এন্টিভেনম কি? সাপের বিষের প্রতিষেধক|

এন্টিভেনম কি? সাপের বিষের প্রতিষেধক|

Table Of Contents

এন্টিভেনম কি? সাপের বিষের প্রতিষেধক| বেহুলা-লক্ষিন্দর এর কাহিনী পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে বহুল প্রচারিত একটি উপাখ্যান। হিন্দুধর্মের পবিত্র একটি পুরাণ হলো পদ্মপুরাণ। এই পদ্মপুরাণ লেখা হয়েছে সতী বেহুলার পতিভক্তির কাহিনি অবলম্বনে। সতী বেহুলার স্বামী লক্ষিন্দর কে সাপে কামড় দেয় আর তাকে বাঁচানোর চেষ্টা আকর্ষণীয়ভাবে উপস্হাপন করা হয়েছে পদ্মপুরাণে।

একবার ভাবুন তো যদি সেই সময় এন্টিভেনম বা এন্টিভেনিন আবিষ্কার হতো তাহলে কি হতো? হুম ঠিক ধরেছেন, লক্ষিন্দরও সাপের কামড়ে মরতো না পদ্মপুরাণ ও লেখা হতো না। প্রতিবছর, বিশ্বের প্রায় 100, 000 মানুষ বিষাক্ত সাপের কামড়ে মারা যায়।মৃত লোকদের অধিকাংশই সচেতনতার অভাবে বা পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে মারা যায়

ওঝার কাছে না নিয়ে যদি হাসপাতালে নেয়া হতো তাহলে ঐ মৃত লোকদের অধিকাংশই আজ জীবিতদের সাথে বাস করত। যাইহোক আসুন আজ জানাযাক বিজ্ঞানের মহৎ আবিষ্কার গুলোর মাধ্য একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এন্টিভেনম বা এন্টিভেনিন সম্পর্কে।আপনি আরো পড়তে পারেন – নারীর সতীত্ব বা কুমারীত্ব কি? জীবিত মানুষ পানিতে ডুবে যায় কিন্তু মৃতদেহ পানিতে ভাসে কেন?

এন্টিভেনম বা এন্টিভেনিন কি?

এন্টিভেনম শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। একটি শব্দ হলো ভেনম অন্যটি এন্টি।ভেনম শব্দের অর্থ বিষ। বিষাক্ত সাপের বিষকে সাধারণত ভেনম বলে। এন্টি শব্দের অর্থ বিরুদ্ধ। এন্টিভেনম শব্দের পূর্ণ অর্থ,বিষের বিরুদ্ধ।অর্থাৎ বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর উপাদানকে এন্টিভেনম বা এন্টিভেনিন বলা হয়।

এন্টিভেনম কি
এন্টিভেনম কি

সাপ কামড় দিলে সাপেকাটা রোগিকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো এন্টিভেনম বা এন্টিভেনিন থেরাপি।এন্টিভেনম ছাড়া পৃথিবীর আর কোন ঔষধ সাপেকাটা রোগির জন্য কার্যকর নয়।সৃষ্টিকর্তার কৃপায় মহান মানুষদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আবিষ্কৃত হয়েছে এন্টিভেনম।

এন্টিভেনম সাপের বিষ ধ্বংস করতে পারে। শুধু সাপের বিষ ধ্বংস করতেই এন্টিভেনম ব্যবহৃত হয় না অন্যান্য বিষাক্ত প্রাণির বিষ ধ্বংস করতেও এন্টিভেনম(এন্টিভেনাম)ব্যবহৃত হয় যেমন- ব্লাক উইডো মাকড়শা, জেলিফিশ, মাছ, ব্যাঙ ইত্যাদি।

এন্টিভেনম বা এন্টিভেনিন আবিষ্কার করেন কে?

সাপের বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষেধক এন্টিভেনম আবিষ্কারের ইতিহাস বলতে গেলে সবার আগে যার নাম আসে তিনি হলেন ফ্রান্সের বিজ্ঞানী আলবার্ট ক্যালমেট।

বিজ্ঞানী আলবার্ট ক্যালমেট
বিজ্ঞানী আলবার্ট ক্যালমেট
১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী আলবার্ট ক্যালমেট সফলভাবে এন্টিভেনম আবিষ্কার করেন।তার আবিষ্কৃত সেই পদ্ধতিতে এখনো বাণিজ্যিক ভাবে এন্টি ভেনম উৎপাদন করা হয়।

এন্টিভেনম বা এন্টিভেনিন আবিষ্কারের ইতিহাস

আজ থেকে ১৩০বছর আগের কথা। সাল ১৯৯০, আজকের ভিয়েতনাম তখন ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল।সেসময় পাস্তুর ইন্সটিটিউট এর একজন ছাত্র ছিলেন আলবার্ট ক্যালমেট।তিনি লুই পাস্তুর আবিষ্কৃত রেবিস ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছিলেন।তখন বর্ষাকালে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে গোখরা সাপের উপদ্রব বেড়ে যেত।প্রতিদিন বহুলোক সাপের কামড়ে প্রাণ হারাতো।

বন্যার পরে ভিয়েতনামের একটি শহর সায়গনের নিকটবর্তী একটি গ্রামে একটি গোখরা সাপের কামড়ে কমপক্ষে 40 জনেরর মৃত্যু হয়। এই ঘটনা ক্যালমেট কে ব্যথিত করে। তিনি সাপের বিষের প্রতিষেধক আবিষ্কারে মনোনিবেশ করলেন।ক্যালমেট দেখলেন গাধা ও ঘোড়াকে সাপ কামড় দিলে তেমন কিছু হয় না।এই আশ্চর্য বিষয় নিয়ে তার গবেষণা শুরু হলো।

ক্যালমেট একসময় জানতে পারলেন যে গাধা ও ঘোড়ার দেহে প্রাকৃতিকভাবে সাপের বিষের বিরুদ্ধে হাইপার ইমিউনিটিক্ষমতা উপস্থিত। এই ক্ষমতার কারণে গাধা ও ঘোড়ার দেহে সাপের বিষ ধ্বংস করার জন্য প্রচুর এন্টিবডি সৃষ্টি হয়।ফলে সাপের কামড়ে গাধা ও ঘোড়া মরে না। ক্যালমেট প্রথমে গোখরা সাপ কামড় দেয়া গাধার রক্ত সংগ্রহ করে সেই রক্ত থেকে এন্টিবডি সংগ্রহ করলেন।

তারপর এন্টিবডিগুলো সাপেকাটা রোগির দেহে প্রবেশ করালেন। এবার সাপেকাটা রোগি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলো। তারপর সাপ কামড় দেয়া ঘোড়ার রক্ত সংগ্রহ করে ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফলাফল পেলেন।১৯৯৬ সালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হলে পৃথিবীতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।

আরো অনেক দেশের বিজ্ঞানীগণ এই গবেষণার সূত্রধরে আবিষ্কার করতে থাকে অনেক বিষাক্ত সাপের এন্টিভেনম বা এন্টিভেনিন। ব্রাজিলের বিজ্ঞানী ভিটো ব্রাজিল আবিষ্কার করেন যে নির্দিষ্ট প্রজাতির সাপের এন্টিভেনম অন্য প্রজাতির সাপের ক্ষেত্রে কাজ করে না।

এন্টিভেনম বা এন্টিভেনাম এর প্রকারভেদ

কার্যকরিতার উপর ভিত্তি করে এন্টিভেনম ২ প্রকার যথা- মনোভ্যালেন্ট এন্টিভেনম ও পলিভ্যালেন্ট
এন্টিভেনম।

মনোভ্যালেন্ট এন্টিভেনম/ এন্টিভেনাম

যে এন্টিভেনম শুধু একটি প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর তাকে মনোভ্যালেন্ট এন্টিভেনম বলে।

পলিভ্যালেন্ট এন্টিভেনম/এন্টিভেনাম

যে এন্টিভেনম একাধিক প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর তাকে পলিভ্যালেন্ট এন্টিভেনম বলে।

এন্টিভেনম/ এন্টিভেনাম কিভাবে তৈরি হয়?

এন্টিভেনম/ এন্টিভেনাম/এন্টিভেনিন উৎপাদনের মূলনীতি

মানুষের শরীরে কোন রোগ জীবাণু প্রবেশ করলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে।এই এন্টিবডিগুলো দেহে প্রবেশকারী জীবাণুকে আক্রমণ করে এবং মেরে ফেলে।

বিষ ও এন্টিভেনম
বিষ ও এন্টিভেনম

সাপের বিষ দেহে প্রবেশ করলে দেহে বিষের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি হয় ফলে বিষ ধ্বংস হয়।সাপের বিষের বিরুদ্ধে উৎপন্ন এই এন্টিবডিগুলো এন্টিভেনম নামে পরিচিত।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য; সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে বিষের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করার ক্ষমতা মানুষের দেহে খুবই অল্প মাত্রায় বিদ্যমান।

অর্থাৎ মানুষের দেহে খুব ধিরে অতি স্বল্প সংখ্যক এন্টিবডি তৈরি হয় এটা সাপের সব বিষকে একেবারে ধ্বংস করতে পারে না তাই মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়।পৃথিবীতে খুব অল্প সংখ্যক প্রাণী নিজের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে সাপের বিষ প্রতিরোধী এন্টিভেনম তৈরি করতে পারে।

যেমনঃ গাধা, ভেড়া, ছাগল, খরগোশ, বেজি, মুরগী, উট, ঘোড়া, হাঙ্গর ইত্যাদি। এসব প্রাণিকে সাপের কামড় খাওয়ালে এদের দেহে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর এন্টিভেনম তৈরি হয়। এদের রক্ত সংগ্রহ করে এন্টিভেনম আলাদা করা হয় এবং বোতলজাত করে বাজারে বিক্রি করা হয়।

বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে এন্টি ভেনম উৎপাদনের জন্য ঘোড়ার রক্ত ব্যাবহার করা হয় সর্বাধিক।

এন্টিভেনম প্রস্তুতপ্রণালী

এন্টিভেনাম বা এন্টিভেনিন প্রস্তুতপ্রণালী

এন্টিভেনম কয়েকটি জটিল ও ধারাবাহিক ধাপের মাধ্যমে তৈরি করা হয়।এন্টিভেনম প্রস্তুতির ধাপগুলো
ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হলো।

ধাপ-১-বিষাক্ত সাপের ভেনম বা বিষ সংগ্রহ করা

যে সাপের বিষের এন্টি ভেনম তৈরি করতে হবে প্রথমে সেই সাপের বিষ সংগ্রহ করা হয়।প্রত্যেক সাপের বিষ আলাদা ধরনের তাই এক সাপের বিষের এন্টি ভেনম অন্য সাপের বিষ ধ্বংস করতে পারেনা।

বিষ সংগ্রহ
বিষ সংগ্রহ

একটি কাচের পাত্রের মুখে নরম কিন্তু স্থিতিস্থাপক পলিথিন কাগজ ভালোকরে আটকে নেয়া হয়। এবার সাপের মাথা ভালোকরে ধরে চাপ দিলে সাপ কামড় দেয়ার জন্য দাঁত বের করে।পলিথিন কাগজে সাপের দাঁত ঢুকিয়ে দিলে ফোঁটায় ফোঁটায় সাপের বিষ ঝরে পড়ে এবং কাচের পাত্রে জড়ো হয়।

একই সাপ হতে পূর্ণ পরিমানে বিষ পাওয়ার জন্য এক সপ্তাহ বিরতি দিতে হয়। অর্থাৎ এদের বিষথলী পূর্ণ হতে এক সপ্তাহ সময় লাগে। সাপের বিষ সংগ্রহ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।এসময় সাপের কামড় খাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

জংলী সাপের বিষ থেকেই পূর্বে বিষ সংগ্রহ করা হত। কিন্তু ব্যাপক চাহিদার কারনে বর্তমানে বিভিন্ন দেশে সাপ পোষা হয়।বিষ সংগ্রহের জন্য সাপের খামার গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দেশে।

ধাপ-২- ভেনম বা বিষ ফ্রিজিং করা

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জমিয়ে ফেললে বিষ থেকে জলীয় অংশ আলাদা হয়ে যায় এবং সাপের বিষ গুড়ো পাউডারে রূপান্তরিত হয়। একটি সাপ থেকে খুব অল্প পরিমান পাউডার পাওয়া যায়।সাপের বিষের গুড়ো সোনার চেয়ে মূল্যবান।১গ্রাম সোনার দাম ৪০-৪৫ ডলার কিন্তু ১গ্রাম শুষ্ক সাপের বিষের দাম প্রায় ৩৫০ডলার।

ধাপ-৩- ঘোড়ার শরীরে বিষ প্রয়োগ ও এন্টি ভেনম উৎপাদন

সাপের কামড়ে কখনোই ঘোড়া মড়ে না; তা একটি সাপ কামড়াক কিংবা ১০ টি সাপ।খামারে ঘোড়াকে পূর্বে সংগ্রহ করা সাপের বিষ ইনজেকশনের মাধ্যমে ধমনীতে প্রবেশ করানো হয়। এত ঘোড়া মড়ে না বরং ঘোড়ার শরীরে এন্টি ভেনম উৎপাদন শুরু হয়ে যায়।

ঘোাড়ার দেহে বিষ প্রবেশ করানো
ঘোাড়ার দেহে বিষ প্রবেশ করানো

প্রায় ৩ দিন ঘোড়াটি অসুস্থ থাকে।৩-৪ দিন পর ঘোড়াটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। এবার ঘোড়ার শরীরের সমস্ত বিষ নষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং প্রচুর এন্টিভেনম তৈরি হয়েছে।এখন এই ঘোড়াকে একই প্রজাতির অন্য কোন সাপ কামড় দিলে তার শরীরে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না।

ধাপ-৪-ঘোড়ার রক্ত থেকে এন্টিভেনম আলাদাকরন

ঘোড়ার শরীর থেকে রক্ত নিয়ে রক্ত কণিকা এবং রক্তরস আলাদা করা হয়। রক্তরস থেকে অ্যান্টিভেনাম আলাদা করা হয়।গড়ে প্রতি ঘোড়া থেকে প্রায় ৬ লিটার রক্ত নেয়া হলেও ঘোড়ার তেমন ক্ষতি হয়না।

ঘোড়ার রক্ত সংগ্রহ
ঘোড়ার রক্ত সংগ্রহ

ধাপ-৫-এন্টিভেনম বিশুদ্ধ করণ

ঘোড়ার রক্ত থেকে সংগৃহীত এন্টিভেনম ল্যবরেটরিতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে জটিল প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা হয়।এখন এই এন্টি ভেনমের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে শিশিতে ভড়ে বাজারে সরবরাহ করা হয়।এন্টি ভেনম সবসময় প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সংরক্ষণ করতে হয়।

এন্টিভেনম বিশুদ্ধকরণ
এন্টিভেনম বিশুদ্ধকরণ

এন্টিভেনম এর দাম

এন্টি ভেনমের প্রতি ফাইলের দাম প্রায় ১০০০ টাকা।বাংলাদেশে প্রাপ্ত সকল এন্টিভেনম ভারত থেকে আমদানি করা হয়। তবে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশেই এন্টিভেনম প্রস্তুত করা হবে। সাধারণত একজন সাপেকাটা রোগির জন্য ৫-১০টি এন্টিভেনম এর ভায়াল প্রয়োজন হয় তবে জটিল অবস্থার ক্ষেত্রে ২০ ভায়াল লাগতে পারে।

এন্টিভেনম এর দাম
এন্টিভেনম এর দাম

মানুষের দেহে এন্টিভেনম তৈরিকরণ

নিজের দেহে তৈরি করুন এন্টিভেনম

মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন নিরাপদ মাত্রার সাপের বিষ মানবদেহে প্রবেশ করালে রক্ত রসে বিষের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিকভাবে এন্টিভেনম তৈরি হয়।প্রত্যকদিন নিজের শরীরে নিরাপদ মাত্রার বিষ প্রবেশ করাতে থাকলে একসময় দেহে প্রচুর এন্টিভেনম তৈরি হবে যার দ্বারা ২-৩টি সাপের কামড় অনায়াসে প্রতিহত করা যাবে।

নিজের দেহে এন্টিভেনম প্রস্তুত করা
নিজের দেহে এন্টিভেনম প্রস্তুত করা

এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় মিথরিডেটিসম।আবার এটা ভেবে বসবেন না যে যেকোন সাপ কামড় দিলে আপনি মরবেন না।আপনি যে সাপের বিষ দেহে প্রবেশ করিয়েছেন শুধু সেই সাপের কামড়ে আপনি মরবেন না।অন্য সাপ কামড় দিলে ঠিক মরে যাবেন।

এখন আপনার সামনে এমন এক লোকের নাম বলছি যিনি নিজের দেহে এন্টিভেনম প্রস্তুত করেছিলেন এবং বহু সাপের কামড় খেয়েও দিব্যি বেঁচে ছিলেন।বিখ্যাত লোকটির নাম হলো বিল হাস্ট।

বিল হাস্ট
বিল হাস্ট

১৯১০ সাল, নিউজার্সির পেটারসনে জন্মগ্রহণ করেন বিল হাস্ট।ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট অনুসারে, সারাজীবনে কোবরা, কমন ক্রেইট, রেটল সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৭৩টি মারাত্মক বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পরও বিল হাস্ট এর শরীরে কোনো ধরনের বড় ক্ষতি দেখা দেয়নি।

সাবধানতাঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিষ নিজ দেহে প্রবেশ করাবেন না। মাত্রায় কমবেশি হলে নিশ্চিত মৃত্যু ঘটবে।আবার দেহ বিষ সহ্য করতে না পারলে কিডনি, কলিজা, মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রশ্ন ও উত্তর

মিথরিডেটিসম কি?

পন্টাসের রাজা মিথরিডেটস-6 নিজের দেহে অল্প অল্প বিষ প্রয়োগ করে বিষের বিরুদ্ধে এন্টিভেনম তৈরি করেছিলেন। স্বাভাবিক মাত্রার বিষে মানুষ মারা গেলেও রাজা মিথরিডেটস-6 এর কিছুই হতো না। নিজ দেহে প্রাকৃতিকভাবে এন্টিভেনম তৈরির এই প্রক্রিয়াকে রাজার নাম অনুসারে মিথরিডেটিসম বলে।

pacemaker santo

https://kotokisuojana.com

লেখাটি ভালো লাগলে আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুণ।জ্ঞান বিতরণে সাহায্য করুন। আপনি ভালো লিখতে পারলে এই ওয়েবসাইট এ লেখা পাঠান।লেখা মনোনীত হলে পুরস্কার পাবেন। আপনার মাথায় উদ্ভট কোন প্রশ্ন ঘুরছে কিন্তু উত্তর পাচ্ছেন না। তাহলে দেরি না করে এই পোস্টের নিচে কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন টি লিখুন।উত্তর পাবেন নিশ্চিত।

All photo credit Goes to sutterstock.com

87 / 100