মৌমাছির বিষের উপকারিতা

Table Of Contents
  1. মৌমাছির বিষের উপকারিতা
  2. মৌমাছির বিষের উপাদন
  3. এডোলাপিন

মৌমাছির বিষের উপকারিতা

মৌমাছির মধু সবার কাছে প্রিয় হলেও, মৌমাছির কামড় নিঃসন্দেহে সবার কাছে অপ্রিয়। তবে মৌমাছির বিষের উপকারিতা জানলে আজ থেকে অন্তত একবার স্ব-ইচ্ছায় মৌমাছির কামড় খেতে চাইবেন।আসুন জানাযাক মৌমাছির বিষের উপকারিতা।

আপনি আরও পড়তে পারেন…. এন্টিভেনম কি? সাপের বিষের প্রতিষেধক|

মৌমাছির বিষের উপকারীতা
মৌমাছির বিষের উপকারীতা

মৌমাছির বিষের উপাদন

স্ত্রী কর্মি মৌমাছি ও রানী মৌমাছির বিষ থাকে। মৌমাছির বিষকে বরা হয় Apitoxin বা bee venom. একটি পূর্ণাঙ্গ মৌমাছি একবার কামড় দিয়ে 0.1mg বিষ প্রবেশ করাতে পারে।মৌমাছির বিষে প্রধান উপাদান গুলো হলো –

মৌমাছির বিষের উপাদনমৌমাছির বিষের উপাদন
উপাদানপরিমান
পানি৮৮%
বিষ১%
মেলিটিন৪০-৬০%
এপামিন২-৫%
MCD২-৩%
এডোলাপিন১%
ফসফোলাইপেজ১২-১৫%
হায়ালুরোনিডেজ১.৫-২%

এপামিন

এপামিন ১৮ টি অ্যামিনো এসিডের শিকল দিয়ে গঠিত নিউরোটক্সিক উপাদান। এটি মৃদু বিষাক্ত উপাদান।
এপামিন নিউরন তথা স্নায়ুতন্ত্র কে আক্রমণ করে, তবে মারাত্মক কিছু নয়।একশো মৌমাছি একসাথে একজন মানুষকে কামড় দিলে এই বিষ মৃত্যু ঘটাতে পারে।
এপামিন ব্যাথানাশক উপাদান হিসেবে কাজ করে। এটি প্রদাহনাশক রূপেও ভাল কাজ করে।

মাস্ট সেল ডিগ্রানুলেটিং পেপটাইড

MCD পেপটাইড ২২ টি অ্যামিনো এসিড শিকল নিয়ে গঠিত। এটি রক্তের মাস্ট কোষকে হিস্টামিন ক্ষরনে উদ্দিপিত করে। এটিও নিউরোটক্সিক বিষ। এটি ব্লাড প্রেশার কমিয়ে দেয়।

এডোলাপিন

এন্টিইনফ্লামেটরি উপাদান। এটি চুলকানি সৃষ্টি করে। কামড়ের জায়গা লাল হয়ে ফুলে উঠে এর কারণে।

পি,এইচ লাইপেজ

হৃদপিন্ডের গতি বৃদ্ধি করে এর ফলে বুক ধরফর করে, প্রথমে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে ধমনির প্রাচির সংকুচিত করে কিন্তু পরে ধমনির প্রাচীর প্রসারিত করে রক্ত চাপ কমায়।

হিস্টামিন

এটি তিব্র চুলকানির সৃষ্টি করে।এলার্জিক বিক্রিয়া ঘটায়। দেহে এন্টিহিস্টামিন ক্ষরিত হলে এলার্জি প্রতিরোধ করে।

ডোপামিন

ডোপামিন (3,4-dihydroxyphenethylamine হতে পরিবর্তিত সমাণু) হল একটি হরমোন এবং ক্যাটেকোলামাইন ও ফেনাথ্যালামিন পরিবারের একটি নিউরো ট্রান্সমিটার যা মানব মস্তিষ্ক ও শরীরে বহুসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডোপামিনের অভাবে পারকিনসন রোগ হয়। ডোপামিন পেশীর কার্যফল বৃদ্ধি করে।রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও রয়েছে এই হরমোনের প্রভাব।ব্যথার প্রভাব ও অনুভূতি কমাতে এই হরমোন কাজে লাগে

ফোসফাটেজ

রক্তপাত বন্ধ করে।কোষীও নিয়ন্ত্রণ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার মধ্যে বিচিত্র ভূমিকা পালন করে।

মেলিটিন

ক্যান্সার কোষ,এইডস ভাইরাস কে আক্রমণ করতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।মৌমাছির বিষে থাকা মেলিটিন দুরারোগ্য ‘ট্রিপল-নেগেটিভ’ (টিএনবিসি) এবং ‘এইচইআর২-এনরিচড’ স্তন ক্যান্সারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে।
মেলিটিন ২৬টি অ্যামিনো এসিড দিয়ে গঠিত একটি ‘বেসিক পেপটাইড’; যা ওই দুই ধরনের স্তন ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে।

হায়ালুরোনিডেজ

এটি পেশি ও অস্থি সন্ধির হায়ালুরোনিক এসিড ভেঙ্গে ফেলে ফলে অস্থি সন্ধিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এই কারণে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগিদের ব্যাথা উপশম হয়।

মৌমাছির বিষের উপকারিতা

মৌমাছির হুল ফুটানো বিষ খুবই যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু মৌমাছির হুল থেকেসংগৃহীত বিষ রোগ নিরাময়ের উপাদানহিসাবে কাজ করতে পারে বলে গবেষকরা দাবী করেছেন।

মৌমাছির বিষের ব্যবহার

বর্তমানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে মৌমাছির বিষের ব্যবহার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় মৌমাছির বিষ ব্যবহার করা হয়। যেমন…..

বিষে বিষক্ষয়

মৌমাছি কামড় দিলে তার চিকিৎসায় মৌমাছির বিষ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিলে কামড়ের ফলে সৃষ্ট জটিলতা ভালো হয়ে যায়।

রোগের মহৌষধ মৌমাছির বিষ

গেঁটে বাত সারাতে মৌমাছির বিষ

নিউজিল্যান্ডের নেলসন হানি এন্ড মার্কেটিং নামীয় একটি কোম্পানি জানিয়েছে, গেঁটে বাতজনিত ব্যথা নিরাময়ে প্রদাহ নিরোধক হিসাবে কাজ করে মৌমাছির বিষ। তাদের মতে,মৌমাছির বিষ প্রয়োগে বাতের চিকিৎসা নতুন ধারণা নয়। কোন কোন ক্লিনিকে মৌমাছির হুল ফুটিয়ে বাতের চিকিৎসা করা হয়।

পারকিনসন রোগে মৌমাছির বিষ

ডোপামিনের ক্ষরণ কমে গেলে পারকিনসন রোগ হয়। মৌমাছির বিষে ডোপামিন থাকে এবং বিষের অন্যান্য উপাদান ডোপামিনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। পারকিনসন রোগে পেশির অনিয়ন্ত্রিত ঝাঁকুনি হয় মৌমাছির বিষ প্রয়োগ করে এই ঝাঁকুনি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

আলঝেইমার রোগের উপশম করে মৌমাছির বিষ

মস্তিষ্কের নিউরনের ক্রমাগত ক্ষয়জনিত রোগ হলো আলঝেইমার রোগ।মৌমাছির বিষের উপাদান এই ক্ষয় রোধে সাহায্য করে।

এমায়োট্রোপিক ল্যাটেরাল স্কেলেরোসিস(ALS)

মোটর নিউরনের ক্রমাগত ক্ষয় জনিত রোগকে বলে ALS. মৌমাছির মৌমাছির বিষ দিয়ে অকুপাংচার করলে মোটর নিউরনের ক্ষয়ের হার হ্রাস করা যায়।

ক্যান্সার চিকিৎসায় মৌমাছির বিষ

মৌমাছির বিষের উপাদান মেলিটিন ব্যবহার করে ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন বিপ্লব আনা হয়েছে। মেলিটিন কোষের এপোপটসিস বা স্বাভাবিক মৃত্যুকে তরান্বিত করে। ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে মেলিটিন এটি প্রাকৃতিক কেমোথেরাপির মত কাজ করে।
টিউমার সেল কে বৃদ্ধি পেতে বাধা দেয় মেলিটিন। বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার যেমন- ফুসফুস, স্তন,লিভার,প্রোস্টেট, ব্লাড ক্যান্সারের কোষকে বৃদ্ধি পেতে বাধা দেয় মেলিটিন এর এন্টিটিউমার এক্টিভিজ ধর্ম। মৌমাছির বিষে থাকা মেলিটিন দুরারোগ্য ‘ট্রিপল-নেগেটিভ’ (টিএনবিসি) এবং ‘এইচইআর২-এনরিচড’ স্তন ক্যান্সারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে।
মেলিটিন ২৬টি অ্যামিনো এসিড দিয়ে গঠিত একটি ‘বেসিক পেপটাইড’; যা ওই দুই ধরনের স্তন ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করে।

ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়

মৌমাছির বিষে আছে এন্টিইনফ্লামেটরি উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণ এর ফলে সৃষ্ট প্রদাহ কমায়। মৌমাছির বিষ দেহে জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং জীবাণু ভক্ষণ প্রক্রিয়া উদ্দিপিত করে ফলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বৃদ্ধি হ্রাস পায়।

স্ট্রোকের পর পেশির অসাড়তা দূরকরে

স্ট্রোকের পর অনেক রোগির হাত, পা, কাঁধের পেশি অসাড় হয়ে যায়। মৌমাছির বিষ এই অসাড়তা দূর করতে সাহায্য করে।

স্নায়ুতন্ত্রের ব্যথা কমায়

মৌমাছির বিষ স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাথা উপশম করতে সাহায্য করে।

মৌমাছির বিষের অপকারিতা

  1. গর্ভবতি মহিলার দেহে বেশি পরিমাণে মৌমাছির বিষ প্রয়োগ করলে তাদের গর্ভপাত হতে পারে।
  2. অনেকের দেহে মৌমাছির বিষ তিব্র এলার্জি সৃষ্টি করে।
  3. ওভারডোজ বিষের কারণে শ্বাসকষ্ট,হার্ট ফেইলর, কিডনি ফেইলর হয়ে মৃত্যু হতে পারে।
  4. বিষ প্রয়োগে ব্লাড প্রেশার কমে যেতে পারে তাই নিম্ন রক্তচাপের রোগিকে বিষ ইনজেক্ট না করাই ভালো।

মৌমাছির বিষ সংগ্রহের পদ্ধতি

মৌমাছি বিশেষজ্ঞ ও জীববিজ্ঞানী নিকোলাই নিকোলায়েভ মৌমাছির দেহ থেকে বিষ সংগ্রহের জন্য একটি নিরাপদ ইলেকট্রনিক ডিভাইস আবিষ্কার করেন।

মৌমাছির বিষ সংগ্রহেরর যন্ত্র

একটি কাচের বাক্সে কতগুলো বৈদ্যুতিক তার সমান্তরালে সাজানো থাকে। এই তারগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা যায়। একটি রেগুলেটর যন্ত্রের সাহায্য বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করা হয়। যন্ত্রটি মৌমাছির কৃত্রিম চাকের বাক্সের মধু প্রকোষ্ঠের উপর স্থাপন করা হয়।

মৌমাছির বিষ সংগ্রহেরর যন্ত্র
মৌমাছির বিষ সংগ্রহেরর যন্ত্র

মৌমাছির বিষ সংগ্রহ

বিষ সংগ্রহের যন্ত্রটি চাকের উপর স্থাপন করে তাতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়। প্রথমে একটি মৌমাছি যন্ত্রে প্রবেশ করে এবং ইলেকট্রিক শক খেয়ে কাচের ফ্রেমের উপর হুল ফোটায়। হুল ফোটালে কাচের উপর বিষ নির্গত হয়। এই বিষ থেকে সতর্ককারী ফেরোমন বাষ্প হয়ে বাতাসে ছরিয়ে পরে ফলে বাঁকি মৌমাছিরা চাক থেকে যন্ত্রে প্রবেশ করে হুল ফোটাতে থাকে।

সব মৌমাছির বিষ কাচের উপর জড়ো হয়। রেগুলেটর বন্ধ করলে ইলেকট্রিক শক বন্ধ হয় এর ফলে মৌমাছি হুল ফুটানো বন্ধ করে। এরপর ঝাঁকি দিয়ে যন্ত্র থেকে মৌমাছিকে আলাদা করা হয়। বিষগুলোকে বাষ্পীভবন প্রকিয়ায় শুষ্ক করা হয় এবং শুষ্ক অবস্থায় বিষ সংগ্রহ করা হয়। কালো কাচের পাত্রে ঠান্ডা পরিবেশে বিষ সংরক্ষণ করা হয়।

কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর

মৌমাছির বিষের দাম কত?

১ গ্রাম মৌমাছির শুকনো বিষের গুড়ার দাম ১০০০০-১৫০০০ টাকা প্রায়। উচ্চমানের বিষের ১ গ্রামের দাম ৩০০ ডলার বা ২৫০০০ টাকা।

এপিথেরাপি কি?

বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় মৌমাছির বিষ প্রয়োগ করে চিকিৎসা দেয়াকে এপিথেরাপি বলে। মাংসপেশি ও হাড়ের জয়েন্টের ব্যাথা সারাতে এপিথেরাপি বেশি দেয়া হয়।

মৌমাছি কামড়ালে কি হয়?

একশো মৌমাছি একসাথে একজন মানুষকে কামড় দিলে এই বিষ মৃত্যু ঘটাতে পারে।

মৌমাছির কামড়ে কোন এসিড থাকে?

ফরমিক অ্যাসিড থাকে

মৌমাছি কামড়ালে ক্ষতস্থানে চুন বা মধু ব্যবহার করা হয় কেন?

চুন বা মধুর সাথে ফরমিক অ্যাসিড প্রশমন বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম অক্সালেট Ca(H-COO)₂ লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।

Bee Venom: Uses, Benefits, and Side Effects in bangla

Bee Venom: Uses, Benefits, and Side Effects in bangla, bee venom composition in bangla. bee venom extraction process bangla. moumasir bisher upokarita. momasir bish er upodan.

Tag: মৌমাছির বিষের উপকারিতা মৌমাছির বিষেরউপকারিতা মৌমাছির বিষের উপকারিতা মৌমাছির বিষের উপকারিতা mo0umasi,mowmasi, moumasir bish, moumasir bisher upokarita মৌমাছির বিষের উপকারিতা মৌমাছির বিষের উপকারিতা

Please Click on Just one Add to help us

মহাশয়, জ্ঞান বিতরণের মত মহৎ কাজে অংশ নিন।ওয়েবসাইট টি পরিচালনার খরচ হিসেবে আপনি কিছু অনুদান দিতে পারেন, স্পন্সর করতে পারেন, এড দিতে পারেন, নিজে না পারলে চ্যারিটি ফান্ডের বা দাতাদের জানাতে পারেন। অনুদান পাঠাতে পারেন এই নম্বরে ০১৭২৩১৬৫৪০৪ বিকাশ,নগদ,রকেট।

এই ওয়েবসাইট আমার নিজের খরচায় চালাই। এড থেকে ডোমেইন খরচই উঠেনা। আমি একা প্রচুর সময় দেই। শিক্ষক হিসেবে আমার জ্ঞান দানের ইচ্ছা থেকেই এই প্রচেষ্টা। আপনি লিখতে পারেন এই ব্লগে। এগিয়ে নিন বাংলায় ভালো কিছু শেখার প্রচেষ্টা।