করে।সারা দেশে বিষাক্ত স্টেরয়েডে মোটাতাজা হচ্ছে গরু-মহিষ।যাদের টাকা আছে তারা এসব চাকচিক্যময় বিষাক্ত গরু কিনে প্রতারিত হলেও কোন সমস্যা নাই।কিন্তু যারা বেশি অর্থ-বিত্তের মালিক নন তারা অনেক কষ্টের টাকা খরচ করে সাধের গরু কেনেন।

এসব মধ্যবিত্ত মানুষ কষ্টের টাকা খরচ করে সাধের গরু কেনার পর যদি দেখে গরুটি কেমিক্যাল দিয়ে মোটাতাজা করা তখন আর কিছু করার থাকে না শুধু মাথা চাপরায়।তাই ঠকে যাওয়ার আগেই জেনে নিন বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে মোটাতাজা করা বিষাক্ত গরু চেনার ১০ উপায়।

আরও পড়ুন…. নাগ মনির রহস্য/সাপের মাথায় কি মণি হয়?

বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা!!

বিষাক্ত গরু কি?

গরু স্বাভাবিকভাবে যে খাবার খায় তার ভেতরে আমিষ,শর্করা, চর্বি ও ভিটামিন থাকে।আমিষ পরিপাক হয়ে দেহে অ্যামিনো এসিড তৈরি করে।
এই অ্যামিনো এসিড দেহের মাংস তৈরি করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ যে যত বেশি পরিমাণে আমিনো এসিড সংশ্লেষিত হবে ততো বেশি পরিমাণে মাংস তৈরি হয়।স্বাভাবিক খাবার খেলে স্বাভাবিক খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বা আমিষের পরিমাণ কম থাকে।
খাবারে কমানুষের উপস্থিতির কারণে গরু ধীরে ধীরে মোটাতাজা হয়। এই গরুর মাংস সাধারণত খুব সুস্বাদু হয়।
কিন্তু গরুর খাবারের যদি বিষাক্ত কেমিকেল, স্টেরয়েড জাতীয় পদার্থ মিশিয়ে দেওয়া হয়,তবে এই পদার্থগুলো গরুর দেহে অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যামিনো এসিড সংশ্লেষ করে।
অতিরিক্ত এমিনো এসিড সংশ্লেষণ কারণে গরুর দেহে অতিরিক্ত আমিষ সংশ্লেষিত হয় ফলে গরু গুলো কম সময়ের মধ্যে বেশি মোটা হয়।
স্টেরয়েড ব্যবহার করলে গরুর কিডনি ঠিকমত পানি ফিল্টার করতে পারে না। এই পানি গরুর মাংসপেশিতে ঢুকে পরে।মাংস ও চামড়ার নিচে অতিরিক্ত পানির উপস্থিতির জন্যেও গরুকে মোটা মনে হয়।
এই পানি গরুর মাংসপেশিতে ঢুকে পরে।মাংস ও চামড়ার নিচে অতিরিক্ত পানির উপস্থিতির জন্যেও গরুকে মোটা মনে হয়।এই বিষাক্ত পদার্থ গুলো গরু এবং মানুষ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর।
গরু মোটাতাজাকরণে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে পাম ট্যাবলেট,স্টেরয়েড ও ডেক্সামেথাসনের মতো ভয়ানক ক্ষতিকারক ওষুধ।বিষাক্ত কেমিকেলগুলো মাংস ও হাড়ে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অবস্থান করতে পারে। এই গরু গুলো বেশি দিন বাঁচে না।(আরও পড়ুন- বেশী মাংস খাওয়ার অপকারিতা!!)

বিষাক্ত গরু, মাংস খাওয়া থেকে ঘটবে ভয়ঙ্কর বিপদ!

বিষাক্ত গরু চেনার ১০ উপায়

বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে মোটাতাজা করা গরু দেখতে আকর্ষনীয় হলেও আসলে সেগুলো মোটাতাজা হয় না।

এই গরুগুলোর দেহে অবস্থিত বিষাক্ত পদার্থগুলো গরুর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে এমনকি গরু জবাই করার পর গরুর মাংসে উপাদানগুলো অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে।

রান্না করার পরও মাংস থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূরীভূত হয়না।

এই মাংস খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। যেমন-

কিডনি বিকল
হওয়া,স্ট্রোক,হার্টএটাক হওয়া,লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি,শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ হওয়া,গর্ভের সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়া

সবচেয়ে বড় বিপদটি হলো এ মাংস খাওয়ার ফলে আপনি একসময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন

বিষাক্ত গরু চেনার ১০ উপায়

গরু কেনার আগে এ ১০ টি বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে খতিয়ে দেখুন।এরকম তিনটি বৈশিষ্ট্য কোন গরুতে থাকলে সেই
গরুটি অবশ্যই বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে মোটাতাজা করা।

বিষাক্ত গরু চেনার ১০ উপায়

বিষাক্ত গরু চেনার ১০ উপায়

Total Time: 1 day

১।আঙ্গুল দিয়ে জোরে চাপ দেওয়া

বিষাক্ত গরু চেনার ১০ উপায়

বিষাক্ত স্টেরয়েডের প্রভাবে গরুর দেহে প্রচুর পানি জমে।এই অতিরিক্ত পানির জন্যে গরুকে মোটাতাজা মনে হয়। পানিগুলো মাংসপেশি এবং ত্বকের নিচে অবস্থান করে। মোটাতাজা গরুটির দেহের বিভিন্ন অংশে আঙ্গুল দিয়ে জোরে চাপ দিন। চাপ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর যদি দেখেন চাপ দেওয়ার ফলে দেবে যাওয়া অংশটি পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসেনি তবে বুঝতে হবে গরুটি বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে মোটাতাজা করা।

২।অস্বাভাবিক শান্ত

অস্বাভাবিক শান্ত

অতিরিক্ত ওজনের কারণে এসব গরু স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। এরা খুব ধীরে নড়াচড়া করে। সবসময় অস্বাভাবিক শান্ত থাকে। এদের গুতো দিলেও আপনার উপরে এরা মন খারাপ করবে না।

৩।ভীষণ ক্লান্ত থাকে

ভীষণ ক্লান্ত থাকে

ভীষণ ক্লান্ত থাকে এবং ঝিমায়। লেজ ও কান কম নড়ায়।

৪।শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়

এই গরুর শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়,হাঁসফাঁস করে,নাক দিয়ে অনবরত ফোসফোস শব্দ করে।

৫।লালা ঝরে

লালা ঝরে

মুখ দিয়ে সব সময় লালা ঝরে।

৬।খাবার খেতে চায়না

এই গরুর মুখের সামনে খাবার দিলে খেতে চায়না।খাবার খাওয়ার প্রতি এদের আগ্রহ খুবই কম থাকে,জাবর কাটে না।কিন্তু সুস্থ গরু খাবারের প্রতি সবসময়ই বেশি আগ্রহ দেখায়। বিষাক্ত গরু ।

৭।নাকের উপর অংশ শুকনা থাকবে।

নাকের উপর অংশ শুকনা থাকবে।

সুস্থ গরুর নাকের উপর বিন্দু বিন্দু ঘাম থাকবে। কিন্তু বিষাক্ত গরুর নাকের উপর অংশ শুকনা থাকবে।

৮।রানের মাংস নরম

বিষাক্ত গরু চেনার ১০ উপায়

সুস্থ গরুর রানের মাংস শক্ত হয় কিন্তু বিষাক্ত গরুর রানের মাংস নরম হয়।

৯।বুকের হাড় দেখা যায় না

বুকের হাড় দেখা যায় না

সুস্থ গরুর বুকের দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন অন্তত একটি বুকের হাড় চামড়ার উপর দিয়ে দেখা যায়।কিন্তু বিষাক্ত গরুর ত্বকের নিচে পানি জমার কারণে বুকের হাড় দেখা যায় না।

১০।চোখ ঘোলাটে হয়

চোখ ঘোলাটে হয়

সুস্থ গরুর চোখ চকচকে উজ্জ্বল বর্ণের হয় কিন্তু বিষাক্ত গরুর চোখ ঘোলাটে হয়।

কোরবানির সুস্থ গরু চেনার ১০ উপায় কি?

বিষাক্ত গরুর লক্ষণগুলো ভালোকরে শনাক্ত করতে পারলে ভালো গরু সহজে চিনতে পারবেন।

ট্যাবলেট খাওয়ানো গরু চেনার উপায় কি?

বিষাক্ত গরু চেনার লক্ষণ ও ট্যাবলেট খাওয়ানো গরু চেনার লক্ষণ একই।

Bisakto goru chenar upay?

how to find poisonous cow, medicine dea goro chenar upay, chemical dea goro chinbo kivabe?

Please Click On Just One Add To Help Us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা।আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।